Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২১ ১৪৩২

আই নি

প্রকাশিত: ১৩:১২, ৩০ আগস্ট ২০২৩

মালিকের স্বার্থ রক্ষার সরকারি প্রজ্ঞাপন বাতিল করার দাবী

গেজেট বাতিলের দাবিতে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি- আই নিউজ

গেজেট বাতিলের দাবিতে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি- আই নিউজ

চা-শ্রমিকের স্বার্থ বিরোধী গেজেট বাতিলের দাবিতে চা-শ্রমিকের ১০ দফা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা-বাগানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ বুধবার (৩০ আগস্ট) কালিটি চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কালোয়ারের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য কৃষ্ণ দাস অলমিকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চা-শ্রমিকের ১০ দফা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক এস এম শুভ, কুলাউড়া উপজেলা কমিটির আহবায়ক বিশ্বজিত দাশ, শ্রমিকনেতা দয়াল অলমিক, কালিটি চা-বাগানের শ্রমিক অনিমা অলমিক, গৌরী অলমিক, বিজয় দাশ, কৃষন গোয়ালা, আরতি দাস প্রমুখ। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চা-বাগানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি প্রজ্ঞাপন ১০ আগস্ট ২০২৩ শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড গেজেট আকারে প্রকাশ করে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বাজারে দ্রব্যমূল্যের যখন চরম উর্ধগতি তখন সরকার চা-শ্রমিকদের পূর্বের মজুরি দৈনিক ১৭০ টাকা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।


দেশের সকল চা-বাগানের শ্রমিকরা দু'বেলা দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তার দাবিতে যখন দীর্ঘদিন  ন্যুনতম মজুরি দৈনিক ৫০০ টাকার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তখন সরকারের পক্ষ থেকে মজুরি পূর্বের ন্যায় ১৭০ টাকা ঘোষণা চা-শ্রমিকদের সাথে তামাশা। কোন আলোচনা ব্যতীত একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রতিফলন। 

৫ শতাংশ হারে প্রতি বছর চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেখানে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় সেখানে প্রতি বছর ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির সরকারি ঘোষণা চরম অমানবিক, শ্রমিকের স্বার্থ বিরোধী এবং পক্ষপাতদুষ্ট। গেজেটে চা-শ্রমিকদের গ্র‍্যাচুইটি বাদ দেয়া হয়েছে যা শ্রম আইনের পরিপন্থী। 

সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন,  চা-শ্রমিকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সরকার বারংবার বাগান মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছেন। ইতিপূর্বে চা-শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ৩১,৫০০ টাকার পরিবর্তে মাত্র ১১,০০০ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও চা-শ্রমিকদের উপেক্ষা করে সরকার মালিকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। 

অবিলম্বে গেজেট প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এস এম শুভ সমাবেশে বলেন, সরকারকে মালিকের স্বার্থ রক্ষার জন্য এদেশের জনগণ ট্যাক্স দেয় না। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকদের বঞ্চিত রেখে উন্নয়ন হতে পারে না। আন্দোলনের মাধ্যমেই শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। 

চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে নতুন গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে সমাবেশের সভাপতি উত্তম কালোয়ার বলেন, গেজেট বাতিলের দাবিতে দেশের সকল চা-শ্রমিককে রাজপথে নামতে হবে। আর তাতে যদি সরকারের টনক না নড়ে তাহলে  দেশের সকল চা-শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে।

সমাবেশ শেষে গেজেট বাতিলের দাবিতে চা-শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়