ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬,   চৈত্র ৩১ ১৪৩৩

কামরুল হাসান, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২২:২৬, ১২ জুলাই ২০২১
আপডেট: ০০:২১, ১৩ জুলাই ২০২১

‘পেটে ভাত নাই, স্যারেরা গাড়ির চাবি নিয়ে গিয়েছেন’ (ভিডিও)

পেটে ভাত নাই। স্যারেরা গাড়ির চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন, চাবিও নিয়ে গিয়েছেন। ঘরে ছেলেমেয়ে-বউ না খেয়ে আছে। লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে থাকতে আজ বের হয়েছিলাম, ঘরে খাবার নেই। বাড়ছে ঋণের জ্বালা। বউনি (দিনের প্রথম রোজগার) করবার আগেই ধরা খেয়ে গেলাম। এভাবেই অনেকটা একসুরে আতর্নাদ করছিলেন মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবা্গ এলাকার বেশ কয়েকজন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক।

সোমবার (১২ জুলাই) লকডাউন ও স্বাস্থবিধি নিশ্চিতে মৌলভীবাজার জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। এ সময় ১৩৬টি মামলায় ৮৬ হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। তেত্রিশটি সিএনজির চাবি সাময়িক জব্দ করা হয়। 

তবে এ নিয়ে সিএনজি চালকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। চাবি জব্দ হওয়া কুসুমবাগ এলাকার সিএনজি চালকরা সমস্বরে বলছিলেন, ‘আজ আমাদের ৩০ থেকে ৩৩ টি গাড়ির চাবি নিয়ে গেছেন, ৫ থেকে ৬টি গাড়ির চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা খুব হয়রানির শিকার হয়েছি। এখন পর্যন্ত চাকায় হাওয়া দিতে পারিনি। গাড়ি পড়ে আছে, হাওয়ার দোকান বন্ধ। গাড়ির মালিককে নিজ পকেট থেকে গাড়ির ভাড়া দিতে হবে। বিকালে যে খাওয়ার চাল নিবো এই ব্যবস্থা নেই। হয়তো না খেয়ে থাকতে হবে।  

সদর উপজেলার সরকার বাজার এলাকার সিএনজি চালক সুমন আহমেদ বলেন, ‘এতদিন ধরে লকডাউন আমাদের খাওয়া দাওয়া কোন ব্যাবস্থা করতে পারছিনা। পরিবার নিয়ে খুব অসুবিধায় আছি, অথচ আমরা এই গাড়ির ওপর নির্ভরশীল। আমরা মুখ খোলে কিছু বলতে পারছি না। এখন পর্যন্ত কোন সহায়তা পাইনি।’ তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমাদের ছোট গাড়ি চলাচলের সুযোগ দেন, যাতে ডাল ভাত খেয়ে আমরা বাঁচতে পারি। না হলে আমাদের মরণ ছাড়া উপায় নেই।’ 

অফিস বাজার এলাকার এক চালক বলেন, ‘আজকে আমার খুব বিভ্রান্তির মাঝে পড়ে গেছি। গাড়ির চাবি ধরে নিয়ে গেছেন, আমরা বিতিকিচ্ছিরি (হযবরল) অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি। স্ট্যান্ডে এসে গাড়ির টায়ারের হাওয়া ছেড়ে দেয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছি আমরা। সামনে ঈদ। পরিবার, বাচ্চা নিয়ে যেন সুন্দরভাবে চলাফেরা করতে পারি, সরকারের কাছে আবেদন করি।’ 

সিএনজি অটোরিকশা চালক চন্দন দাস বলেন, চৌমুহনা পয়েন্টে আমাকে ৩০০ টাকা জরিমানা করলেন। আমি বললাম স্যার আমি তিন থেকে চারদিন পরে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। ৩০০ টাকা দেয়ার মতো আমার তৌফিক নাই। ছেলেমেয়েরা না খাওয়া, এরপরেও যদি জরিমানা দিতে হয় তাহলে গাড়ি বিক্রয় করে দিতে হবে। স্যার আমার কথা রাখলেন না, আমার গাড়ি চাবি রেখে দিলেন। এখন আমি চাবি লাইন ডাইরেক্ট করে চালাছি। 

চন্দন দাস বলেন, ‘আমার পরিবারে ৭ জন সদস্য। আমি একমাত্র উপার্জনকারী। এখন আমাকে গাড়ি চালাতেই হবে। এতদিন যে লকডাউন ছিল তখন আমার জমানো কিছু টাকা সেগুলো খাইছি। এখন আমার আর টাকা নাই। তাই বাধ্য হয়েই গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি।

তবে মৌলভীবাজারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সরকারি নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক। সেটা কেন মানছেন না। সিএনজি চালকদের কাছে এমন প্রশ্ন করলে তাঁরা অনেকটা বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। এক্ষেত্রে অনেকের উত্তর স্বাস্থ্যবিধিও মানতে হবে, চালকদেরও চলাচল করতে দিতে হবে। আবার অনেক চালক বলেন, পেট (খাদ্য চাহিদা বা পেটের ক্ষুধা) লকডাউন-করোনা বুঝেনা। 

এ ব্যাপারে সমাজ সচেতন বিশিষ্টজনেরা নিম্ন আয়ের মানুষদের পেশাভিত্তিক পরিপূর্ণ তালিকা তৈরি করে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে কঠোর লকডাউন পালনের পরামর্শ দেন।

ভিডিও

আইনিউজ/কেএইচএস/ এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়