ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

মুজিবুর রহমান রঞ্জু

প্রকাশিত: ২২:১৩, ১ নভেম্বর ২০২০

সাড়ে ৭ মাস পর পর্যটকদের জন্য খুলল লাউয়াছড়ার দরজা

সাড়ে ৭ মাসের অধিক বন্ধ থাকার পর অবশেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকরা প্রবেশ করেন। 

করোনা সংক্রমণের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ১৯ মার্চ থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ ছিল। রোববার সকাল ১০টা থেকে একজন দুই জন করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের আগমন ঘটে। উদ্যানের প্রবেশ টিকেট কাউন্টার, ফটক এলাকার কর্মচারী সবাই মুকে মাস্ক পরে দায়িত্ব পালন করেন। মাস্কবিহীন কোন পর্যটক আসলে তাকে কাউন্টার থেকে প্রবেশের কোন টিকেটও দেওয়া হয়নি।

কাউন্টার থেকে টিকেট নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পর্যটকরা উদ্যানের ভেতর প্রবেশ করেন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় সংলগ্ন টিলার ওপর একটি খাাবারসহ রকমারী পণ্যের দোকান থাকলেও করোনা প্রতিরোধে রোববার থেকে এ দোকানটিও বন্ধ রাখে বন্য প্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় সংলগ্নটিলার ওপরের দোকান মালিক হাতিম আলী বলেন, এ উদ্যানে শুরু থেকে তিনি দোকান পরিচালনা করেছেন। উদ্যানে আগত পর্যটকরা এ দোকান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতেন। গত ১৯ মার্চ থেকে জাতীয় উদ্যানে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে টানা সাড়ে ৭ মাস তার দোকান বন্ধ ছিল। আজ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটক প্রবেশ করতে পারলেও বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নিদের্শে তার দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ইকো ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং বলেন, সাড়ে ৭ মাস বন্ধ থাকার পর রোববার প্রথম পর্যটকদের উদ্যানে প্রবেশের অনুমতি দিলে আজ প্রায় ২ শতাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে।

লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ফিলা পত্মী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিছুটা নিয়ন্ত্রিতভাবে পর্যটক প্রবেশ করায় এ বনের বাসিন্দা হিসেবে তারা খুশী।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, মাস্কবিহীন কোন পর্যটক উদ্যানে প্রবেশ করতে পারছেন না। পর্যটকরা মাস্ক পরে টিকেট নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভেতরে প্রবেশ করছেন।

তিনি আরও বলেন কোন জাতীয় উদ্যান ও সাফারী পার্কের ভেতর কোন প্রকার দোকানপাঠ থাকে না। তাই এখন থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরও দোকান থাকবে না বলে যে দোকান ছিল তা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। উদ্যানের বাইরে ৩টি দোকান খোলা থাকছে। 

আইনিউজ/মুজিবুর রহমান রঞ্জু

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়