শাহ শরীফ উদ্দিন, সিলেট
আপডেট: ০০:৩৩, ৫ মার্চ ২০২১
সিলেটে গাছের আগায় ঘর
গাছের আগায় দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মিলে ৪০ ফুটের এক কক্ষের ঘর।
'যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন’- এ প্রবাদটি সকলেরই জানা। কিন্তু বাস্তবতা কতটুকু? কখনো কি ছাই উড়িয়ে অমূল্য রতন মেলেছে?
এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের কটুখালিরপার গ্রামের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মিলে ৪০ ফুটের এক কক্ষের ঘর। যে ঘরের একমাত্র খুঁটি বজ্রপাতে ঝলসে যাওয়া একটি গাছ।
বছর দুয়েক আগে বজ্রপাতে গাছের আগা থেকে উপরের অংশ পুড়ে যায়। এরপর থেকে মরা গাছটি অবহেলিত ছিল।
এদিকে ছুটি কাটাতে নিজ বাড়িতে আসেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী জিল্লুর রহমান খান। মরা গাছটি দেখে তার মাথায় আসে ভিন্ন এক চিন্তা। বিশালাকারের এ গাছের আগাতেই তৈরি করেন ৪০ স্কয়ার ফুটের একটি সবুজ ঘর।
এক বছর আগে গাছের আগায় তৈরি করা ঘরটিকে ঘিরেই এখন আলোচনায় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের কটুখালিরপার গ্রাম। যেহেতু এমন ঘর দেশেই প্রথম তাই যে কারো প্রশ্ন আসতেই পারে কি করে সম্ভব?
মাটি থেকে অন্তত ২০ ফুট উঁচু একটি গাছের আগায় বানানো এক ঘর। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের কটুখালিরপার গ্রাম থেকে ছবিটি তুলেছেন শাহ শরীফ উদ্দিন
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো শৈল্পিক এক নির্মাণ। গ্রামের একদম শেষাংশে মাটি থেকে অন্তত ২০ ফুট উঁচু একটি গাছের আগায় বানানো এ ঘর। পাশেই একটি কাঠের সিড়ি। ঘরের ভেতর ১০ ফুট জায়গা, উঁচু আরও ১০ ফুট। তাই চারপাশের হিসেবে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ৪০ ফুট। ঘরের চালে কেবল টিন থাকলেও দেয়াল থেকে শুরু করে সকল কিছুই বানানো হয়েছে কাঠ দিয়ে। প্রবেশের জন্য একটি কাঠের দরজা আর ৩ টি জানালা।
উন্নত বিশ্বে এসব ঘরকে 'ট্রি হাউস' বা 'গাছবাড়ি' বলা হয়ে থাকলেও আমাদের দেশে এর কোনো নাম নেই। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব ঘরের দেখা মিললেও বাংলাদেশে হয়ত এটাই প্রথম।
অন্যান্য দেশে এই ধরণের ঘর তৈরি করা হয় কিশোর-কিশোরীদের খেলাধুলা কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের মনোরঞ্জন ও আনন্দঘন সময় অতিবাহিত করতে। যেহেতু প্রবাসীঅধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের আরেক নাম 'দ্বিতীয় লন্ডন', সে হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষ এমন উন্নত চিন্তা করতেই পারেন।
কিন্তু যে চিন্তা পরিত্যক্ত গাছকে ঘিরে সে চিন্তায় এলাকার মানুষের ভাবনা কেমন তারও উত্তর মিলল স্থানীয় বশির আহমদ নামের একজনের মুখ থেকে। তিনি বলেন, 'আমি নিজেও একজন নির্মাণ শ্রমিক। কিন্তু এরকম একটি ব্যতিক্রম চিন্তা আর কখনো দেখিনি। কয়েক বছর আগে মরে যাওয়া একটি গাছকে কাজে লাগিয়েই সুন্দর একটি ঘর।'
কয়েক বছর আগে মরে যাওয়া একটি গাছকে কাজে লাগিয়েই সুন্দর একটি ঘর, যেনো শৈল্পিক নির্মাণ। ছবিটি তুলেছেন শাহ শরীফ উদ্দিন
তবে যার চিন্তা থেকে এমন ঘর সেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী জিল্লুর রহমান খান বা তাঁর পরিবারের কেউ দেশে নেই। তবে আত্মীয়স্বজন আছেন। তারাই আসেন মাঝে মাঝে। ঘরে বসেন, উপভোগ করেন চারপাশের প্রকৃতি। তবে এখন অনেকেই এ ঘর দেখতে আসেন বলে জানালেন বশির আহমদ।
দুর্যোগ সহনীয় এই ট্রি হাউসটি তৈরিতে খরচ হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। ট্রি হাউসের জানালাগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে জেনো বাইরের দিকে তাকালেই দেখা যাবে প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য। যা মুহূর্তেই মুগ্ধতা ছড়ায়।
বাড়ির বাসিন্দারা সকলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী হওয়ায় দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন আব্দুল বাতেন নামে এক বৃদ্ধ। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য থেকে ছুটিতে দেশে আসলে বাড়ির লোকজন বিকাল ও সন্ধ্যাবেলায় গাছের এই ঘরটিতে বসে সময় কাটান, গল্প করেন।
আইনিউজ/শাহ শরীফ উদ্দিন
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























