ঢাকা, বুধবার ০৮ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ২৪ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১৮:৩৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বদিকন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্যাম্পের রোহিঙ্গা

কক্সবাজার.  দেশে যখন রোহিঙ্গা সংকট চরমে, ঠিক তখনই ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান  করায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ও একই আসনের বর্তমান এমপি শাহিন আকতার দম্পতির কন্যার বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানেও রোহিঙ্গাকে কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, টেকনাফের সাবেক ও বর্তমান এমপি দম্পতির কন্যার বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় শুক্রবার তাদের নিজ বাড়ি টেকনাফ পৌর শহরে। অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্যায়ন কাজের জন্য ৫টি ডেকোরেশনের দোকানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসব ডেকোরেশন দোকানির মালিকরা অনুষ্ঠানের খাবার পরিবেশনের জন্য সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকজন না পেয়ে এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছুটে যায়।

টেকনাফ সীমান্ত এলাকার মো. সৈয়দ মোল্লা নামের একজন ডেকোরেশন দোকানি ২০০ জন রোহিঙ্গাকে খাবার পরিবেশক হিসাবে ভাড়া করেন। এরপর এসব রোহিঙ্গাদের ডেকোরেশন দোকানির নাম লেখা একই রংয়ের গেঞ্জি গায়ে পরিয়ে অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ক্যাম্প থেকে গোপনে একই পোশাক পরিহিত রোহিঙ্গাদের বের করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে যান ডেকোরেশন দোকানি।

[caption id="attachment_17121" align="aligncenter" width="800"] কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ও একই আসনের বর্তমান এমপি শাহিন আকতার দম্পতির কন্যার বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান।[/caption]

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্যরা শুক্রবার এ খবর পেয়ে অভিযান শুরু করে দেয়। কর্তব্যরত সেনা সদস্যরা তৎক্ষণাৎ আটকিয়ে দেন ভাড়া করা রোহিঙ্গার একটি বহর। ওই বহরের ৭৮ জন রোহিঙ্গাকে সেনা সদস্যরা ধরে তৎক্ষণাৎ আবার ক্যাম্পে ফিরিয়ে দেন।

সেনা তৎপরতার খবর পেয়ে ক্যাম্পের চোরাই পথে অবশ্য ডেকোরেশন দোকানির আরো বেশ কিছু রোহিঙ্গা আলোচিত বিয়ের অনুষ্ঠানটিতে নেওয়া হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া স্থানীয় অনেকেই বলেছেন, তারা একই রংয়ের গেঞ্জি পরিহিত খাবার সরবরাহকারীকে অনুষ্ঠানে দেখতে পেয়েছেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেছেন- ‘আমিও শুনেছি অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরিবেশকের বদলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাড়ায় নিয়ে কাজে লাগানোর কথা।’ এ প্রসঙ্গে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেছেন-‘ বিয়ের অনুষ্ঠানে আনতে ক্যাম্প থেকে ডেকোরেশন দোকানি গোপনে রোহিঙ্গাদের বের করার সময় সেনা সদস্যদের হাতে ধরা খাবার কথা শুনেছি।’

জানা গেছে, অনুষ্ঠানের জন্য অর্ধ শতাধিক গরু-মহিষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ভারি বৃষ্টির কারণে লোক সমাগম কম হওয়ায় আরো বেশ কিছু গরু-মহিষ গোয়ালেই থেকে গেছে। ওদিকে সাবেক এমপি বদির কন্যার বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে একই আসনের উখিয়া-টেকনাফের ৫ শতাধিক যুবলীগের নেতা-কর্মীরা শুক্রবার আয়োজন করেন পৃথক এক মেজবান অনুষ্ঠান।

উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন এ বিষয়ে জানান- ‘আমরা যুবলীগ কর্মীরা সাবেক এমপি বদি ও তাঁর স্ত্রী এমপি শাহিন আকতারের জন্য তিনবার নির্বাচন করেছি। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা পৃথক মেজবানের আয়োজন করেছি।’ তিনি জানান, মেজবানে একটি বড় মহিষ ও কয়েকটি ছাগল জবাই করা হয়।

তবে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি জানান, অনুষ্ঠানের মেজবানে ৪০ হাজারের বেশি লোক খাওয়ানো হয়েছে। সবাইকে দাওয়াতও দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এমপি দম্পতির কন্যা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সামিয়া রহমান সানি’র সঙ্গে নেত্রকোনার বাসিন্দা ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দীনের কাবিন-আকদ সম্পন্ন হয় ন’মাস আগে।

Green Tea
সর্বশেষ