ঢাকা, শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

জুবেদ আহমেদ

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ৭ মে ২০২০
আপডেট: ২২:৫৩, ৭ মে ২০২০

কিভাবে এবং কতটুকু সফল ‍সিঙ্গাপুর?

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ সিঙ্গাপুরে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৮ হাজার জন মানুষ বাস করেন।দেশটিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় আর জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে গেলে করোনায় আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য কিংবা ইত্যালিকে পিছনে ফেলে সামনের সারিতে অবস্থান করার কথা ছিল সিঙ্গাপুরের।

কিন্তু কেন তা হলো না?

মূলত সিঙ্গাপুর সরকারের পূর্ব প্রস্তুতি, ত্বরিত সিদ্ধান্ত এবং কঠোর অবস্থানই ছিল এর কারণ।সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে মূলত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীনের গুয়াংজি শহর থেকে আসা ২০ সদস্যের একদল চীনা পর্যটকদের মাধ্যমে।এই পর্যটকরা অন্যান্য স্থান বাদেও 'ইয়ং থাই হাং 'নামক একটি চাইনিজ ওষুধের দোকানেও ভীড় জমিয়েছিলেন।৪ ফেব্রুয়ারী ওই ওষুধের দোকান থেকে প্রথম ২ জন ব্যক্তি করোনায় সংক্রমিত হন।পরে জানা যায়,দোকানটি থেকে বিক্রয়কর্মী,তার স্বামী,৬ মাস বয়সী সন্তান,তার গৃহকর্মী এবং ট্যুরগাইডসহ মোট ৯ জন ব্যক্তি সংক্রমণের শিকার হন।

এরপরই করোনার বিস্তার ঠেকাতে সিঙ্গাপুর সরকারের নির্দেশে দ্রুত ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসার’ নামে একটি গোয়েন্দা দল গঠন করা হয়।যখনই কোনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে,গোয়েন্দারা প্রথমেই তাকে রীতিমতো জেরা করতে থাকেন।এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির ক্রেডিট কার্ড,স্মার্ট ফোন,স্মার্ট ওয়াচ ইত্যাদি ট্রেস করতেন।

তাদের কাজই হলো যেভাবেই হোক সেই করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি গত সাতদিনে কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কার কার সানিধ্যে ছিলেন এবং কোথায় কি ব্যবহার করেছিলেন সেসব সম্পর্কে নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।পুলিশের ক্রিমিনাল ইন্টভেস্টিগেটিভ ডিপার্টমেন্ট,ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস নারকোটিকস ব্যুরোর বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ 'কন্ট্যাক্ট ট্রেসার'কে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে এ কাজে সম্পৃক্ত হয়।এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন ব্যবহার করে সম্ভাব্য ঐসব ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হয়।তথ্য সংগ্রহের সাথে সাথে যতদ্রুত সম্ভব উক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হতো।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,কোনো একজন ব্যক্তি গতকাল একটি রেস্তোরাঁয় বন্ধুদের নিয়ে খাবার খেয়েছিলেন।বাসায় ফেরার সময় পথিমধ্যে একটি ফার্মেসী থেকে তিনি কিছু ওষুধ কিনেছিলেন।আজ হঠাৎ তার মুঠোফোনে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে কল আসলো।কল রিসিভ করতেই 'কন্ট্যাক্ট ট্রেসার'এর পরিচয় দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে,গতকাল তিনি বিকেল ৫ টায় 'ইয়ং থাই হাং' নামের কোনো ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনেছিলেন কিনা।উত্তরে ব্যক্তিটি হ্যাঁ বলতেই তাকে জানানো হয় তিনি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন এবং এক্ষুনি নিজ বাসায় দুই সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।এরমধ্যেই দুজন ব্যক্তি তার বাসায় এসে তাকে একটি কন্ট্রাক্ট পেপার দিয়ে যান। যেটি ছিল একটি কোয়ারেন্টাইন অর্ডার এবং এতে লিখা ছিল,'আজকে থেকে আপনার বাড়ির বাহিরে বের হওয়া নিষেধ। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ১০০০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হবে।’

এতো এতো প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেয়ার পরেও সিঙ্গাপুর সরকার কি দেশটিতে করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া এড়াতে পেরেছে?

এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২০৯৩৯ জন এবং মৃতের ২০ জন।কিন্তু বাস্তব চিত্রটা হতে পারতো যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য কিংবা ইতালির চেয়েও ভয়াবহ।এতোটাই যে,হয়তো আমাদের কল্পনাকেও হার মানিয়ে দিতো।সিঙ্গাপুর সরকারের এই অতিমাত্রার সাবধানতাই দেশটির জনগণের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে।

 

 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়