ঢাকা, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৫, ২১ জুন ২০২০
আপডেট: ২১:১৭, ২১ জুন ২০২০

করোনা আক্রান্তদের শরীরে অ্যান্টিবডি টিকে থাকে দুই থেকে তিন মাস

এক গবেষণায় দেখা গেছে করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পর দেহে অ্যান্টিবডি টিকে থাকছে মাত্র দুই থেকে তিন মাস। বিশেষ করে উপসর্গহীন আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

করোনার রিকভারি ট্রায়াল, ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ, সেরোলজিক্যাল সার্ভের সমীক্ষা অনুসারে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় রোগীর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল।

চলমান করোনাভাইরাসের মহামারিতেও সেরে ওঠাদের অনেকের দেহে 'অ্যান্টিবডি' তৈরি হয়েছে। কিন্তু উপসর্গযুক্ত এবং উপসর্গহীন করোনায় আক্রান্তের শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এই অ্যান্টিবডি ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে নাই হয়ে যেতে পারে। এতে পুনরায় আক্তান্ত হওয়া এবং করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা আবিষ্কারের যে সব বৈশ্বিক গবেষণা চলছে, তা এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। 

ন্যাচার মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্যটি উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চীনের চংকিং প্রদেশের ওয়াঝু জেলায় করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ৩৭ জনের দেহের অ্যান্টিবডির মাত্রা গবেষকরা পরিমাপ করেছেন। এতে দেখা গেছে উপসর্গহীন আক্রান্তদের দেহে অ্যান্টিবডি খুব কম সময় স্থায়ী হচ্ছে। সংক্রমিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এদের রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ ৪০ শতাংশ কমে যাচ্ছে।

সে তুলনায় লক্ষণযুক্ত আক্রান্তদের অ্যান্টিবডি কমছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। চার সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গহীনদের ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং লক্ষণযুক্তদের ৬২ দশমিক ২ শতাংশ অ্যান্টিবডি কমে যাচ্ছে।

গবেষণার ভিত্তিতে চীনা বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, উপসর্গহীন ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক দুর্বল। সেই তুলনায় উপসর্গ নিয়ে যারা করোনা থেকে সুস্থ হচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে এটা অনেকদিন ধরে কাজ করে। 

এক গবেষণায় জানা গিয়েছিল যে উপসর্গযুক্ত রোগীরা সুস্থ হলে তাদের দেহে কোভিড-১৯ প্রতিরোধী প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তবে উপসর্গহীন করোনামুক্তদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে সাম্প্রতিক গবেষণাটি উল্লেখযোগ্য এক পদক্ষেপ। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদের দেহে জন্মালেও তার স্থায়িত্ব খুবই কম।

অবশ্য তার মানে এই নয় যে, সুস্থ হওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত রোগী ফের ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন। তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেহে গড়ে না উঠলে ভাইরাস কখনও নিষ্ক্রিয় হবে না।  

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়