কবির য়াহমদ
জুলাই-বিপ্লব থেকে জুলাই-সন্ত্রাস: আসিফের এ কেমন স্বীকারোক্তি
কবির য়াহমদ
জুলাইকে ‘বিপ্লব’ দাবি করা হলো, ‘গণঅভ্যুত্থান’ দাবি করা হলো; জুলাইয়ের অংশগ্রহণকারীদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ বলা হলো; ওই সময়ে মারা গেছেন দাবি করা লোকদের ‘জুলাই শহিদ’ বলা হলো; অথচ দেখুন এর কুশীলবদের অন্যতম আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নিজেই জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘ভায়োলেন্স’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
আসিফ মাহমুদ বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, ‘ভায়োলেন্স’ চাইলে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না। এর প্রমাণ হিসেবে ভায়োলেন্স করার সক্ষমতা তারা জুলাই অভ্যুত্থানে দেখিয়ে দিয়েছেন বলে দম্ভোক্তি করলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া যে ভাষায় জুলাইকে উপস্থাপন করলেন, এর মানে কি এই দাঁড়ায়:
১. জুলাই বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান নয়; এটা কি ‘জুলাই সন্ত্রাস’;
২. জুলাইয়ের অংশগ্রহণকারীরা জুলাইযোদ্ধা নয়, তারা কি ‘জুলাই সন্ত্রাসী’;
৩. মৃত দাবি করা লোকজনেরা কেউ জুলাই শহিদ নয়; এদের কেউ কেউ কি ‘আত্মঘাতী’ আর বাকিরা কি ‘অপঘাতে মৃত’?
কথাগুলো আগে থেকে বলা হচ্ছিল, কিন্তু জুলাইয়ের কুশীলবদের শীর্ষ দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কারও স্বীকারোক্তির দরকার ছিল। আসিফ মাহমুদ কি সেটাই করলেন?
তবে আসিফ মাহমুদ যেভাবে জুলাইকে আঁকলেন, এর সবটা এমন ছিল বলে আমার মনে হচ্ছে না। বেশিরভাগই ভুল বুঝে অংশ নিয়েছে। যারা জুলাই ভায়োলেন্সের নিয়ন্ত্রক ছিল, তাদের নেতৃত্ব-স্থানীয়দের বাদে বাকি সকল অংশগ্রহণকারীকে ভুল স্বীকার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা আবশ্যক। এজন্যে প্রয়োজনে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করে জুলাই সংশ্লিষ্টদের ‘তওবা’ করার একটা সুযোগ দেওয়া যেতেই পারে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জুলাই এবং নিজেকে নতুনভাবে যেভাবে চিনিয়ে গেলেন তাতে তার সংজ্ঞার্থেই তিনি ‘জুলাই সন্ত্রাসী’ হয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, আমার ধারণা এনসিপির এ নেতা জুলাইকে সামনে এনে নিজেদের শক্তিমত্তা বুঝিয়ে সরকারকে ভয় দেখাতে চেয়েছেন। তিনি সরকারকে ভয় দেখিয়েছেন, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন; এবং সরকার এখানে স্বাভাবিকভাবেই ভয় পেয়েছে। কারণ জুলাইয়ে এই আসিফ মাহমুদদের কাঁধে ভর করেই বিএনপি হচ্ছে এর প্রকৃত বেনিফিসিয়ারি।
আসিফ সরকারকে ভয় দেখিয়েছেন। সরকার ভয় পেয়েছে। তাই আসিফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে না। সরকারের এ ভয় আগে থেকেই ছিল। ফলে দায়মুক্তিকে তারা দিয়েছে আইনি ভিত্তি।
বিএনপি সরকারের অবস্থা হয়ে আছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর ‘আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি’ কবিতার মতো। “আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ/ এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ/ পুরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা! প্রতি সন্ধ্যেবেলা/ আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা/ করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে/ থাকি-তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে। আমি আক্রোশে/ হেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি,/ মশা হয়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে...”
হাহাহা, নতজানু নীতির দায়মুক্তি দেওয়াই উত্তম!
কবির য়াহমদ, প্রধান সম্পাদক, সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম
ইএন/এসএ
- বাংলাদেশে শিশু শ্রম: কারণ ও করণীয়
- পনেরো আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক দ্বন্ধ
মোশতাক বললেও মন্ত্রীদের কেউ সেদিন বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে যায়নি! - ২০২৩ সালে কী সত্যিই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আসছে?
- করোনা যেভাবে চিকিৎসকদের শ্রেণীচ্যুত করলো
- চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সমস্যা এবং সম্ভাবনা
- ফিলিস্তিনে প্রাণ হারাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কুকুর স্থানান্তরকরণ ও ভবিষ্যৎ
- শরীফার গল্প পড়তে আমাদের এতো কেন সমস্যা?
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী গণমাধ্যমের ভূমিকা
- রেমডেসিভির একটি অপ্রমাণিত ট্রায়াল ড্রাগ
























