ঢাকা, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:০২, ২৭ মে ২০২০

ভারতে শুরু হয়েছে পঙ্গপাল ঠেকানোর লড়াই

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই প্রতিবেশি পাকিস্তানের পর পঙ্গপালের বিশাল এক ঝাঁক ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় আক্রমণ চালিয়েছে।

পশ্চিম ভারতের ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি মরু এলাকায় ২৪টির বেশি জেলায় আক্রমণ চালিয়েছে।তাদের আক্রমণের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাট।ক্ষুদ্র আকারের এই পোকার বিশাল বাহিনী ব্যাপকভাবে ফসল ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।

পঙ্গপালের ঝাঁকটা পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢুকেছে ৩০শে এপ্রিল নাগাদ। তারা রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের ৫টি জেলায় এই মুহূর্তে ফসল ধ্বংস করছে। এক বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে থাকে ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) পর্যন্ত পতঙ্গ।সেখানকার কর্মকর্তারা বলছেন,কখনও কখনও তারা একদিনে ৪০০ কিলোমিটার (২৪৮ মাইল) পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে।

প্রতিবেশি পাকিস্তান ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল।তারা বলেছিল দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সেটা ছিল সবার্ধিক সংখ্যক পঙ্গপালের ঝাঁক।

স্থানীয় রিপোর্টগুলোতে বলা হচ্ছে কৃষকদের ''প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পঙ্গপাল মহামারির'' মোকাবেলা করতে হচ্ছে।এবং এই মরু পঙ্গপাল বাহিনী ফসল ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে ফেলছে, যার ফলে খাদ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে।পাকিস্তানের প্রায় ৩৮ শতাংশ জুড়ে রয়েছে বেলুচিস্তান,সিন্ধু এবং পাঞ্জাব প্রদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একটি প্রতিবেদন বলছে,ওই এলাকাই এই প্রজাতির পঙ্গপালের ''বংশবৃদ্ধির মূল ক্ষেত্র''।

দুই পারমাণবিক শক্তিধর বৈরি দেশের মধ্যে সম্পর্ক কয়েক বছর ধরে শীতল।কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন তার পরেও এই অভিবাসী পঙ্গপালের হামলা মোকাবেলায় ভারত ও পাকিস্তান একযোগে কাজ করছে।দু্ই দেশের মধ্যে স্কাইপের মাধ্যমে নয়টি বৈঠক হয়েছে এপ্রিলের মাসের পর থেকে। ওই বৈঠকে আফগানিস্তান এবং ইরানের উদ্ভিদ সুরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারাও যোগ দেন বলে ভারতের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন।

কোভিড নাইনটিন মহামারি শুরুর আগে দুই পক্ষ সীমান্তে সামনাসামনি বৈঠক করেছে। ২০১৭-১৮-তে পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণে তারা সীমান্তে পাঁচটি বৈঠক করেছিল।

''আমরা সীমান্তের ওপার থেকে বড়ধরনের পঙ্গপাল আক্রমণ ঠেকাতে লড়ছি।প্রায় তিন দশকের মধ্যে এতবড় আক্রমণ হয়নি।এই পঙ্গপালের ঝাঁক খুবই বিশাল। নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই এবার তারা বংশবিস্তার করেছে এবং সীমান্ত পার হয়ে চলে এসেছে,'' বলছেন ভারতের পঙ্গপাল সতর্কীকরণ সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টার কে এল গুর্জার।

গত কয়েক বছরে ভারতকে বেশ কয়েকবারই পঙ্গপাল হামলার মোকাবেলা করতে হয়েছে।১৯৬৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে পঙ্গপালের আক্রমণে শস্যের মড়ক ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির ২৫টি রেকর্ড রয়েছে।

বেশ কয়েকবার পরপর পঙ্গপালের ঝাঁক হামলা চালানোর পর ১৯৩৯ সালে ঔপনিবেশিক শাসকরা করাচিতে পঙ্গপাল সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।১৯৪৬ সালে ভারত তাদের পৃথক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলে।

সূত্র: বিবিসি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়