ঢাকা, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২০, ৬ জুন ২০২০
আপডেট: ০০:৩২, ৬ জুন ২০২০

`পৃথিবী জেগে উঠেছে এবং পরিবর্তন আসবেই’-গ্রেটা থুনবার্গ”

পৃথিবী জেগে উঠেছে এবং পরিবর্তন আসবেই,আপনার ভালো লাগুক আর নাই লাগুক।

২০০৩ সালের ৩ জানুয়ারি সুইডেনের স্টকহোমে জন্মগ্রহণ করেন গ্রেটা থুনবার্গ। মাত্র ৮ বছর বয়সে গ্রেটা প্রথম জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে পারেন। এরপরই তিনি পরিবারের সবাইকে কার্বন নির্গমন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে আহবান করেন। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে হঠাৎই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন গ্রেটা। তারপর প্ল্যাকার্ড হাতে একাই  সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে এসে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, সেজন্য প্রতিবাদ।

এভাবেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অবিলম্বে কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। টানা তিন সপ্তাহ সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে ছিলেন গ্রেটা। তিনি তার কর্মকাণ্ডের কথা ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে পোস্ট করেন, এবং তখন থেকেই ক্রমান্বয়ে জনমত তৈরি করতে থাকেন।

এরপর, সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ঘোষণা দেন প্রতি শুক্রবার তিনি সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, যতদিন পর্যন্ত না তারা তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার ব্যাপার অঙ্গীকার দেয়। উল্লেখ্য, তার এই প্রস্তাবের সাথে ফ্রান্সের প্যারিস চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত গ্রেটার সবচেয়ে বড় আন্দোলনটি হয়েছে ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ, শুক্রবার। এই আন্দোলনের নাম রাখা হয়েছে ‘ফ্রাইডেস ফর দ্য ফিউচার’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ‘ফ্রাইডেস ফর দ্য ফিউচার’ ট্রেন্ডের মাধ্যমে স্কুলগুলোতে বিক্ষোভের আয়োজন করেন। এদিন তার ডাকে সাড়া দিয়ে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম,  ফ্রান্স, জাপানসহ ১০৫টি দেশের ১,৬৫৯টি স্থানে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও মিছিল করেছে।

গ্রেটার ডাকা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলো। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের পড়া বাদ দিয়ে রাস্তায় নামবে, এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলো না রক্ষণশীল অনেক মানুষই। তবে কেউ কেউ আবার এটিকে কেবল নৈতিকই নয়, সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলেও মনে করছিলো। তাদের মতে, বর্তমানে অবস্থা যতটা সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে, তাতে এ ধরনের আন্দোলনের প্রয়োজন আছে।

এ বিষয়ে দ্য কনভার্সেশনে দার্শনিক রুপার্ট রিড লিখেছিলেন,‘বিষয়টি যখন জলবায়ু পরিবর্তন, আমাদের প্রাপ্তবয়স্কদের এখন বোঝা দরকার যে আমাদের এখন আর সেই অবস্থা নেই যে বাচ্চাদেরকে বলব তাদের কী করা উচিত বা উচিত না। আমাদের এই আন্দোলনে এ কারণেই সমর্থন জানানো উচিত যে, এতদিন আমাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এখন আমরা এ ব্যাপারে কিছু বলবার মতো নৈতিক অধিকার হারিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনের ২০১৮ সালের সবচেয়ে প্রভাবশালী কিশোর-কিশোরীদেরও একজন নির্বাচিত হন।জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন সৃষ্টি করা গ্রেটা টাইম ম্যাগাজিনের ২০১৯ সালের ‘পারসন অফ দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছন।

গত বছর জাতিসংঘ আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনেও তিনি এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা করছিলেন।

গ্রেটা বলছিলেন, আগামী এক দশকেই পৃথিবীর ভবিষ্যত নির্ধারণ হয়ে যাবে। সুতরাং বিশ্ব নেতাদের উচিত গালভরা কথামালা বাদ দিয়ে বাস্তব কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

গ্রেটাকে পারসন অফ দ্য ইয়ার ঘোষণার সময় টাইম ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক এডওয়ার্ড ফেলসেনথাল বলেন, ‘চলতি বছরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইস্যুতে সবচেয়ে বড় স্বর হয় উঠেছেন গ্রেটা। একেবারে শুন্য থেকে তিনি একটি বৈশ্বিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন।’

টাইটানিকখ্যাত অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও তাকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘মানবজাতির ইতিহাসে এমন সময় খুব কম এসেছে, যখন আওয়াজ এত কেন্দ্রীয়ভাবে ও রূপান্তরমূলক পদ্ধতিতে বিস্তৃত হয়েছে। গ্রেটা থানবার্গ আমাদের সময়ের নেতা হয়ে এসেছেন’।

 

জেএ/আই নিউজ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়