ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩

কামরুল হাসান শাওন, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ১০ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ২১:৫৬, ১০ আগস্ট ২০২১

করোনায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দেড়লাখ চা শ্রমিক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অতিমারী করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে এখন চলছে সাধারণ ছুটি। সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ রপ্তানিমুখী সব শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ লকডাউন শেষে আগামীকাল বুধবার (১১ আগস্ট) শিথিল হচ্ছে সবকিছু। কিন্তু লকডাউন কিংবা সাধারণ ছুটি- এই সময়ে ছুটি পাননি চা শ্রমিকেরা। বাধ্য হয়েই দেশের ১৬৩টি চা-বাগানের দেড় লাখ শ্রমিককে করোনা ঝুঁকি নিয়েই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে।  

শ্রমিক সংগঠন ও চা শ্রমিক নেতাদের দাবি- মালিকপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও পাচ্ছেন না করোনাকালীন ছুটি। মিলছেনা সুযোগ-সুবিধাও। 

তবে চা-বোর্ড ও চা-বাগান মালিক কর্তৃপক্ষ বলছেন ভিন্ন কথা।  

বাংলাদেশ চা-বোর্ড এবং লেবার ইউনিয়স সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৬৩টি চা-বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় ৯২-৯৩ টি চা-বাগান অবস্থিত। এতে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। এরমধ্যে নিবন্ধিত চা শ্রমিক আছেন ৭৫ হাজার। নিবন্ধিত ছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার চা শ্রমিক বাগানে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।  

স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন ও প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজারে জেলায় ২০ লক্ষ মানুষের মধ্যে সাড়ে ৪ লক্ষ মানুষই রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। 

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ লক্ষ মানুষের মধ্যে সোমবার (১০ আগস্ট) পযর্ন্ত মৌলভীবাজার জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৬৬১৬ জন। এরমধ্যে শুধু চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর ২ হাজার ৪৩৯ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ জন। আক্রান্ত চা-শ্রমিকদের মধ্যে জুড়ীতে ৭২১ জন, কমলগঞ্জে ৪০১ জন এবং শ্রীমঙ্গলে ১ হাজার ৩১৭ জন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, চা বাগানে করোনা পরীক্ষা হয় না বললেই চলে। হাতেগোণা কিছু শ্রমিক করোনা পরীক্ষা করছেন। যারা করছেন তারা নিজেদের উদ্যোগেই করছেন। তিনি বলেন, করোনা টেস্টের ব্যাপ্যারে খুব অল্প সহায়তা মিলে মালিক পক্ষ থেকে। 

রামভজন কৈরী বলেন, এক বাগানে করোনা উপসর্গ যদি ২০০ জন থাকে, তাহলে এরমধ্যে ৪ থেকে ৫ জনের করোনা পরীক্ষা হয়। আমরা চাই যাদের উপসর্গ আছে সবার পরীক্ষা করা হোক। 

এই চা-শ্রমিক নেতার দাবি- যাদের উপসর্গ নেই তাদের মধ্য থেকেও কমপেক্ষ শতকরা দশজনকে প্রতি সপ্তাহে টেস্ট করা হোক। কারণ চা বাগানের শ্রমিকদের নিয়মিত কাজ করতে হচ্ছে, সব কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যে কারণে সবোর্চ্চ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। 

রামভজন কৈরীর অভিযোগ, টিকার ব্যাপারে ম্যানেজমেন্টের আগ্রহ থাকলেও, করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে কোন আগ্রহ নেই। মালিক ও ম্যানেজাররা ছবি তোলার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক কিছু কার্যক্রম করেন।  কিন্তু একটা বাগানেও যথাযথ স্ব্যাস্থবিধি মানা হয় না।  যা করা হয় সবই লোক দেখানো।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি এমন প্রশ্ন জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নির্বাহী কোন ক্ষমতা নেই। আমি একটা অর্ডার করলে ম্যানেজার ও স্টাফরা এমনকি একজন শ্রমিক মানতে হবে এমন ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা শ্রমিকদের উৎসাহী করি বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা চালাই। স্বাস্থ্যবিধি মানতে লিফলেট বিতরণ করি।

চা-শ্রমিক নেতা রামভজন কৈরী বলেন, আমাদের চা শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে মালিকদের চিঠি দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- গণহারে করোনা পরীক্ষা করে টিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

তিনি বলেন, করোনাকালীন লকডাউন পরিস্থিতিতে একদিনের জন্যও উৎপাদন বন্ধ হয়নি। চা-বাগানের মালিকদের এক টাকার ক্ষতিও হয়নি।  যথাযথ উৎপাদন কাজ চলছে। কিন্তু শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম (এনডিসি-পিএসসি) বলেন, করোনা মোকাবেলায় চা শ্রমিকদের জন্য যত ধরণের সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে উৎপাদন করা যায়, সেটা করা হয়েছে। তিনি বলেন- যেহেতু এটা কৃষি ও রপ্তানিজাত দ্রব্য তাই চা-বাগান খোলা রেখেছি, প্রপার পারমিশন নিয়ে। আমাদের জানামতে কোন সমস্য হয় নাই। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা হচ্ছে তার থেকে বেশি করতে পারলে আরও খুশি হবো। 

মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের যেসব শ্রমিক আছেন, আসলেই তাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। তারমধ্যে কোভিড-১৯ সিচুয়েশনে একসাথে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মানা কঠিন বিষয়। তাদের প্রতিনিয়ত সম্মুখজ্ঞান দেয়া হচ্ছে, যাতে এই রোগে আক্রান্ত না হন।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, বর্তমানে দুইজন চা শ্রমিক মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাগানে-বাগানে করোনা ও টিকা কার্যক্রম এবং মাস্ক ব্যবহার করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সিভিল সার্জন বলেন- আমাদের এনজিও পার্টনাররা বিভিন্ন চা-বাগানে আমাদের পক্ষে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছেন। সরকারি প্রোগাম যেমন- মা সমাবেশের সময় সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়

আইনিউজ/কেএইচ শাওন/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়