নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১১:৪১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
রামুতে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে হামলার নয় বছর: এখনো বিচার শেষ হয়নি
এক সময় দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ ছিলো রামু। তবে নয় বছর আগে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে এ ঘটনার অভিযোগ অঠে। আজ এ ঘটনার ৯ বছর পেরুলো, এখনও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কাটেনি ধোয়াশা।।
ঘটনার শুরু হয় উত্তম বড়ুয়া নামে এক বৌদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে। ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া ও টেকনাফের বৌদ্ধ বিহার, বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগে ১৯ বৌদ্ধ বিহার, ৪১ বসতঘর পুড়িয়ে দেয় দূর্বৃত্তরা। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় আরো ৬টি বৌদ্ধ বিহার সহ অর্ধশত বৌদ্ধ বসতঘরে। এতে কয়েক শত বছরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পুড়ে যায়। ঘটনার পরপরই পোড়া মন্দিরে তৈরী হয়েছে নান্দনিক স্থাপনা।
এ ঘটনার পর ৮ অক্টোবর রামু পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুনর্নির্মাণ করে দেন ক্ষতিগ্রস্ত বিহার ও ঘরবাড়ি। রামু, উখিয়া ও টেকনাফে সহিংসতার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৩৭৮ জনসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ৯৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
এ ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হলেও নয় বছর পরও শেষ হয়নি বিচার। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি. পি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম এ বিষয়ে জানান, সাক্ষীর অভাবে এ বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে।
তিনি বলেন, বলেন, বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় সর্বমোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়। তন্মমধ্যে বাদীর সম্মতিতে ১টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। অন্য ১৮টি মামলা আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাক্ষীর সহযোগীতায় বিচারকার্য তরান্বিত হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধদের আক্ষেপ রয়েছে মামলার সাক্ষী নিয়ে। তারা জানাচ্ছেন, মামলার আসামী এবং মামলার সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেয়া হয়ে ছিলো, তাদের নাম যথাযতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এখন যাদের নাম সাক্ষীর তালিকায় আছে, তাদের অনেকেই জানে না সাক্ষীর তালিকায় তাদের নাম রয়েছে।
তবে রামুতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবরকম পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নয় বছরে বৌদ্ধদের মাঝে ফিরেছে সম্প্রীতি। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাশৈলীতে পূণ্যার্থীদের পাশাপাশি বেড়েছে পর্যটক আকর্ষণ। ক্ষতিগ্রস্থরা পেয়েছেন নতুন ঘর। এখনও বিভিন্ন বিহারগুলোতে নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছে পুলিশ বাহিনী। সেনাবাহিনী সহ স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারী রেখেছে সকল বৌদ্ধ বিহারে।
আইনিউজ/এসডি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























