ইমরান আল মামুন
ঈদের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশে
ঈদকে সামনে রেখে দেশের স্বর্ণবাজারে এসেছে স্বস্তির খবর। টানা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে কিছুটা কমেছে স্বর্ণের দাম, যা ক্রেতাদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সাম্প্রতিক ঘোষণায় জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে—এবং তা ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সিদ্ধান্তে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। প্রতি ভরিতে প্রায় ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমে নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৭ টাকা। এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় এবং একই দিন বিকেল থেকেই নতুন দর কার্যকর করা হয়। ফলে আজ রবিবার পর্যন্ত বাজারে এই নতুন দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দামে পতন হওয়ায় সামগ্রিকভাবে মূল্য সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতিও এই মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নতুন নির্ধারিত দামের তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের দামেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ২১ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায়।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দামের ওঠানামা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়, যার ফলে কখনও দাম বাড়ে আবার কখনও কমে। এবারের এই মূল্য হ্রাস ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনলেও, ভবিষ্যতে দাম আবার বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
চলতি বছরে স্বর্ণের দামের ওঠানামার চিত্রও বেশ চমকপ্রদ। এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালে মোট ৪৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, আর ১৯ বার কমানো হয়েছে। অর্থাৎ, বাজারে এখনও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান দেখলেও একই প্রবণতা চোখে পড়ে। সে বছর মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল। ফলে বোঝা যায়, স্বর্ণের বাজার দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা ঈদ উপলক্ষে স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের জন্য বর্তমান সময়টি বেশ অনুকূল হতে পারে। কারণ সাময়িকভাবে দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে যদি আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়, তাহলে দেশের বাজারেও দ্রুত এর প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের আগে স্বর্ণের দামে এই পতন ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির হলেও, বাজারের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। তাই যারা বিনিয়োগ বা কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
- সেরা পাঁচ হরর মুভি
- নিউ জার্সির চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রীমঙ্গলের ২ নির্মাতার ৬টি চলচ্চিত্র
- ‘হাওয়া’ দেখতে দর্শকদের ভিড়, খোদ নায়িকা সিঁড়িতে বসে দেখলেন সিনেমা
- লুঙ্গি পরায় দেওয়া হয়নি সিনেপ্লেক্সের টিকেট, সেই বৃদ্ধকে খুঁজছেন নায়ক-নায়িকা
- শোকের মাসে শ্রীমঙ্গলের স্কুলগুলোতে প্রদর্শিত হলো ‘মুজিব আমার পিতা’
- শাকিবের সঙ্গে বিয়ে-বাচ্চা তাড়াতাড়ি না হলেই ভাল হত: অপু বিশ্বাস
- গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর শোক
- বিয়ে করেছেন মারজুক রাসেল!
- নারী বিদ্বেষীদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন যাত্রা শুরু : জয়া আহসান
- প্রিন্স মামুন এবং লায়লার বিচ্ছেদ

























