মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
জলাবদ্ধতামুক্ত শহরে কোদালিছড়া যখন আশির্বাদ
টানা ভারি বৃষ্টিতেও কোদালিছড়ায় স্বাভাবিক পানির স্রোত, নেই জলাবদ্ধতা। ছবি : আইনিউজ
‘একটা পরিকল্পিত ও আন্তরিক উদ্যোগ বদলে দিয়েছে কোদালিছড়ার দৃশ্য। অনেক সময় অপরিকল্পিত হাজার কোটি টাকার প্রকল্পও জঞ্জালে পরিণত হয়। অথচ কোদালিছড়ায় বড় কোনো প্রকল্প নেই। আমাদের মেয়র মহোদয়ের আন্তরিক ইচ্ছা আর প্রচেষ্টা বদলে দিয়েছে বিগত ৪০ বছরের দৃশ্যপট। আমরা তো দেখি সকাল-বিকাল-রাত, ঝড়-বৃষ্টি, রোদ’ আমাদের মেয়র পড়ে থাকেন কোদালিছড়ায়।’
বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের অনেক শহর এখন জলমগ্ন। জলাবদ্ধতায় নাকাল নগরবাসী।
জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১১ বছরে সিলেট নগরীর জন্য নেওয়া হয়েছে শতকোটি টাকার প্রকল্প। জলাবদ্ধতা নিরসন, ছড়া উদ্ধার ও সংস্কারে নেওয়া হয় প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকার ৪টি প্রকল্প। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এতো প্রকল্প সত্ত্বেও জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না নগরবাসী।
তবে একেবারে ভিন্ন চিত্র দেশের পর্যটন শহর মৌলভীবাজার। একটু বৃষ্টিতে যে শহরের মানুষ জলাবদ্ধতায় ভাসতেন। গীর্জাপাড়া, টিবি হাসপাতাল সড়ক, ফাটাবিলসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকতো হাঁটু থেকে কোমর পানি। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়তো। সে শহরে এখন টানা বৃষ্টিতেও পানি জমেনা। নেই কোথাও জলাবদ্ধতা।
এর পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে শহরের একমাত্র জলাধার ‘কোদালিছড়া’। অভিশাপে পরিণত হওয়া কোদালিছড়া এখন আশির্বাদে পরিণত হয়েছে। মৌলভীবাজার শহর ও পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়ন গিয়াসনগর, নাজিরাবাদ ও মোস্তফাপুর ইউনিয়নের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত, এ অঞ্চলের একমাত্র পানি প্রবাহের উৎস- কোদালিছড়া।
শহরের পুর্ব সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা সাদিক আহমদ বলেন, কোদালিছড়া ভরাট হয়ে পানি আটকে থাকতো। একটু বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিতো। এটা ছিলো বিগত প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের দুর্ভোগ। এখন আর সেই দুর্ভোগ নেই। টানা ভারি বৃষ্টিতেও নেই জলাবদ্ধতা। সংস্কারের ফলে স্রোতের টানে পানি চলে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতা নেই, কোথাও পানি আটকে থাকেনা। যেখানে শহরবাসীর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগও নেই। কোদালিছড়ায় এখন দেখি টলটলে জল, মাঝে মাঝে নৌকাও চলে।
তারেক আজিজ বলেন, ‘একটা পরিকল্পিত ও আন্তরিক উদ্যোগ বদলে দিয়েছে কোদালিছড়ার দৃশ্য। অনেক সময় অপরিকল্পিত হাজার কোটি টাকার প্রকল্পও জঞ্জালে পরিণত হয়। অথচ কোদালিছড়ায় বড় কোনো প্রকল্প নেই। আমাদের মেয়র মহোদয়ের আন্তরিক ইচ্ছা আর প্রচেষ্টা বদলে দিয়েছে বিগত ৪০ বছরের দৃশ্যপট। আমরা তো দেখি সকাল-বিকাল-রাত, ঝড়-বৃষ্টি, রোদ’ আমাদের মেয়র পড়ে থাকেন কোদালিছড়ায়।’

শহরের প্রেসক্লাব এলাকায় কোদালিছড়া সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করছেন মেয়র ফজলুর রহমান। ছবি : আই নিউজ
সরেজমিন দেখা যায়, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে কোদালিছড়া পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় কাজ করছে পৌরসভার শ্রমিকরা। তদারকি করছেন মেয়র ফজলুর রহমান।
এ ব্যাপারে মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, কোদালিছড়া খনন ও নিয়মিত সংস্কারের ফলে দ্রুত বেগে পানি নেমে যাচ্ছে। শহর অংশ থেকে শুরু করে পশ্চিমে ভাটি অংশেও পৌরসভা নিয়মিত সংস্কার করে যাচ্ছে। ফলে কোথাও পানি জমছে না। যার সুফল পাচ্ছেন শহরবাসী।
তবে ভাটি অংশে মোস্তফাপুর ও গিয়াসনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে কচুরিপানা ও ঝোপজঙ্গলে ছেয়ে যায়। মাছ ধরতে অনেক জায়গায় জাল দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়। যেকারণে উজানে কচুরিপানারর স্তুপ জমে। বাঁধাগ্রস্ত হয় পানিপ্রবাহ। একটু ভারি বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার শংকা দেখা দেয়।
