ঢাকা, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৪৫, ১৯ জুন ২০২০
আপডেট: ০১:৫২, ১৯ জুন ২০২০

আবার ক্ষমতায় আসতে চীনের সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প: জন বল্টন

বিতর্ক আর ট্রাম্প যেন সমার্থক। পদে পদে বিতর্কিত পদক্ষেপ আর হাস্যকর সব মন্তব্যে মাতিয়ে রাখেন বিশ্বমঞ্চ। এবার আরেকটি বিতর্কিত পদক্ষেপের কথা ফাঁস করলেন তাঁরই সাবেক এক আমলা। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিয়ের সাহায্য চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমনটাই দাবী করেছেন ট্রাম্পের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন।

শি জিংপিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, বেইজিং আরও বেশি পরিমাণে মার্কিন কৃষি পণ্য কিনলে তাঁর দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসতে সুবিধা হয়। তাঁর প্রকাশিতব্য বই দ্য রুম ‘হোয়ার ইট হ্যাপেন্ড’-এ উক্ত দাবী করেন বন্টন। মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই খবর দিয়েছে। বল্টনই ট্রাম্প জমানার হোয়াইট হাউসে প্রবীণতম একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি নির্দ্বিধায় তাঁর বইয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।

ওদিকে সরকারি তথ্যাদি গোপন রাখার বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বল্টনের বই প্রকাশ আটকে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা আগামী সপ্তাহেই।

মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ওই বইয়ে বল্টন লিখেছেন, গত বছর ওসাকায় জি-২০ জোটের দেশগুলির বৈঠকের ফাঁকে আলাদা ভাবে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মুখোমুখি বসেছিলেন ট্রাম্প। সেই সময়েই ট্রাম্প বার বার শি জিংপিংকে বলেন, তাঁকে ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য চীন সাহায্য করুক। আরও বেশি করে মার্কিন কৃষি-পণ্য কিনুক।

বল্টন লিখেছেন, “সে দিন বোঝা যায়নি জাতীয় স্বার্থ নাকি নিজের স্বার্থ, কোনটা ট্রাম্পের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউসে থাকার সময় আমি ট্রাম্পকে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে দেখিনি যাতে তাঁর ক্ষমতায় ফিরে আসার পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটে।’’

খবর, বইটির প্রকাশ বন্ধ করার জন্য যাতে নির্দেশ দেওয়া হয়, সে জন্য বুধবার ওয়াশিংটনের ফেডারেল জজের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু বইটির একটি কপি হাতে এসে যাওয়ায় ট্রাম্প সম্পর্কে বল্টনের বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে খবর বেরিয়েছে আরও দুটি মার্কিন দৈনিক ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এবং ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ।  

বুধবার রাতেই ফক্স নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “সোজা কথায়, বল্টন আইন ভেঙেছেন। যত রকম ভাবে আইন ভাঙা যায়। ওকে যখন প্রশাসনে এনেছিলাম তখন কেউই তো ওকে চিনতেন না।’’

তবে বল্টনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেলি ম্যাকানি বলছেন, “সরকারি যে সব তথ্য গোপন রাখা উচিত, বইটি সেই সব তথ্যেই ভরা।’’

বল্টন তাঁর বইয়ে লিখেছেন, “ট্রাম্পের প্রশাসন কোনও নীতি বা  মতাদর্শে চলে না। চলে না কোনও মহৎ কৌশলেও। সেটা চলে শুধুই ট্রাম্পের মর্জিমাফিক।’’

বুধবার অবশ্য সিনেটে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথাইজার বল্টনের অভিযোগকে ‘একেবারেই অসত্য’ বলেছেন।

জেএ/আই নিউজ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়