Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২৩ ১৪৩২

আবুল হায়দার তরিক

প্রকাশিত: ১৭:৩২, ১১ জুন ২০২২
আপডেট: ১২:১৩, ১ জুলাই ২০২২

বাংলাদেশ কি নব্য সম্রাজ্যবাদের স্বীকার হচ্ছে?

আবুল হায়দার তরিক।

আবুল হায়দার তরিক।

এক সময় পুথিবীতে উপনিবেশবাদ বিস্তার লাভ করেছিলো। আমরাও দুইশত বছর উপনিবেশিক শাসনের অধীনস্ত ছিলাম। ধীরে ধীরে উপনিবেশবাদের পতন হয়েছে। উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পেতে আমাদের অনেক লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে দিতে হয়েছে অনেক রক্ত। বৃটেন, জার্মান, জাপান, ইতালিসহ কতিপয় রাষ্ট্র উপনিবেশিক শাসনের চলে সারা পৃথিবী শোষণ করেছে।

সেই সময়ের উপনিবেশিক শাসনের হাত থেকে মানুষ মুক্তি পেলেও সম্রাজ্যবাদী বলয় থেকে মুক্তি পায় নি। সৃষ্টি হয়েছে নব্য সম্রাজ্যবাদী বলয়। এই বলয় একটি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নানাভাবে চাপে রেখে সব সময় নিজেদের কর্তৃত্বে রাখতে চায়। ১৯৯১ সালের আগে বিশ্ব রাজনীতি ছিলো দুই মেরু কেন্দ্রিক। যারফলে অনেক দেশ স্বাধীনতা লাভ করতে পেরেছে। 

উদাহরণ স্বরূপ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথাই বলা যাক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ স্বাধীন হোক তা চায় নি। তাদের ইচ্ছে ছিলো বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান হয়েই থাকুক। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে ছিলো আমেরিকা। তার জবাবে তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়ন বর্তমান রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে নবম নৌবহর পাঠিয়েছিলো। রাশিয়ার নবম নৌবহর পাঠানোর খবর পেয়ে সুপার পাওয়ারের সংঘর্ষ লেগে যাওয়ার শঙ্কায় আমেরিকা তাদের সপ্তম নৌবহর ফিরিয়ে নেয়। 

যদি সেই সময় রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান না নিতো এবং আমেরিকার নৌবহর এসে পাকিস্তানের পাক্ষে যুদ্ধ করতো, তাহলে আমাদের দেশ আজও স্বাধীন হতে পারতো না। বিশ্বে আমাদের পাকিস্তানি তকমা নিয়ে চলতে হতো। যে পাকিস্তানে স্বাধীনতা লাভের ৭৫ বছরেও কোন সরকার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারে নি। অর্থনীতি ও জিডিপিতে বাংলাদেশের থেকে অনেক পিছিয়ে। 

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়। বিশ্ব বাজনীতি হয়ে যায় এক মেরু কেন্দ্রিক। আমেরিকা চালিয়ে যায় নব্য সম্রাজ্যবাদী নীতি। যে কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ চালিয়ে যায়। কখনো বন্ধু, কখনো বন্ধু ভেসে শত্রুর ভূমিকায় নিজেদের কর্তৃত্ব চাপিয়ে যাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়শীল দেশগুলোর উপর। এশিয়া ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে তাদের পারমানবিক ওয়ারহেড বসানো রয়েছে। বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে কখনো নিজেরা যুদ্ধে জড়ায়, কখনো যুদ্ধের উসকানি দিয়ে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়।

চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধিন ন্যাটো জোটের বিস্তার ও রাশিয়াকে ন্যাটো জোটে না নিয়ে রাশিয়ার সীমান্তবর্তি রাষ্ট্র গুলোকে (নর্ত আটলান্টিক সামরিক জোট) ন্যাটোতে অন্তরভোক্ত করায় রাশিয়া নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে অবগত করে এবং ন্যাটোর সদস্য বৃদ্ধি করতে নিষেধ করে। কিন্তু আমেরিকা তা আমলে না নিয়ে ন্যাটোর ৭ সদস্য থেকে ৩০ সদস্যে উন্নিত করে। শেষ পর্যন্ত পরিনতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। চলছে ধ্বংস লিলা।

পরবর্তী টার্গেট চীন-থাইওয়ান। ইতি মধ্যে উসকানি দেওয়া শুরু করেছে। থাইওয়ানকে চীনের নিজেদের ভূখন্ড হিসেবে দাবী করছে চীন। অপরদিকে থাইওয়ানকে সহায়তা দেওয়ার কথা বলে সামরিক মহরায় অংশ নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।জবাবে চীনের ৩০ টি যুদ্ধ্ বিমান থাইওয়ানের আকাশসীমায় ডোকে পরে। উসকানির মাত্রা বৃদ্ধি করলে পূর্ব এশিয়াতেও লেগে যেতে পারে যুদ্ধ। 

