ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:২৯, ২০ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৫:৩৭, ২০ জুলাই ২০২১

কোরবানির মাংস কাটার জন্য শহরজুড়ে জমজমাট গাছের গুড়ির ব্যবসা

কোরবানির মৌসুমে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন কোরবানি উপকরণসহ নানা জিনিসের ব্যবসা এখন জমজমাট। যা ঈদের মৌসুম ছাড়া অন্য কোনোও সময় এই সব অস্থায়ী দোকান দেখা যায় না। 

শহরের মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ পশু খাদ্যের দোকান। কেউ খড়, কেউ ভুসি, কেউ কাঁঠালের পাতা, কেউবা আবার ঘাস নিয়ে সাজিয়েছেন পসরা। রাস্তার ধারে, টেবিলে অথবা কোনো ভবনের বারান্দায় গড়ে উঠেছে খণ্ডকালীন এসব দোকান।

ঈদের কোরবানিতে সব প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যও গুরুত্বপূর্ণ হলো কোরবানির পর মাংস কাটার প্রক্রিয়া। সেই প্রয়োজনীয় কাজের প্রয়োজনে মাংস রেখে কাটার জন্য দরকার কাঠের গুড়ি। শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় এই কাঠের গুড়ি বেচাকেনা হচ্ছে।

বড়সড় একটি গাছের গুড়ি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং মাঝারি গাছের গুড়ি ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। বিক্রেতাদের সাথে কথা বললে তারা আইনিউজকে জানান, এই কাঠের গুড়ি সব গাছ দিয়ে হয় না। শুধু তেতুল গাছ দিয়ে এই মাংস কাটার কাঠের গুড়ি তৈরী করা যায়।

শহরের কোর্ট রোডে মৌসুমী ব্যবসায়ী নাদির মিয়া কাঠের গুড়ির বিক্রয় করছেন। আইনিউজের কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, আমি ৩৬ বছর ধরে এই মাংস কাটার 'গদা' বিক্রি করছি। বছরে একবার কোরবানি ঈদের সময় আমি এই ব্যবসা করি। আমি এই বছর ২টি গাছ কেটে ছোট ছোট খন্ড করে বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টা কাঠের গুড়ি বিক্রি হয়েছে। ছোট গুড়িগুলোর চাহিদা বেশি। ছোটগুলো ২০০ টাকা করে বিক্রি করছি। বড় কাঠের গুড়ি ৪০০-৫০০ টাকা দামে। 

তিনি আরও বলেন, মাংস কাটার জন্য শুধু তেতুল গাছ দিয়ে এই মাংস কাটার কাঠের গুড়ি তৈরী করা যায়। আমি ২টি তেতুল গাছ ৩ হাজার টাকা করে কিনেছি। একটা গাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ খন্ড করা যায়। এই গুড়ি বা খণ্ড বিক্রি করে গাছ প্রতি ৩-৪ হাজার টাকা লাভ করা যায়।

পাশের দোকানে গরুর মাংস বিক্রেতা বলেন, চাচার 'মুড়া'গুলো খুব ভালো, কালেঙ্গা পাহাড় থেকে গাছ কিনে তিনি মুড়া বানান। আমি প্রায় ১০ বছর ধরে একটি মুড়া ব্যবহার করছি। খুব ভালো মাংস কাটা যায় নষ্ট হয়নি। 

ঈদের আর মাত্র ১ দিন বাকি ক্রেতারা গরু ক্রয় করতে পশু হাটে যেভাবে ভিড় করছেন, সেইভাবে কোরবানির প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন এই সব অস্থায়ী দোকানগুলোতে।

আইনিউজ/কামরুল হাসান শাওন/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়