দীপংকর মোহান্ত
আপডেট: ০০:২৭, ২ আগস্ট ২০২১
শমসেরনগর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার শুভলগ্ন : পূব আকাশে সূর্যোদয়
পাহাড়-টিলা ও সমতলের সমন্বয়ে গড়া নয়নাভিরাম জনপদের নাম ‘শমসেরনগর’। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার এক আলোকজ্জ্বল জনপদ। তার বুকচিরে চলছে ‘লাঘাটা ছড়া’। পূর্বদিকে চা-বাগান ও বন-বনাঞ্চল তারই ফাঁক দিয়ে সূর্যদেব সোনালী-ভূষণে জেগে ওঠেন। আমার জন্ম-গ্রাম ঘোষপুর থেকে প্রতিদিন ভোরে এই দৃশ্য দেখে দেখে বড় হয়েছি।
এই জনপদের বৈশিষ্ট্য যে দূরে-দূরে বাড়িগুলো মায়াবি চেহারায় দাঁড়িয়ে থাকে; কিন্তু সকল বাসিন্দা একই মায়ের পুত বলে মনে হয়। হিন্দু-মুসলমানে মধুর মিলনে মাখানো বড়ই শান্তির জায়গা। ভূ-বিন্যাসের দিক দিয়ে শমসেরনগর আকর্ষণীয় স্থান। সম্ভবত জন-মানুষ কম থাকায় এই অঞ্চলে জমিদারী প্রভাব কম ছিল- অপেক্ষাকৃত স্বাধীন কৃষক ছিলেন বেশি। আমাদের এলাকার গ্রামগুলো খুব ছোট ছোট। আবার সবকটি গ্রামের সাথে ‘পুর’ শব্দটি যুক্ত আছে। কেন এমন হয়েছে- তার উত্তর আজও পাইনি। যেমন শঙ্করপুর, সারঙ্গপুর, ঘোষপুর, ভরতপুর, সোনাপুর, বৈদ্যনাথপুর ইত্যাদি। কেবল ‘রাধানগর’ ব্যতিক্রমি। যদিও স্থানীয় পর্যায়ে পুর বা নগরের কোনো চিহ্ন বা পুরাতত্ত্ব আজো পাওয়া যায়নি।
সুদূরকালে কারা গ্রামের পত্তন/আবাদ করেছিল- তা বুঝা যায় না। তবে চা-বাগান, রেল ও বাজার পত্তনের কথা পাওয়া যায়। পুরানো আমল ছেড়ে দিলে উনিশ শতকের শেষভাগে কানিহাটি ও শমসেরনগর চা বাগানের পত্তন হওয়া ও আসাম-বেঙ্গল রেল-লাইনে শমসেরনগর রেলস্টেশন স্থাপনে জায়গার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। ছোট বাজারটি এই পরিবেশে সম্প্রসারিত হতে থাকে। শমসেরনগরের আরো গুরুত্ব বাড়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শুরুতে। যখন ‘শমসেরনগর বিমানবন্দর’ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। ‘ঘাটিরকাম’ বলে একটি কথা চালু ছিল- তখন এই অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হয়। তখনকার বিশ্ব-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিমান বন্দরটি স্থাপিত হয়েছিল। পুর্ব-ভারত রক্ষা ছিল মূলাধার। তার রেঞ্জ ছিল বহুদূরবর্তী- চীন-জাপান সীমান্ত। অর্থাৎ জাপানকে আটকানো। চা-বাগান, শমসেরনগর বাজার ও বিমান ঘাটি সৃষ্টি হওয়ার পর কৃষিভিত্তিক সমাজের পেশা পরিবর্তনের সুযোগ ঘটে। তবুও এলাকাটি অন্ধকারে থেকে যায়- কারণ কমলগঞ্জ-ভানুগাছ ছিল স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শমসেরনগর আলাদা মর্যাদার দাবী রাখে। ০৭-২৮ মার্চ শসসেরনগর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