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। বিশ্বের অন্যতম তেল, গ্যাস ও কৃষি পণ্য রপ্তানি কারক রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর কারণে তেল, গ্যাস ও খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেল, গ্যাস ও খাদ্য দ্রব্যের সংকট তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ইউরোপের তেল ৪০ শতাংশ ও গ্যাস ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে। এই নিষেধাজ্ঞায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপ। তার পরেও আমেরিকাকে খুশি রাখতে নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে আমেরিকা ইরাক, আফগানিস্তান যুদ্ধ থেকে লুটপাট করা তেল গ্যাস চাহিদার তুলনায় অল্প বাজারে ছাড়ছে। তাও উচ্চ মূল্যে। 

এই টালমাটাল বিশ্ব বাজারে উন্নয়নশীল দেশগুলো আমদানি চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কমাতে কিছু কিছু আমদানি কারক পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে অপরিশোধিত তেল আমদানি করার। বাংলাদেশ তা বিবেচনায় রেখেছে। পাশবর্তী রাষ্ট্র ভারত রাশিয়া থেকে কম মূল্যে তেল আমদানি করছে। চীনও রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করছে।

এরকম পরিস্তিতিতে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী বলয় থেকে বেড়িয়ে এসে বাংলাদেশের উচিৎ মেরুদণ্ড শক্ত করে রাশিয়া থেকে ভারতের মত তেল, খাদ্যদ্রব্য ও কৃষিপণ্য সহ প্রয়োজনীয় আমদানি কারক সরঞ্জাম কম দামে আমদানি করা। এতে কারো চোখ রাঙ্গানো দেখে নিজেদের ক্ষতি করার কোন যৌক্তিকতা নেই। মাথায় রাখা উচিৎ আমরা যেনো পশ্চিমা নব্য সম্রাজ্যবাদী বলয়ের স্বীকার না হই।

রাশিয়া থেকে তেল ও কৃষিপণ্য আমদানি করতে দেশের সকল জনগণের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। পশ্চিমা বলয়ের এক চোখের নীতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত। অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই বিপর্যয়ের মধ্যেও এগিয়ে চলছে। 

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশ গুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিশ্বে একক সাম্রাজ্যবাদ কায়েম করতে ইউক্রেন যুদ্ধ এখন অন্যতম হাতিয়ার। ইরাক বা আফগানিস্তানে বা ফিলিস্তিনে কোন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় নি। একমাত্র পশ্চিমা বলয় ভুক্ত ইউক্রেনে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এমনটাই পশ্চিমা নীতিতে উঠে এসেছে।
এই ধরনের দৈত্য নীতিকে ধিক্কার জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বলয় থেকে বেড়িয়ে এসে আমাদের উচিৎ নিজেদের সুবিধা দেখা। আমাদের ঋণের দায় আমাদেরই। উন্নয়নের সফলতাও আমাদেরই। তাই দেশের উন্নয়ন নিয়ে আমাদেরই ভাবতে হবে। আমেরিকা চায় বিশ্বে সংকট সৃষ্টি করে নিজের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে। আর আমরা দেখেছি ইতিমধ্যে তাই  হচ্ছে। 

বাংলাদেশের তো বিকল্প পথ রয়েছে। তাই আমরা কেন উচ্চ মূল্যে পণ্য আমদানি করবো? আমাদের উচিৎ যেখানে কম মূল্যে ভালো পণ্য পাওয়া যায় সেখান থেকে পণ্য আমদানি করা। যেমনটা করছে চীন ও ভারত, আমাদেরও তেমনটাই করা উচিৎ। এতে কারো চোখ রাঙ্গানোর তোয়াক্ষা করে লাভ নেই।তার পরেও অনধিকার চর্চা করে চোখ রাঙ্গালে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এর মত বলা উচিৎ রাবিশ। তাদের বুঝিয়ে দেওয়া উচিৎ আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ রিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোন অধিকার তাদের নেই। আমাদের দেশের সরকার কোন কাজে অকার্যকর সেটা তাদের গবেষনার বিষয় নয়। তারা নিজেদের দেশের বন্দুক হামলা কিভাবে মোকাবেলা করবে সেদিকে নজর দিক। নিজের দেশের বর্ণ বৈষম্য মোকাবেলা করতে ব্যর্থ কোন রাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে গবেষণা করা অনধিকার চর্চার সামিল ।

আইনিউজ/এসিটি

আইনিউজ চ্যানেল এ দেখুন আকর্ষনণীয় সব ভিডিও

 

বৃদ্ধ বয়সে নামাজ পড়তাম, ঘরে বসে খাইতাম, কে খাওয়াবে! 

আলী আমজাদে রিইউনিয়ন

 

ঝড়ে মারা যায় পাখির ছানা, গাছে বাসা দিলেন পুলিশ অফিসার

বন্যার স্রোতে তলিয়ে গেল ব্রিজটি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়