ঢাকা, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

বিশ্ব

প্রকাশিত: ২৩:২৭, ১৯ জুন ২০২০

চীন-ভারত সেনাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কেন গুলির ব্যবহার হয়নি?

এশিয়ার দুই পারমানবিক শক্তিধর দেশ চীন ও ভারতের সামরিক বাহিনী অস্ত্রশস্ত্রের দিক থেকে যথেষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও কোনো ধরণের গোলাগুলি ছাড়াই এ দুটি দেশের সীমান্তে ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষটি ঘটে গত সোমবার।

পাথর এবং রড দিয়ে দু'পক্ষের মারামারিতে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোও দাবি করে, রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে চীনের ৪৩ সেনার মৃত্যু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনো মুখ খোলেনি চীন।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, দুই পক্ষের সেনারা যে উঁচু শৈল-প্রবাহের ওপর দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেছেন, সেখান থেকে কেউ কেউ পিছলে খরস্রোতা গালওয়ান নদীতে পড়ে মারা যান। এই নদীতে পানির তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে।

ভারত এবং চীনের তিন হাজার ৪৪০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে প্রতিবেশী এই দুই দেশের বিবাদের ইতিহাস এবং পাল্টাপাল্টি সীমানা লংঘনের অভিযোগ বেশ পুরনো।

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়। দু'দেশের সীমান্ত সংকট না মিটলেও গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো পক্ষকেই গুলি চালাতে দেখা যায়নি।  

চীন-ভারত সীমান্তে অরুণাচল প্রদেশের টুলুং লায় শেষবার ১৯৭৫ সালে মৃত্যু হয়েছিল ৪ ভারতীয় টহল সেনার। তারপর এবার লাদাখে।

১৯৯৬ সালে এই দুই পক্ষের মধ্যে করা একটি চুক্তি অনুযায়ী, উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে বিতর্কিত এই সীমান্ত এলাকায় কোনো পক্ষই গুলি বা বিস্ফোরক ব্যবহার করতে পারবে না। 

ওই চুক্তিতে বলা হয়, "লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোনো পক্ষই গুলি ছুড়তে পারবে না.. গুলি বা বিস্ফোরক নিয়ে কোনো ধরণের অপারেশন বা শিকারেও যেতে পারবে না।"

গুলির ব্যবহার না করলেও লাদাখের গালওয়ান নদী ঘেঁষা উপত্যকায় সোমবার রাতের এই সংঘর্ষে চীনা সেনারা লোহার রডের ওপর পেরেক বসানো এক ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনারা।

বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অজয় শুক্লা নামে ভারতীয় এক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ওই অস্ত্রের ছবি টুইটারে দিয়েছেন। শুক্লা দাবি করেন, এই ধরণের অস্ত্রের ব্যবহার 'বর্বরতা'। 

এই অস্ত্রের ছবিটি ইতোমধ্যেই টুইটারে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় নেটিজেনরাও এই ছবি দেখে ক্ষেপেছেন। তবে এ বিষয়ে ভারত বা চীনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  

সাম্প্রতিক সময়ে এই দুইদেশের সীমান্তেই উত্তেজনা বেড়ে যায়। গত মাসে লাদাখের পানগং লেক সীমান্ত এলাকায় এবং সিকিম থেকে শতমাইল পূর্বের একটি সীমান্ত এলাকায় সরাসরি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশের সেনারা।

ভারত অভিযোগ করে আসছে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীন কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়ে তাদের ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে। এসব বিষয়ে গত তিন দশক ধরে প্রতিবেশি এই দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হলেও সংকটের সমাধান হয়নি।
 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়