স্বাধীনতাকামী মানুষ ইপি আর সহযোগে ক্যাপ্টেন গোলামরসুলসহ ১১জন মতান্তরে ১৩ জন পাক সেনাকে হত্যা করে বীরত্ব দেখায় (২৭ মার্চ)। ফলে প্রথম পর্যায়ে পাক সেনারা পিছু হটে। এই অ ল মুক্ত থাকে। শমসেরনগরের প্রতিরোধ আন্দোলনে আশপাশের ইউনিয়নের বহু লোক যুক্ত ছিলেন। কিন্তু নেতৃত্ব দেয় শমসেরনগরের নেতৃবৃন্দ। যে কারণে শমসেরনগরের প্রতি পাকসেনারা ক্ষেপে ছিল। যুদ্ধলগ্নে পাক সেনাদের অস্ত্রভাণ্ডার ও থাকার জন্য বড় জায়গা করে শমসেরনগর বিমানবন্দরকে। সাব-অংশ শমসেরনগর ডাকবাংলা। মনে রাখা প্রয়োজন তখন শমসেরনগরে অকোজো বিমানর থাকলেও রেল এবং সড়ক পথের জন্য গুরুত্বপুর্ণ হয়ে যায়। আবার সীমান্তবর্তী চা-অধ্যুষিত অঞ্চল। পাক সেনারা সবকিছু মাথায় রাখে। ডিসেম্বর মাসের বিজয়লগ্নে শমসেরনগরে পাকসেনাদের সাথে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ছিল অনেক বেশি। মিত্রবাহিনীর নেপালী মেজর গুরম উপরের নির্দেশে সেই দিন শমসেরনগর স্বাধীন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এই যুদ্ধে মেজর গুরম সহ অনেক যোদ্ধার প্রাণের বিনিময়ে মুক্ত হয় শমসেরনগর। ভয়ে পাকসেনারা সিলেটের দিকে পালায়। কারণ শমসেরনগরের পাকিস্তানী সেনা খাঁটির পতন না হলে মৌলভীবাজার মহকুমা ও সিলেট জেলা মুক্ত করা কঠিন ছিল। ৪ ডিসেম্বর শসেরনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন এমপি তোয়াবুর রহিম ও এম পি বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান। এইগুলো শমসেরনগরবাসীর অহংকার (যদিও শমসেরনগরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো তরুণ লেখক/ গবেষকের কাজ চোখে পড়ে না)। ১৯৭১ সালে শমসেরনগরবাসী দেখিয়েছিল নিজেদের একতা, বীরত্ব ও মাতৃভূমির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। আজো তারা স্বদেশ বিনির্মাণে অন্যভাবে যুদ্ধ করছে- অর্থাৎ একটি গণমুখী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার তাদের লক্ষ্য। এমন উদাহরণও দেশে কম। এই যুদ্ধেও বিজয় অবশ্যম্ভাবী।
স্বাধীনতার প শ বছরের শমসেরনগরের অনেক দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষণীয়। শসেরনগর হাই স্কুল ছাড়াও স্বধীনতার পরপর শমসেরনগর ইউনিয়নে গড়ে ওঠে ‘শহীদ স্মৃতি হাইস্কুল’ (১৯৭২), ‘হাজী উস্তার বালিকা বিদ্যালয়’। পরে হয় ‘সুজা মেমোরিয়াল কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘শাহীন স্কুল এন্ড কলেজ’ এখন স্থাপিত হয়েছে। আমরা মনে করি সবই এলাকাবাসীর গর্বের ধন ও নব প্রজন্মের অগ্রযাত্রার সোপান। কিন্তু স্বাস্থ্য সেবায় ছিল এলাকাটি অতি দুর্বল। যদিও চা-শ্রমিকদের জন্য ক্যামেলিয়া হাসপাতাল গড়ে ওঠেছে।
শমসেরনগরবাসীর দুঃখ যে এই সমৃদ্ধ জনপদে কোনো বড় আকারে হাসপাতাল নেই। অতীতে হাসপাতালের অভাবে লোকজন প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। ফলে একুশ শততের উষালগ্নে ‘শমসেরনগর হাসপাতাল’ গড়ে উঠা একটি স্বপ্নের বাস্তবায়নের ধরতে হবে। শমসেরনগর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জের পতনউষার, মুন্সিবাজার; কুলাউড়ার শরিফপুর, কানিহাটি, পাবৈ, পিরেরবাজার, ন’মুজা, মনু, টিলাগাঁও, উছমানগড় প্রভৃতি জনপদ এবং রাজনগরের কামারচাক, মরিচা, দক্ষিণ তারাপাশা প্রভৃতি এলাকার লোকজন প্রত্যক্ষ উপকার পাবে। অর্থাৎ হাসপাতালটি