শাহ শরীফ উদ্দিন, সিলেট
প্রকাশিত: ০০:১৬, ৭ মার্চ ২০২১
যে বার্তা দিলো ইনোভেটর’র ‘বই বিনিময় উৎসব’
বই বিনিময়ের হিড়িক বইপ্রেমীদের। ছবি: আইনিউজ
সিলেট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রবাদপ্রতিম সিংহ সংগীত এসেছেন শহিদ মিনারে। সাথে পাটের একটি ব্যাগ। পুরো ব্যাগে বই। সবগুলো তার পড়া। আবার বেরও হলেন ব্যাগ ভর্তি বই নিয়ে। নিজের কেনা পুরনো বইগুলো দিয়ে নিয়ে গেলেন আরও এক ব্যাগ বই। দৃশ্যটি শনিবার (৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায়; সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে চলা ‘বই বিনিময় উৎসব’ এর।
কতশত উৎসবের মাঝে ব্যতিক্রমী এ উৎসবের আয়োজক জীবন মান উন্নয়ন প্রয়াসী সংস্থা ‘ইনোভেটর’। দেশে বই পড়ুয়াদের একমাত্র সংগঠনটি এটি। এতোদিন বই পড়া উৎসব আয়োজন করলেও এবার করা হলো বিনিময়ের এ আয়োজন।
এমন আয়োজনে কেবল প্রবাদপ্রতিমই না, জড়ো হয়েছেন অনেকে। তবে প্রজন্মের আনাগোনাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিকেলে শহিদ মিনার গিয়ে দেখা যায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রায় সহস্রাধিক বই নিয়ে আসা হয়েছে উৎসবে। এসব বইয়ের কিছু সংখ্যক একটি টেবিলের উপর আর কিছু অংশ রাখা হয়েছে শহিদ মিনার মঞ্চের সামনের ঘাসের উপর। এ যেন বইয়ের পসরা। যা দেখে যেমন মুগ্ধ হওয়ার কথা, তেমনই বইয়ের প্রতি মানুষের এতো আগ্রহ রীতিমত অবাক করে দেয়। তাও আবার যে প্রজন্ম নেতৃত্ব দেবে আগামীর বাংলাদেশ তাদের আগ্রহ যদি হয় বেশি!
পছন্দের বই সংগ্রহে ব্যস্ত বইপ্রেমীরা
এ সময় দেখা যায়, এমসি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিমি ও কমার্স কলেজের একই বর্ষের শিক্ষার্থী তানহা এসেছেন কাধে ঝুলানো স্কুল ব্যাগ ভর্তি বই নিয়ে। ইতোমধ্যে নিমি অরুন দুতি রায়ের উপন্যাস ‘দ্যা গড অফ স্মল থিংস’ বই দিয়ে নিলেন হুয়ান আহমেদের ‘বহুব্রীহি’। আর তানহা হুমায়ুন আহমেদেরই একটি বইয়ের বিনিময় নিলেন ‘হিমু রিমান্ডে’।
কথা হয় দুই বান্ধবীর সঙ্গে। কেমন লাগছে এমন আয়োজন জানতে চাইলে দুজনেই অনড়গল বলতে থাকলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বইয়ের প্রতি আগ্রহ আছে। কোথায় বই মেলা হচ্ছে, কি না হচ্ছে খোঁজ রাখি। কিন্তু এমন আয়োজন জীবনেও দেখিনি।’
তবে বইয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও অনেক সময় একটির পর একটি বই কেনার সুযোগ হয় না হওয়ায় অনেক বই না পড়াই থাকে জানিয়ে দুই কিশোরী বলেন, ‘এমন আয়োজনে আমার পড়া বইগুলো দিয়ে আমি অন্য বই নিলাম। এতে নতুন গল্প পড়ার সুযোগ হলো, আবার অন্যজনকেও নতুন কিছু পড়ার সুযোগ করে দিলাম। আমরা চাইব এ সুযোগ সব সময় থাকুক। কেবল উৎসবেই সীমাবদ্ধ না থেকে চাইলেই যাতে বই বিনিময় করতে পারি’।
তারা বলেন, সিলেটে এমন আয়োজন এবারই প্রথম। বইয়ের প্রতি আগ্রহ থেকে বইমেলা হোক আর যাই হোক বই সম্পর্কিত সকল কিছুর খবর রাখেন কিন্তু এমন সুযোগ আর হয়ে উঠেনি।
