নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
আপডেট: ১৬:৫৬, ১ আগস্ট ২০২১
মৌলভীবাজারে টিকাদানে এগিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মৌলভীবাজারে চলছে চীনের সিনোফার্মের টিকার প্রয়োগ। আর এ কার্যক্রমে এগিয়ে আছে কমলগঞ্জ উপজেলা। দারুণ কাজ করছে এই উপজেলার টিকা প্রদানকারী টিম।
গতকাল শনিবার (৩১ জুলাই) জেলায় টিকা নিয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ জন। এরমধ্যে ২ হাজার ৮৩০ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৫১২ জন নারী। এদিন জেলার মোট ৫ হাজার ৩৪২ জনের মধ্যে শুধু কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি বুথে টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৩২৮ জন নারী-পুরুষ। আর জেলা সদরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ৮ টি বুথে টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ২৬৪ জন নারী-পুরুষ। টিকা প্রদানে মৌলভীবাজার জেলা সদরের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা।
মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত সিনোফার্মের টিকার পরিসংখ্যান-
- মৌলভীবাজার জেলা সদরে মোট ১ হাজার ২৬৪ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৭২১ এবং নারী ৫৪৩ জন।
- এদিন রাজনগর উপজেলায় মোট টিকা নিয়েছেন ৪৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৩৩ এবং নারী ২০৯। গতকাল সবচেয়ে কম টিকা রাজনগর উপজেলায় দেওয়া হয়েছে।
- কুলাউড়ায় মোট টিকা নিয়েছেন ৫৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৯০ জন, নারী ২৫৪ জন।
- বড়লেখায় মোট টিকা নিয়েছেন ৬৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩০২ জন, নারী ৩৬৪ জন।
- কমলগঞ্জে মোট টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৩২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭২৩ জন, নারী ৬০৫ জন। জেলার সবচেয়ে বেশি টিকাদান কমলগঞ্জে।
- শ্রীমঙ্গলে মোট টিকা নিয়েছেন ৬১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩০৮ জন এবং নারী ৩০৪ জন।
- জুড়ীতে মোট টিকা নিয়েছেন ৪৮৬ জন। পুরুষ ২৫৩ জন, নারী ২৩৩ জন।
গত ১২ জুলাই থেকে মৌলভীবাজারে দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয়েছে গণহারে করোনার টিকাদান কর্মসূচি। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে ২০ দিনে পুরো জেলায় টিকা গ্রহিতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮২৪ জনে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় টিকা নিয়েছেন ৭ হাজার ৮৫৩ জন, রাজনগরে ৩২৭৪ জন, কুলাউড়ায় ৪ হাজার ৬৬১ জন, বড়লেখায় ৪ হাজার ৫৫৯ জন, কমলগঞ্জে ৭ হাজার ৬০৮ জন, শ্রীমঙ্গলে ৫ হাজার ১৬০ জন, জুড়ীতে ৩ হাজার ৭০৯ জন।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ৮টি বুথে ১৬ জন টিকা দানকারী ও ৩২ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। অন্য ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দুটি করে বুথে টিকাদান করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার, নার্স, মিডওয়াইফ এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাগণ রয়েছেন।

আর প্রথম ধাপে জেলায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার অক্সফোর্ড-কোভিশিল্ড টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ৬৭ হাজার ৫৬৭ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।
টিকাদান কার্যক্রম সম্পর্কে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন, খুবই আন্তরিকতার সাথে ৮ টি বুথে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এতে রেডক্রিসেন্টসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরাও সহযোগিতা করছেন। এখানে কাজের চাপও বেশি। একদিকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করতে হয়, ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন দিতে হয়। এছাড়া ইমার্জেন্সি আউটডোর-ইনডোর রোগী দেখতে হয়।
তবে মৌলভীবাজার শহরের বাসিন্দা মুশফিক আহমেদ বলেন, জেলা সদর হাসপাতালের সক্ষমতা বেশি, আমরা এখানে দেখেছি ৮টি বুথে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। জেলা সদর হাসপাতাল হিসেবে এখানে আরও বেশি মানুষকে টিকাদান করা উচিত। তাই তাদের কাজের গতি আরও বাড়ানো উচিত।
পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান আইনিউজকে বলেন, পৌরসভায় একাধিক টিম ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন করে দিচ্ছে, যা টিকাদান কার্যক্রমকে গতিশীল করবে বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য মৌলভীবাজার জেলাটি বাংলাদেশের পর্যটন, প্রবাসী, চা-শ্রমিক ও হাওর অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।এ জেলায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস।
জেলার বিশিষ্ট নাগরিক এবং শ্রীমঙ্গলের পর্যটন ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক মুসা আইনিউজকে বলেন, পর্যটন ও প্রবাসীদের জেলা হিসেবে দ্রুত এই জেলার সকল নাগরিককে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। আশা করছি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
আইনিউজ/এসডি
আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে ১ আগস্টের করোনাভাইরাস আপডেট
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