মেয়র ফজলুর রহমান বলেন- শহরাংশে পৌরসভা নিয়মিত সংস্কার করছে। ভাটি অংশেও পুরো কোদালিছড়ায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও খনন দরকার। এ ব্যাপারে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ফজলুর রহমান বলেন- গতমাসে আজমেরু, ভুজবল, গ্রাম শ্রীমঙ্গল, অফিসবাজার এলাকায় মাছ ধরতে কোদালিছড়ার অনেক জায়গায় জাল দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়। যেকারণে উজানে কচুরিপানারর স্তুপ জমে। বাঁধাগ্রস্ত হয় পানিপ্রবাহ। জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
মেয়র জানান- তিনি দিনভর জ্যেষ্ঠ কাউন্সিলর মনবীর রায় মঞ্জু ও আয়াছ আহমদকে সাথে নিয়ে ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক দিয়ে এসব এলাকার কচুরিপানা পরিস্কার করেন। পরে জেলা প্রশাসন ও উপেজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোদালিছড়ার ঐ অংশের কচুরিপানা ও ঝোপঝাড় পরিস্কার করা হয়। যার ফলে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পায় শহর।
পৌরসভার দায়িত্ব পৌর এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ। তাহলে কেন শহরের বাইরের অংশে কাজ করবেন। এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র ফজলুর রহমান বলেন- শহরের একমাত্র পানি প্রবাহের উৎস কোদালিছড়া। পশ্চিমে ভাটি অংশে পানি বাধাগ্রস্ত হলে শহরের দিকে এসে তার প্রভাব পড়ে, বাড়ে জলাবদ্ধতা। আমি আমার শহর এলাকায় কোদালিছড়া নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করছি। কিন্তু ভাটি অংশে মোস্তফাপুর ও গিয়াসনগর এলাকায় দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরার জন্য বাঁশ ও কারেন্ট জাল দিয়ে বাঁধ দিয়ে কচুরিপানা আটকে রাখা হয়। ফলে উজানে সৃষ্টি হওয়ার শংকা দেখা দেয়।

গিয়াসনগর ইউনিয়নের আজমেরু এলাকায় কোদালিছড়ায় কচুরিপানার স্তুপ। ছবি : আইনিউজ
স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন- কোদালিছড়াকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সহযোগিতা প্রয়োজন। নিয়মিত কচুরিপানা ও ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার করতে হবে।
এ ব্যাপারে মেয়র বলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে পৌরসভা ২০১৮ সালে কোদালিছড়া আংশিক সংস্কার করেছে। সাবেক জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান এবং তোফায়েল ইসলাম নেহাল এক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেন। শহরের বাইরের বাকি অংশটুকু দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিয়মিত কচুরিপানা ও ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার রাখা। আমি পৌর এলাকায় সেটা নিয়মিত করছি। কিন্তু পৌরসভার বাইরের অংশটুকুও নিয়মিত পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করা জরুরি।
তিনি বলেন- কোদালিছড়া সংস্কার করে এখন গাইড ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে মৌলভীবাজার পৌরসভা। এটা বাস্তবায়ন হলে মৌলভীবাজারবাসির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে।
কিন্তু একদিকে কর্তৃপক্ষ প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাবে। অন্যদিকে আমরা ড্রেনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ফেলবো। কোদালিছড়ায় বাসাবাড়ির ময়লা ফেলবো। পলিথিনে, ময়লা-আবর্জনায় ভরে ওঠবে কোদালিছড়া। এটা তো হতে পারেনা।
একটা সময় সময় অল্প বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিতো। ফাটাবিলসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে পানি উঠতো। টিবি হাসপাতাল সড়কের ফাটাবিল অংশ বর্ষায় পানির নীচে থাকতো।
কোদালিছড়া সংস্কার করে এখন আর সে জলাবদ্ধতা নেই। এমনকি মনু নদী উপচে পানি প্রবাহিত হলেও কোদালিছড়ায় পানি জমেনা। বাসাবাড়িতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়না।
পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ না করলে, আমাদের সেই আগের কোদালিছড়া আর জলাবদ্ধতা যুগে ফিরে যেতে হবে। সব উদ্যোগ ও তৎপরতা মিছে হয়ে যাবে। আমাদের অবশ্যই বিনে ময়লা ফেলতে হবে।
আমার মনে হয় এ ব্যাপারে পৌরসভাকে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইনিউজ/এইচকে
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























