ঢাকা, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৩০, ১৫ জুন ২০২০
আপডেট: ০১:৩৬, ১৫ জুন ২০২০

আবারও কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা আমেরিকায়, আটলান্টায় বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করা কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে নিয়ে গত দু’সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভে টালমাটাল গোটা আমেরিকা। সেই পরিস্থিতিতেই আবারও মার্কিন পুলিশের হাতে মৃত্যু হলো আরেক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের।

শুক্রবার রাতে স্থানীয় সময় সাড়ে ১০টা নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব আটলান্টায় ওয়েন্ডিজ নামে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরার সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রেস্তোরার সামনে গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ২৭ বছরের রেশার্ড ব্রুকস। রেস্তোরার সামনে রাস্তায় এমন ভাবে তার গাড়িটি দাঁড়িয়েছিল, যাতে অন্য গাড়ির যাতায়াত সমস্যা হচ্ছিল। পুলিশকে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান রেস্তোরার এক কর্মী।

ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে ব্রুকস এবং ওই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে অবশ করার অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেন ব্রুকস। সেটি নিয়ে পালাতে গেলে তাঁকে তাড়া করেন দুই পুলিশকর্মী। সেইসময় ঘুরে তাদের দিকে ওই অবশ করার অস্ত্রটি তাক করেন ব্রুকস। তাতেই তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর তিন বার গুলি ছোড়ে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ব্রুকস। তড়িঘড়ি করে আটলান্টা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ব্রুকসের সঙ্গে দুই পুলিশ সদস্যদের ধস্তাধস্তি করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের হাত ছেড়ে পালাতেও দেখা গিয়েছে ব্রুকসকে। তাতে তাঁকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি ছোড়ার শব্দও কানে এসেছে।

ব্রুকস পুলিশের দিকে টেজার তাক করলেও, তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া পুলিশের উচিত হয়নি বলে জানিয়েছেন আটলান্টার মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও তাঁদের নাম ও পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আটলান্টার পুলিশ প্রধান এরিকা শিল্ডস এই ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে এসেছেন রোডনি ব্রায়ান্ট। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হওয়া উচিত বলে দাবি তুলেছেন ব্রুকসের পারিবারিক আইনজীবী ক্রিস স্টুয়ার্ট।

চার সন্তানের বাবা ব্রুকস গত শুক্রবারই আট বছরের মেয়ের জন্মদিন পালন করেন তিনি। গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ কী করতে পারে আর তাদের কী করা উচিত, দুইয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করা উচিত হয়নি পুলিশের।’’

তবে মেয়র বটমস পুলিশের তীব্র সমালোচনা করলেও, বিক্ষোভ ঠেকানো যায়নি। শনিবার দিন ভর আটলান্টার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে শামিল হন হাজার হাজার মানুষ। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের হটাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।

রাতের দিকে বিক্ষোভ মারাত্মক আকার ধারণ করে। যে রেস্কোরা থেকে ব্রুকসকে নিয়ে থানায় ফোন করে অভিযোগ জানানো হয়েছিল, সেখানে চড়াও হয় বিক্ষোভকারীদের একটি দল। ভাঙচুরের পর রেস্তোরায় আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। তবে এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

জেএ/আই নিউজ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়