তাহলে কি বার্তা দিতে চায় ইনোভেটর? এমন প্রশ্ন থেকে যদি ‘কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার লাইব্রেরিকে ধ্বংস করে দাও’ এই প্রবাদটির বিপরীতে চিন্তা করি তাহলে নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায়- মেধার চাষ করার বার্তাই দিতে চায় ইনোভেটর। তাইতো তাদের শ্লোগান ‘এসো পাঠ করি বিকৃতির তমসা থেকে, আবিষ্কার করি স্বাধীনতার ইতিহাস’। এজন্যই প্রতি বছর বই পড়া উৎসবের আয়োজন করে তাক লাগিয়ে দেয় সংগঠনটি। যার মূল্যায়ন হিসেবে এ সংগঠন ইতোমধ্যে পেয়েছে ‘জয় বাংলা ইউথ এওয়ার্ড’।
শহিদ মিনারের বেদিতে আয়োজকরা
আয়োজক সংগঠন ইনোভেটর এর সঞ্চালক প্রনব কান্তি দেব এক বাক্যে জানালেন মেধার চাষ করার বার্তা। বললেন, ‘বই হচ্ছে জ্ঞানের মাধ্যম। এ মাধ্যমটি শেল্ফে সাজিয়ে রাখলে তার আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না। বরং এটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিয়ে তার জ্ঞান ও মেধার বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। আর এজন্যই আমাদের বই বিনিময় উৎসব। আমরা চাই পড়া বইগুলো অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিয়ে যাতে একজন পাঠক নতুন বই পাঠ করতে পারে।’
শনিবার (৬ মার্চ) বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলে এ উৎসব।
উন্মুক্ত করে রাখা হরেক রকমের বই
উৎসব শুরুর পূর্বে ইনোভেটর এর এ আয়োজনকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা বলেন, পড়ুয়াদের সংখ্যা বাড়লেই সমাজ থেকে অন্ধকার দূর হবে। বইপড়ায় সন্তানদের উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান তারা।
ইনোভেটর এর মুখ্য সঞ্চালক, সিটি কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ এর সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সঞ্চালক প্রণবকান্তি দেব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ সিলেট এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিনহা ও সিলেটের প্রথম শহিদ মিনার ‘৮ই’ এর নকশাকার হায়দার হোসেন মুক্তা।
এছাড়াও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সংসদের সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি শামসুল আলম সেলিম, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এনামুল মুনির।
পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই বই বিনিময় উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ সময় নানা বয়সী পাঠকরা লাইন ধরে নিজেদের বই দিয়ে পছন্দের বই নেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন বয়সের বইপ্রেমী বই বিনিময়ে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন ইনোভেটর এর প্রধান সমন্বয়কারী প্রভাষক সুমন রায়, সমন্বয়ক আশরাফুল ইসলাম অনি, সুমিতা দাশ, আরাফাত হোসেন, সুলতান হোসেন চৌধুরী, ঈশিতা ঘোষ চৌধুরী, নিহাম মতিন,বদরুল ইসলাম শাকির ও প্লপা চৌধুরী প্রমুখ। বইপ্রেমীদের পাশাপাশি সিলেটের সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে বই বিনিময় হয়ে উঠে উৎসব মুখর।
আইনিউজ/এসএসইউ/আরআর
আরও পড়ুন
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
সর্বশেষ
জনপ্রিয়



























