ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০৪, ১৯ জুলাই ২০২১
আপডেট: ২০:৪৭, ১৯ জুলাই ২০২১

কমলগঞ্জে ব্যাপকভাবে করোনার সংক্রমণ, ৫ জনের মৃত্যু

করোনা শনাক্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ৫ জন মারা গেছেন। করোনার নমুনা দিয়ে পাওয়া তথ্য ও সরেজমিন পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, উপজেলায় ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ। ঘরে ঘরে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা চলছে কমলগঞ্জের সর্বত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯দিন আগে উপজেলার শমসেরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। ৯দিন পর সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে তার বড়ভাই দলিল লিখক আলাউদ্দীন (৪৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, সর্দি কাশি ও জ্বরে ভুগলেও রোববার বৃষ্টিতে ভিজলে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এছাড়াও করোনা সংক্রমিত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে সোমবার সকালে আদমপুরের পূর্ব জালালপুর গ্রামের হারুন-অর রশীদ (৪০) মারা যান। এছাড়া গত ১৬ জুলাই নমুনা দিয়ে করোনা শনাক্ত হয়ে সোমবার ভোরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মাধবপুরের পাত্রখোলা চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল কুরাইয়া (৪৫)। করোনা শনাক্ত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মারা গেছেন আলীনগরের যোগিবিল গ্রামের আমেনা বেগম (৬৫)। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক মঈন উদ্দীনের মা। করোনার উপসর্গ নিয়ে তার বাড়িতে তাকে দেখতে এসে তার বড় বোন (৭০) মারা গেছেন।

আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা জানান, ‘করোনা আক্রান্ত হয়ে আমেনা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনার উপসর্গ নিয়ে তাকে দেখতে এসে তারই বড় বোন মারা গেছেন। সোমবার বিকেলে দুই বোনের নামাজে জানাজা এক সাথে অনুষ্ঠিত হবে।’

এদিকে কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার প্রাইভেট ডাক্তারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সর্বত্রই ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, জ্বর ও মাথা ব্যথা রোগী রয়েছেন। এসব করোনার উপসর্গ দাবি করে চিকিৎসকরা বলেন, এদের নমুনা পরীক্ষা করলে করোনা পজেটিভ হবে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘সোমবার কমলগঞ্জের ৫ জন মারা যাওয়ার কথা শুনেছেন। তবে এদের মধ্যে ২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাকি ৩ জন এখানে নমুনা দেননি। কমলগঞ্জের সর্বত্রই করোনা উপসর্গের রোগী রয়েছে। মানুষজন মানছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা। এতে করে কমলগঞ্জের অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, ‘ঈদের জন্য সরকার লকডাউন শিথিল করেছে। উপজেলায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। তাই সকলকেই সরকারি নির্দেশনানুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

আইনিউজ/রুহুল ইসলাম হৃদয়/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়