ঢাকা, শনিবার   ২৩ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩৩

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ২৯ জুন ২০২২
আপডেট: ২১:০৫, ৩০ জুন ২০২২

মৌলভীবাজার

ভালোবেসেও পেলেন না তাকে, চলে গেলেন পরপারে

সুব্রত দাস গৌতম

সুব্রত দাস গৌতম

'সারাজীবন একটা আফসোস থেকে যাবে, এতোটা ভালোবাসার পরেও তাকে পেলাম না।' পরপারে চলে যাবার আগে এটাই ছিলো সুব্রত দাস গৌতমের ফেসবুক স্টোরিতে দেয়া শেষ লেখা। যাকে ভালোবেসেছিলেন তাকে না পাওয়ায় তার এই ভালোবাসার উপসংহার হলো মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

মৌলভীবাজার সদরে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রেমের ব্যর্থ হয়ে নিজের জীবনের ইতি টেনে দিলেন সুব্রত দাস গৌতম নামের এক কিশোর। মঙ্গলবার (২৮ জুন) মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যায় ওই কিশোর।

মৌলভীবাজারের মহেশ্বরী পূজা কমিটির অন্যতম সদস্য সুজয় চৌধুরী তার মৃত্যুর বিষয়টি আইনিউজকে নিশ্চিত করেন।

ওই কিশোরের নাম সুব্রত দাস গৌতম। সে মৌলভীবাজারের এম সাইফুর রহমান রোড সংলগ্ন এলাকায় নিজ পরিবারের সাথে থাকতো। তার বাবার নাম ঋষি দাশ।  

সুব্রত মৌলভীবাজারে কাশীনাথ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এণ্ড কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যনরত ছিলো। পড়ালেখার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির সাথেও যুক্ত ছিলেন সুব্রত। তার এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

মহেশ্বরী পূজা কমিটির সুজয় চৌধুরী বলেন, সে (সুব্রত) অসম্ভব ভালো এবং কর্মচঞ্চল একটি ছেলে ছিলো। কিছুদিন আগেও আসন্ন দুর্গা পূজা নিয়ে সে অনেক সক্রিয় করেছে। গতবছর পূজার সময়ও আমাদের সাথে থেকে কাজ করেছে। তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। ওর বাবা-মায়ের জন্যও খারাপ লাগছে।

তিনি বলেন, এভাবে মৃত্যু কোনোভাবেই কোনো সুষ্ঠু সমাধান হতে পারে না, এভাবে নিজের জীবনকে শেষ করে দেয়ার কোনো অর্থ হয় না। এ ব্যাপারটি আমাদের তরুণ-তরুণীদের বুঝতে হবে। জীবনকে দেশ, সমাজ পরিবারের কাজে লাগাতে হবে। এমন ঘটনা কেবল একটি জীবনই কেড়ে নেয়, এ থেকে কোনো সমাধান আসে না আর আসবেও না। তাই আমাদের উচিত তরুণ প্রজন্মের সাথে খোলামেলাভাবে আলাপ করার।

মৃত সুব্রত'র বন্ধুবান্ধবদের বলছেন, সম্প্রতি কিছুদিন ধরে সুব্রত'র প্রেমের সম্পর্কে ঝামেলা চলছিলো।  সে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এমন  করেছে বলেই ধারণা করছেন সবাই।  

এদিকে সুব্রত দাস গৌতমের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর সুব্রতর মৃতদেহ শেষ কৃত্যের জন্য শশ্মাঘাট নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সুব্রত দাস গৌতমের এমন অকাল মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে তার পরিবারে। গোটা মৌলভীবাজারে নেমেছে শোকের ছায়া।

সংগঠক ও সঙ্গীতশিল্পী সুজয় চৌধুরী আরও বলেন, বয়ঃসন্ধিকাল হলো মুক্ত পাখির মত। আর এই বয়সে যদি কেউ বিষন্নতায় ভোগে বা ডিপ্রেশনে পরে তাহলে সে আর মনের আকাশে উড়তে পারে না। ঐ আকাশটাই তার কাছে খাঁচা স্বরুপ মনে হয়। সকলের সাথেই থাকে তবে মনমরা ও বিষাদগ্রস্থ হয়ে থাকে। জগতের সবকিছুতেই অবসাদ চলে আসে। সাধারণত হৃদয় ঘটিত বিষয়ে এই বিষন্ন ভাব প্রবলভাবে চেপে বসতে পারে। এছাড়াও পারিবারিক, সামাজিক পারিপার্শ্বিকতাও এই বিষন্নতার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই আমাদের পারিবারে অভিবাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে, আপনারা আপনাদের ছেলেমেয়েদের প্রতি খেয়াল রাখুন, তাদের আচরণে হটাৎ কোন পরিবর্তন হলে তার সাথে খোলা মনে আলোচনা করুন, তাকে সময় দিন, তাকে আত্মনির্ভর করে তুলুন অন্যথায় মানসিক চিকিৎসকের শরনাপন্ন হোন। এই গ্লোবাল ভিলেইজের যুগে বাচ্চারা খুবই সেনসেটিভ হয়, তারা একটুতেই মন খারাপ করে। তাদেরকে সময় দিন, তাদেরকে বুঝার চেষ্টা করুন। আমাদের সকলের মনে রাখতে হবে, আমাদের আগামি প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য যেন উন্নততর হয়, শুধু শরীর স্বাস্থ্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেরও পরিচর্যা প্রয়োজন।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়