প্রায় পনেরটি ইউনিয়নের মানুষকে প্রত্যক্ষ সেবা দিতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শব্দকর সমাজ, চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী ও নৃ-তাত্ত্বিক খাসিয়া সম্প্রদায়ও উপকারভোগী হবে। এই ইউনিয়নগুলোর সাথে শমসেরনগরের যোগাযোগ খুব ভালো রয়েছে। আবার নির্ধারিত হাসপাতালটিও মৌলভীবাজার-শমসেরনগর সড়কের সন্নিকটে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বলা যায় গণ-চরিত্রভিত্তিক শমসেরনগরে হাসপাতাল তৈরি খুবই প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিযুক্ত। যা আমাদের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। একতাবদ্ধ শমসেরনগরবাসী যে ভালো কাজ করতে পারে এবারও তারা জানান দিচ্ছে। এ যাত্রায়ও আমরা শমসেরনগরে নতুন সূর্যোদয়ের স্বপ্ন দেখছি।
শমসেরনগরে হাসপাতাল তৈরির স্বপ্নবীজ অনেক দিন ধরে জন-চেতনা ও প্রবাসীদের মননবিশ্বে ঘুরপাক করলেও সুদীর্ঘ সময় অধরা বা বায়বীয় থাকে। এই নিয়ে স্থানীয় ও প্রবাসে অনেক বৈঠক হয়। ক্রমে সেই স্বপ্নবীজ অঙ্কুরোদ্গমের পরিবেশ তৈরি হয়। এমতাবস্থায় শমসেরনগরের লন্ডন প্রবাসী সরওয়ার জামান রানা (পিতা: স্বনামধন্য প্রয়াত প্রধান শিক্ষক বশির উদ্দীন) ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগম তাদের ক্রয়কৃত ভূমি জনস্বার্থে ব্যয় করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন। অর্থাৎ শমসেরনগর হাসপাতাল তৈরির জন্য তারা ১০৮ শতক জায়গা দান করেন। যা মানবকল্যাণের পথে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করি। আজকের ভোগবাদী সমাজ জীবনে এমন ত্যাগ সত্য-ই প্রশংসনীয়। সরোয়ার দম্পতির দানকৃত জায়গার পরিমাণ বর্তমান বাজার মূল্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো হবে। তাদের এই দান নিঃস্বার্থে। বদান্য মননশীলতার জন্য সরোয়ার জামান রানা ও তাঁর স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। অর্থ-বিত্ত-ধন থাকলে-ই কেবল হয় না; জন-দানের জন্য বড় মন লাগে; সরোয়ারের এই ত্যাগ থেকে অন্তত আমি অনেক কিছু শিখলাম।

এই সাক্ষাৎকারে সরোয়ার জানান যে, তিনি এলাকার খেদমত করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। তার এই বিনয় বোধ এলাকাবাসী চিরকাল স্মরণ রাখবে। সরোয়ার জামানের ভূমিদানের ঘোষণার পর শমসেরনগরবাসী দফায় দফায় বৈঠক করে কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যায়। পরে এই বিষয়ে শমসেরনগর থেকে একটি প্রতিনিধি দল কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলে সংসদীয় আসনের এমপি ও প্রাক্তন চিপ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দিলে চারদিকে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ কমলগঞ্জ গণ-মহা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে এলাকা ঘুরে গণমানুষের কাছ থেকে কষ্ট করে যে ধান সংগ্রহ করতেন- তা এখনো চোখের মধ্যে ভাসছে। তিনি নিশ্চয় তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে শমসেরনগর হাসপাতালের গণ-চরিত্রদান করবেন।
