Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ০৭ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২২ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ২৩ অক্টোবর ২০২৩

জেনে নিন মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী দুই পূজা মন্ডপ সম্পর্কে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি পূজা মন্ডপে প্রতিমা দেখছেন আগত এক বৃদ্ধ পুন্যার্থী। ছবি- আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি পূজা মন্ডপে প্রতিমা দেখছেন আগত এক বৃদ্ধ পুন্যার্থী। ছবি- আই নিউজ

মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী দুই পূজা মন্ডপ রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গা মন্দির বা লোহিত দুর্গা মন্দির এবং কুলাউড়ার কাদিপুর শিববাড়ি মন্দির। সিলেটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার সবচেয়ে বড় যে কয়টি আয়োজন হয় তার মধ্যে এই দুইটি অন্যতম। প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় পাঁচগাঁও মন্দির এবং কাদিপুর শিববাড়ি মন্দিরে লাখ লাখ পুণ্যার্থী ভিড় জমান। 

আই নিউজের আজকের এই প্রতিবেদনে জানাবো মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী এই দুই পূজা মন্ডপের বিস্তারিত। তাই পুরো প্রতিবেদনটি পড়ুন। 

পাঁচগাঁও লাল দুর্গা
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে ব্যতিক্রমী এক প্রতিমা লাল রঙের দেবী দুর্গা। কেউ কেউ বলেন লোহিত বর্ণের দুর্গা। এখানে দুর্গা দেবী পূজিত হন সদা জাগ্রতরূপে। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও যেখানে নেমেছে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রায় ৩০০ বছর আগে লালরঙা এ দুর্গা প্রতিমার পূজার প্রচলন শুরু হয়  প্রয়াত সর্বানন্দ দাসের হাত ধরে। অবশ্য এ নিয়ে এলাকায় বেশকিছু লোকশ্রুতি প্রচলিত আছে।

পাঁচগাঁও লাল দুর্গা মন্দিরের লাল বর্ণের দেবী দুর্গা। 


পূজামণ্ডপের পুরোহিত পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘স্বর্গীয় সর্বানন্দ দাস ছিলেন সাধক পুরুষ। একবার আসামের কামরূপ-কামাক্ষা বাড়িতে গিয়ে পূজার জন্য পাঁচ বছরের একটি মেয়ে চাইলে স্থানীয় লোকজন তাকে একটি মেয়ে দেন।
‘সর্বানন্দ দাস সেই মেয়েকে পূজা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে মেয়েটির রঙ বদলে লাল হয়ে ওঠে। মেয়েটির মধ্যে স্বয়ং দেবী ভর করেন বলে জনশ্রুতি আছে। মেয়েটি তখন সর্বানন্দ দাসকে বলেন, 'তুমি আমার কাছে বর চাও। আমি তোমাকে বর দিব।' ‘সর্বানন্দ দাস তখন তার কাছে বর চাইলেন। দেবী তখন নির্দেশ দিলেন পাঁচগাঁওয়ের প্রতিমার রঙ লাল হবে। সাধক সর্বানন্দ দাস দেবীকে রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে যেন দেখা দেন সেই আকুতি জানান। সেই থেকে এখানে লাল বর্ণের মূর্তির পূজা হয়ে আসছে এবং এখানে সাধনায় প্রসন্ন হয়ে মা দুর্গা তাকে দেখা দেন।’

পাঁচগাঁও দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা বসেছে। নানা জাতের পণ্য নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন মণিহারি দোকানিরা। লালদুর্গা দেখতে আসা পুন্যার্থীরা দেবীদর্শনের পর চষে বেড়াচ্ছে পূজাকে ঘিরে বসা এসব দোকানে দোকানে। এতে করে পুরো পাচগাও মন্দির এলাকা রূপ নিয়েছে এক মহা উৎসবস্থলে।

কাদিপুর শিববাড়ি মন্দির 
কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শিববাড়ির প্রবেশমুখেই পাকা সুদৃশ্য তোরণ, ভেতরে কারুকাজসোভিত তিনটি মন্দির। এর মধ্যে একটির দোতলায় রয়েছে তৈরি করা হয়েছে উঁচু সহস্রভুজা দুর্গা প্রতিমা। দূর দূরান্ত থেকে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে কাদিপুরের শিববাড়িতে নেমেছে পুণ্যার্থীদের ঢল।

কুলাউড়ার কাদিপুর শিববাড়ি মন্দির। দূর থেকে মন্দিরের উঁচু গম্বুজগুলো পূন্যার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে সহজেই। 


শিববাড়ির মন্দিরের সামনে শান–বাঁধানো ঘাটের বড় পুকুর। বাড়ির ভেতরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি মন্দিরকে ঘিরে এখানে আসা পুণ্যার্থীদের ঢল।মন্দিরের দোতলায় স্থাপন করা হয়েছে ‘আনন্দ সেবাধাম’ নামের  দুর্গা প্রতিমা। সিমেন্টের তৈরি এই প্রতিমার উচ্চতা ২৩ ফুট। প্রতিমার সহস্র হাত। এ কারণে তাঁকে বলা হয় সহস্রভুজা। শিল্পীর রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সহস্রভুজা দেবীর সৌন্দর্য। 

জানা যায়, প্রখ্যাত বেতার সম্প্রচারক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র চণ্ডী পাঠের সময় দেবী দুর্গাকে কখনো দশভুজা, কখনো অষ্টাদশভুজা আবার কখনো সহস্রভুজা উল্লেখ করেছেন। মহিষাসুর বধের সময় দেবী যে বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন, তাতেও তিনি সহস্রভুজা ছিলেন। তাই সহস্রভুজা দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে নিয়মিত এই প্রতিমার পূজা হচ্ছে। তবে প্রতিমার বিসর্জন হবে না।

শত বছর ধরে শিব বাড়িতে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। শিব বাড়ির বাসিন্দা পুলক সোমের দাদুদের সময় থেকে এই মন্দিরে দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু হয়। মন্দিরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ হয়েছে  ভক্তদের সহযোগিতায় ।

এবছর নরসিংদীর একদল কারিগর সহস্রভুজা দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন। এতে সময় লেগেছে প্রায় চার মাস। খরচ কত পড়েছে জানতে শিব বাড়ি পুরোহিত সদস্যরা বলেন, মা আনন্দময়ীই (দেবী দুর্গা) সব কুলিয়েছেন।

এ বছর নিরাপত্তার জন্য শিববাড়ির বিভিন্ন স্থানে ২০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। 

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়