ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২৩:১১, ২০ জুলাই ২০২১
আপডেট: ০০:৩৩, ২১ জুলাই ২০২১

করোনায় মৌলভীবাজারের ঈদগাহ না জমলেও জমে উঠেছে ঈদ শপিং

লোকজন ও সিএনজি-রিকশার চাপে তিল ধারণের জায়গা নেই সেন্ট্রাল রোডে।

লোকজন ও সিএনজি-রিকশার চাপে তিল ধারণের জায়গা নেই সেন্ট্রাল রোডে।

বুধবার (২১ জুলাই) মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল আজহা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে এই ধর্মীয় দিবসটি পালনের। ব্যতিক্রম নয় মৌলভীবাজারও। কিন্তু সীমান্ত এ জেলায় করোনার সংক্রমণ দেশের বেশিরভাগ জেলা থেকেই বেশি। এ কারণে ঈদের দিনে ঈদগাহে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছে প্রশাসন। 

করোনার সংক্রমণ রোধে শহরবাসীরা নামাজ পড়বে মসজিদে, কিন্তু এদিকে ঈদের দিন চলে আসার আর কয়েক ঘণ্টা বাকি। তবুও শেষ হচ্ছেনা ঈদের কেনাকাটা।

শহরের সেন্ট্রাল রোডের (এম সাইফুর রহমান রোড) দিকে তাকালেই আজ সারাদিন বুঝা যাচ্ছিলো ঈদের কেনাকাটা কাকে বলে! গত দু-তিনদিন থেকেই এমন অবস্থা। রাস্তায় নেই তিল ধারণের জায়গা, জেলার প্রায় সকল উপজেলা থেকেই মানুষ আসেন এখানে ঈদের কেনাকাটা করতে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শপিং মল, বাজার, অসংখ্য পোষাকের দোকান ও কসমেটিকসের দোকান আকর্ষণ করছে সবাইকে। এই আকর্ষণে যাদের বেশিরভাগ সময় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে তাদের অধিকাংশই মহিলা ও কম বয়সী বাচ্চাকাচ্চা। 

তবে করোনার আতঙ্ক তাদের সবার মধ্যে দেখা যাচ্ছেনা। মাস্কবিহীন চলাফেরা এটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ছাড়া বাকি অধিকাংশকে দেখা যাচ্ছে মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করতে, রাস্তার পাশের টং দোকানগুলো থেকে চা-পান খেয়ে হাতে ৪-৫টা শপিংব্যাগ নিয়ে আড্ডা দিতে। 

যেখানে করোনার সংক্রমণ মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেছে, বাধ্য হয়ে ঈদের নামাজ ঈদগাহের বদলে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় মসজিদগুলোর প্রাঙনে; সেখানে এই ধরণের আয়োজন করে ঈদের কেনাকাটা কতোটুকু যুক্তিযুক্ত? 

মৌলভীবাজারে করোনা পরিস্থিতি

ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে মৌলভীবাজারের ৭০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৭ জন সুস্থ, মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩ জন। 

নতুন শনাক্ত ২৬ জন নিয়ে জেলায় ৪ হাজার ৪৩৫ জনকে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। 

এছাড়াও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তারা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের রোগী। এ নিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৭ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে রাজনগর ৪ জন, কুলাউড়া ৩ জন, বড়লেখায় ২ জন, কমলগঞ্জে ২ জন, শ্রীমঙ্গলে ৬ জন, জুড়ী ৩ এবং সদর হাসপাতালের ২৭ জন রয়েছেন।

এছাড়া গত রোববার (১৮ জুলাই) মৌলভীবাজারে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এদিন জেলায় একদিনে শনাক্ত হয়েছেন ১৮৮ জন। 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়