ঢাকা, শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

প্রকাশিত: ২০:৩০, ৮ মে ২০২০

আক্ষেপ ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর

‘শুনতে পাননি কেউ, চিৎকার করেও বাঁচাতে পারলাম না কাউকে’ 

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ক্রমশই ধেয়ে আসছে মালবাহী ট্রেন। এদিকে তখনো রেললাইনে অঘোরে ঘুমিয়ে চলেছেন সহকর্মীরা। তীব্র কণ্ঠে চিৎকার করেছেন। ‘ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে পড়ো, নইলে বিপদ অনিবার্য’ বলেছেন তিনি। কিন্তু ঘুমের মাঝে সেকথা শুনতে পাননি কেউ। তাই তো ট্রেনের চাকাতেই পিষে যান ১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক। 

চোখের সামনে নিমেষে রক্তারক্তি কাণ্ড। ট্রেনের ধাক্কায় সহকর্মীদের এমন মৃত্যু মানতে পারছেন না ঔরঙ্গাবাদের মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের সহকর্মী। ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তিনি।

ঘড়িতে সময় তখন ভোর ৫টা ১৫ মিনিট। ভারতের মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদের জালনা রেললাইন দিয়ে আসছিল একটি মালবাহী ট্রেন। কাড়মড গ্রামের কাছে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রেললাইনের উপরে ঘুমন্ত মানুষজনকে সজোরে ধাক্কা দেয় ট্রেনটি। তাতেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। ছিন্নভিন্ন হয়ে দেহগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে রেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওরা রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। ক্লান্ত হয়ে লাইনের উপরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সাউথ-সেন্ট্রাল রেলওয়ে সূত্রে খবর, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন পাঁচজন। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে আওরঙ্গবাদের সরকারি হাসপাতালে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাতে বেঁচে যান ইন্দারলাল ধুরভে, বীরেন্দ্র সিং গৌর, শিবমান সিং গৌর এবং সজ্জন গৌর। তারা বলেন, আমরা হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলাম। কাড়মড গ্রামের কাছে রেললাইনে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। আচমকা মালগাড়ি চলে আসে কাছে। ঘুম ভেঙে যায়। রেললাইন থেকে সরে যাই। বাকিদের ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ওরা উঠল না। পরিবর্তে ওদের গায়ের উপর দিয়ে চলে গেল মালগাড়ি। 

কিছুতেই এই ঘটনার কথা মানতে পারছে না সহকর্মীরা। কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন সদ্য সহকর্মী হারা পরিযায়ী শ্রমিকেরা।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়