শমসেরনগর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত প্রায় শতাধিক সভা হয়েছে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ছিল খুব আশানুরূপ। প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস, আনন্দ এবং অংশগ্রহণ দেখে বিমোহিত হয়েছি। এ যেন একটা জাগরণের ঢেউ উঠেছে। প্রবাসী লন্ডন প্রবাসী বন্ধুবর ময়নুল ইসলাম খান প্রায় প্রতিদিনই মোবাইল করে উৎসাহ দিয়েছে। তার আনন্দ আমাকেও মুগ্ধ করেছে। সে সবাইকে হাসপাতাল নির্মাণ কাজে যুক্ত হবার পরামর্শ দিয়েছে। আমেরিকা প্রবাসী দায়ত্বশীল বন্ধু অধ্যক্ষ কামরানকে দেখেছি হৃদয়-মন উজাড় করে শসেরনগর হাসপাতালে ঢালতে। তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই। তারাই প্রবাসীদের মধ্যমণি হয়ে এখন কাজ করছেন। বলতে হবে যে, শমসেরনগর হাসপাতাল নির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন আমাদের প্রবাসী ভাই-বন্ধুজন। ‘জন্ম মাটির হক’ বলে একটি কথা আছে। কতজন পারে জন্মমাটির ঋণ শোধ করতে? অবশ্যই প্রবাসীরা জন্মের ঋণ শোধ করছেন বলে মনে করি। শমসেরনগর হাসপাতালের কাজে ও অর্থায়নে প্রবাসীদের আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তারা আমাদের চেয়েও বেশি সংগঠিত হয়েছেন। প্রবাসীদের দ্বিতীয় প্রজন্মও একাজে এগিয়ে এসেছেন- তারা পিতৃপুরুষের জনপদের উন্নয়নে শরিক হচ্ছে দেখে আমরা গর্ববোধ করছি। প্রবাসীরা দূর দেশে থেকেও শমসেরনগরের নরম বাতাসের পরশ ভুলতে পারছেন না।
কোনো কঠিন কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম প্রয়োজন হয় ত্যাগী মানসিকতার একটি সাংগঠনিক টিম। শমসেরনগরের একঝাঁক প্রতি
শ্রুতিশীল তরুণ হাসপাতাল বাস্তবায়নের কাণ্ডারি হয়েছেন। দক্ষ মাঝি ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যে যেমন নৌকা রক্ষা করে তীরে ভিড়ায়- তারাও তেমনি পরিপূর্ণ হাসপাতাল তৈরি করতে পাবেন বলে এলাকাবাসীর বিশ্বাস। আপাতত ৮৯ জন দক্ষ সদস্য নিয়ে বৃহৎ কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। তাদের গন্তব্য হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গরূপ দেওয়া। মনে রাখা প্রয়োজন এটি অলাভজনক হাসপাতাল। গণ-মানুষের সেবা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। গণ-মানুষের দান-ই হবে শক্তির আাঁধার।
সকলের মতামতে গঠিত হয় ‘শমসেরনগর হাসপাতাল বাস্তবায়ন কমিটি’। যার আহবায়ক: সেলিম চৌধুরী (প্রখ্যাত শিল্পী); যুগ্ম আহবায়ক: মুজিবুর রহমান রঞ্জু (সাংবাদিক); কোষাধ্যক্ষ: আবাদুস সালাম; সদস্য সচিব: শামছুল হক মিন্টু; আন্তর্জাতিক সমন্বয়ক: ময়নুল ইসলাম খান (লন্ডন প্রবাসী), পলিসি মেকিং করছেন- অধ্যক্ষ সাইফুর রহমান কামরান (আমেরিকা প্রবাসী)। আবার বিভিন্ন দেশেও শাখা কমিটি গড়ে ওঠেছে। যেমন জাফর আহমদ (দোবাই), বশির উদ্দিন (কুয়েত) শাখা পরিচালনা করছেন।
