ঢাকা, রোববার   ১০ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৯, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ২১:২২, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

যেভাবে স্কুলশিক্ষক থেকে দুর্ধর্ষ জঙ্গি নেতা হলেন উজ্জল মাস্টার

জাতী গঠনের কারিগর বলা হয় শিক্ষকদের। কিন্তু সেই শিক্ষক যদি জঙ্গি নেতা হয়ে বেরিয়ে আসেন তাহলে ঘটনাটি হবে নিতান্তই দুঃখজনক। এবার এমন ঘটনাই ঘটেছে। তবে সেই শিক্ষক ধরা পড়েছেন র‍্যাবের জালে।

ময়মনসিংহের একটি কলেজ থেকে বিএ পাস করে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন এমদাদুল হক ওরফে উজ্জল মাস্টার। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় ওই স্কুল থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালে মুক্তাগাছায় একজন জঙ্গি নেতার বয়ান শুনে শায়েখ আব্দুর রহমানের কাছে বায়াত গ্রহণ করেন। এরপর জামালপুরে একটি আস্তানায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। জঙ্গিবাদে ব্যাপক তৎপরতা থাকায় দ্রুত তিনি ময়মনসিংহের অঞ্চলের দুর্ধর্ষ নেতা হয়ে ওঠেন।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলার সিটি ডেভোলপমেন্ট হাইজিংয়ের একটি আবাসিক ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এলিট ফোর্স র‌্যাব। তার বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউণ্ড গুলি, রাসায়নিক দ্রব্য, দেশীয় তৈরি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, উগ্রবাদী বই ও নগদ তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

একইদিন বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ এসব তথ্য জানান এলিট ফোর্সটির মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার এমদাদুল হক ওরফে উজ্জল মাস্টার শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাই ও সালাহউদ্দিন সালেহীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি জেএমবির শীর্ষ নেতাদের ময়মনসিংহে সফরকালীন সময়ে বিশেষ দায়িত্বে থাকতেন। বিশেষ করে নেতাদের গোপন আস্তানায় অবস্থান, মিটিং ও বয়ান আয়োজনে ভূমিকা রাখতেন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার চার জঙ্গিসহ জেএমবির জুলহাসসহ ১০ সদস্য তার কাছ থেকে বায়াত গ্রহণ করেন।

এই দশজনই বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। র‌্যাব আরও জানায়, জঙ্গি সদস্যদের কেউ কেউ এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে তারা (র‌্যাব) অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বিভক্ত জেএমবির একটি গ্রুপের কর্ণধার জঙ্গি নেতা এমদাদুল হক ওরফে উজ্জল মাস্টার। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকরের পর সংগঠনটি নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে জেএমবি নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলে জড়ায়। সংগঠনের ভেতর ও বাইরে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়। জঙ্গি নেতা সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে জেএমবি সুসংহত হয় এবং গড়ে তোলা হয় জেএমবি ‘সারোয়ার-তামিম গ্রুপ’।

র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জেএমবির আমির সারোয়ার জাহান এবং তামীম চৌধুরী। তারাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতার ছক তৈরি করেছিলেন। একই বছরের ৮ অক্টোবর র‌্যাবের অভিযানে পালাতে গিয়ে বিল্ডিং থেকে পড়ে জেএমবির তৎকালীন আমির সারোয়ার জাহান মারা যান। হলি আর্টিজান ঘটনার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ জঙ্গি (বিভিন্ন সংগঠন এবং জেএমবির আট শতাধিক সদস্য) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এতে জেএমবির সাংগঠনিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে।

র‌্যাব জানায়, জঙ্গিরা বিভিন্ন সময়ে লুট, ছিনতাই ও ডাকাতি মাধ্যমে অর্থ জোগাড় করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও রাজশাহীতে অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে গ্রুপে গ্রুপে বিচ্ছিন্ন পুরাতন জেএমবি সদস্যরা সংগঠন চাঙ্গা করার চেষ্টায় করছেন। মধ্যরাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ এর অভিযানে বসিলা থেকে জেএমবির একটি গ্রুপের কর্ণধার মো. এমদাদুল হক ওরফে উজ্জল মাস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়- ২০০৩ সালে মুক্তাগাছায় ব্রাক অফিসে ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল জঙ্গি এমদাদুল হকের। এছাড়াও নাশকতা ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঢাকা-ময়মনসিংহের বিভিন্ন থানায় ২০০৭, ২০১২, ২০১৫ ও ২০২০ সালে মামলা হয়েছে। ২০০৭ সালে মুক্তাগাছায় স্থানীয় জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে নাশকতার গোপন বৈঠক চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়েন। সে সময় এমদাদুল হক পালিয়ে যান।

এছাড়াও ২০০৭ সালে এমদাদুল হক তার নিকটাত্মীয় রফিক মাস্টারকে হত্যা করেন। রফিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের (জেএমবির) বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্যকে ধরিয়ে দেন। পরে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে রফিক মাস্টারকে হত্যা করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে যান। ২০০৮ থেকে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নাম পরিবর্তন করে ছদ্মবেশে অবস্থান করেন। এসময় তিনি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী, খেলনা বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা, রিকশাচালক ও রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন।

২০১২ সালে রাজধানীর উত্তরা থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন এমদাদুল হক। ‘গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা’র মামলায় দুইবছর কারাগারেও ছিলেন। ২০১৫ সালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার হন। ২০১৬ সালে জামিন নিয়ে পুনরায় আত্মগোপনে চলে যান। এসময়ও আগের মতো ছদ্মবেশে রাজবাড়ী, রংপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় অবস্থান করেন এবং জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে যায়। সম্প্রতি সময় জেএমবি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়লে সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হয়। ফলে তারা বিচ্ছিন্নভাবে স্বতন্ত্র কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়।

করোনাকালে সংগঠনের দাওয়াতের পাশাপাশি সদস্য সংখ্যা বাড়াতে অনলাইনে সক্রিয় হতে থাকেন। অর্থের যোগান দেওয়ার জন্য জঙ্গি এমদাদুল হক নাশকতা, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি কাজেও তার হাত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে র‍্যাব।

আইনিউজ/এসডি

ছেলের খোঁজে পায়ে হেঁটে নেপালে যান মা, ফিরেন ২৩ বছর পর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫

আদালত এলাকায় হামলা-ভাঙচুর-রক্তারক্তি ঘটনা। কি হয়েছিলো সেখানে?

কেন খেলা শুরুর ৭ মিনিটের মাথাতেই আর্জেন্টিনার সাথে ম্যাচ বন্ধ করে দিলো ব্রাজিল?

কুলাউড়ায় মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা, শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

Green Tea
সর্বশেষ