ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে রংতুলির ছোঁয়ায় সাজছে ঠাকুরগাঁও
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের নানা প্রস্তুতি।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিশেষ করে শিল্প-কারখানা স্থাপন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তারা।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। সড়কের পাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়ককে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে চলছে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, “রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে। মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।”
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।”
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জেলার মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ভারী শিল্প-কারখানা স্থাপন, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহরিয়ার কবির রতন বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালীন অল্প সময়ের মধ্যেই ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর কিছু কাজ চলমান রয়েছে।”
তিনি বলেন, “এরপরও ঠাকুরগাঁওয়ের বেকার সমস্যা সমাধানে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, ভারী শিল্প-কারখানা স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।”
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, “রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।”
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ায় এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।
সচেতন নাগরিক মাসুদ হাসান পলাশ বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জনগণ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, তার মাধ্যমে সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কারণ তিনি রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
মাসুদ হাসান পলাশ আরও বলেন, “দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া ও সংগ্রামী মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে স্থানীয়রা তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষের সম্মান হিসেবে দেখছেন।”
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, “রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থায় যাব। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিল্প-কারখানা স্থাপন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
ইএন/এসএ
- কোরবানি ঈদ কত তারিখে ২০২৬ সম্ভাব্য তারিখে নতুন আপডেট
- বরিশালে সন্ধ্যা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়লো হাঙর
- কুষ্টিয়া জেলার সকল গ্রামের নামের তালিকা
- বাংলাদেশে ঈদ কবে ২০২৬ সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০২৩ ফলাফল : নৌকা ৮৭৭৫৩, হাতপাখা ৩৪৩৪৫
- প্রেমের টানে বরিশালে, ‘দেশি প্রেমিকের’ হাতে মার খেয়ে পালালেন ভারতীয় প্রেমকান্ত
- কুড়িয়ে পাওয়া পাঁচ লক্ষ টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজতে এলাকায় মাইকিং
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা স্বপ্ন-সোহাগী ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব
- দেলোয়ার হোসেন সাঈদী মারা গেছেন
- নির্বাচন ফলাফল লাইভ ২০২৪ | BD election result 2024
