শমসেরননগর হাসপাতাল বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক সেলিম চৌধুরী একজন সর্বজন পরিচিত নির্মোহ ব্যক্তি। অন্যান্য দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিরাও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল। সদস্য সচিব শাসসুল হক মিন্টু অনেক আগেই ‘শমসেরনগর খেলাঘর’ সংগঠনটি পরিচালনা করে হাত পাকিয়েছে। আমরা এই কমিটির উপর শতভাগ বিশ্বাস ও আস্তা রাখছি। পরিচালনা পর্ষদের বাইরে যুক্ত হয়েছেন সমাজসেবক ইমতিয়াজ আহমদ বুলবুল সহ আরো অনেকে। ডাক্তারি পরামর্শক হিসেবে ও টেকলিক্যাল কাজে উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন অভিজ্ঞ ডাক্তার। তারা হলেন- ডা. সফিক উদ্দিন, ডা. সুধাকর কৈরী, ডা. আব্দুল্লাহ সানি, ডা. ফারজানা হলি, ডা. ফেরদৌস আহমদ মঞ্জু প্রমুখ।
বিগত ৭ অক্টোবর ২০২০ সালে নির্ধারিত জায়গায় মাটি ভরাট করে শমসেরনগর হাসপাতাল আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি। জনমনে এখন আস্থা তৈরি হয়েছে যে, হাসপাতাল তৈরি হবেই-হবে। মোটমাট তার হাসপাতাল অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা। এই মহামারির মধ্যে আনন্দের বিষয় যে ইতোমধ্যে অঙ্গীকারকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা ছাড়িয়েছে (ঘোষিত)।
আবার অনেকে ভবনের বিভিন্ন অংশ তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনগর উপজেলার একজন প্রবাসী প্রায় চল্লিশ লাখ টাকা দামের আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বাস্তবায়ন কমিটি আশাবাদী যে দেশী-বিদেশী আরো অনুদান আসা অব্যাহত থাকবে। বর্তমান সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বে অনেক কাজ হচ্ছে- এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। কমিটি ২০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতালের জন্যও চেষ্টা করছেন। বাকি জায়গায় থাকবে কমিটি পরিচালিত বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল বা জেনারেল হাসপাতাল। আমরা আশা করবো মূল কমিটি ও প্রবাসী কমিটিগুলো সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, ব্যাংক-বীমা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে জনসেবার পথ প্রশস্ত করবেন। হাসপাতাল পুরোদমে চালু হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্বল্প মেয়াদী নার্সিং প্রশিক্ষণ (মেয়েদের) এবং গ্রামীণ চিকিৎসক তৈরির কার্যক্রম গ্রহণের কথা কর্তৃপক্ষ ভাববেন বলে আশা করছি। ফলে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
আমার শৈশবে শমসেরনগরের মাথার উপর দিয়ে যে সূয্যিমামাকে উঠতে দেখেছি। আজ সেই আমি গগণে এসে দেখলাম শসেরনগরবাসী সত্যিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম এককরে নতুন দিনের ডাক দিয়েছেন। এই কাজের সাথে জড়িত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা যে যা পারি- এই মহতী কাজে শরিক হতে আহবান জানাই। মানবতার জয় হোক।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























