নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১৯:৩১, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
বাপা ও বেন-এর উদ্যোগে জ্বালানী, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর যৌথ উদ্যোগে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারী শুক্র ও শনিবার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো “জ্বালানী, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন” বিষয়ক দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে সরাসরি এবং অন্তর্জালে দেশ ও প্রবাস থেকে অংশগ্রহণ করেন জ্বালানী বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও পরিবেশ আন্দোলনের সদস্যরা।
এই সম্মেলনের সহ-আয়োজক এবং সহযোগী আয়োজক হিসেবে দেশের প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ প্রায় ৪০টি সংগঠন যুক্ত ছিল। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের পাশাপাশি প্রান্তীক পর্যায়ের প্রবন্ধকারগণ তাঁদের মূল্যবান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
শুক্রবার সকাল ১০:০০ টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সভাপতি সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন, নির্বাহী সহ-সভাপতি, বাপা। সম্মেলনের মূলুপ্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ড. নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি, বাপা ও প্রতিষ্ঠাতা, বেন। এছাড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য মো: ইউনুস মিঞা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সমালোচনাকে আমি স্বাগত জানাই। পরিবেশবিরোধী সকল দখলদারদের উচ্ছেদ করাটাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে বলে তিনি সবার প্রতি আহবান জানান। সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, প্রকৃতিকে আমরা যদি তাদের মতো থাকতে না দিই, প্রকৃতিও আমাদেরকে আমাদের মতো থাকতে দেবে না। করোনাকালীন পরিস্থিতি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি বলেন, উন্নয়নের দরকার আছে, উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের দরকার আছে। তবে সেই বিদ্যুৎ আমরা কিসের বিনিময়ে নিচ্ছি তা নিয়ে অবশ্যই আমাদের চিন্তা করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এই সম্মেলনের বিষয়বস্তু বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরী এবং যুগোপযোগী। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি পরিকল্পনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন করা একটি জটিল হিসাবের কাজ। সরকারের অন্যান্য কাজে যেমন প্রকল্পভিত্তিক ও বিদেশি পরামর্শকভিত্তিক সমাধান করা হয়, জ্বালানির ক্ষেত্রে তা করা যাবে না। কারণ এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার পরিকল্পনায় সব ধরনরে মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অনেক সময় সরকারের কাছে অর্থনৈতিক যুক্তির চেয়ে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয় ওঠে। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কিন্তু এখানে জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে অর্থনীতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও ইটভাটার কারণে বায়ু ও পানিদূষণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। এ দূষণ ক্যানসারসহ নানা ধরনের রোগবালাই বাড়িয়ে দিচ্ছে। গ্রামের গরিব মানুষের মধ্যেও এখন ক্যানসার রোগীদের ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসতে দেখা যাচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে একসঙ্গে মিলিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাপা সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা যাবে না। আর লাঠিটিলা বন কেটে সাফারি পার্ক নির্মাণ কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। এ উন্নয়ন টেকসই হবে না। বরং পরিবেশ ও জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করবে।
তিনি বলেন, ‘ভোটের জন্য যদি জনগণের কাছে যেতে হয়, তাহলে তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে। একটা অঞ্চলের জন্য উন্নয়নের ধারণক্ষমতা কতটুকু, তা–ও বিবেচনা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে রামপাল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে যে অস্বচ্ছতা আছে, তা দূর করা হয়নি। চার বছর আগে আমরা রামপাল নিয়ে ১৩টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা সরকারের কাছে তুলে দিয়েছি, কিন্তু সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করেনি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সকাল ১০:৩০টায় সম্মেলনের প্রথম সম্মিলিত সাধারণ অধিবেশন এর প্রতিপাদ্য ছিল অধিবেশন জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)’র সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। অধিবেশনে সহযোগী সভাপতি হিসাবে ভার্চুয়ালী যুক্ত ছিলেন বেন এর অন্যতম সদস্য ড. খালেকুজ্জামান। অধিবেশন সংগঠক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমÐলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। এই অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। অধিবেশনে মূল বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের জন্য যেটা ভালো আমরা সেটাই করবো। আমাদের দেশের পরিকল্পনায় এক ধরনের শূণ্যতা বিরাজ করে। ফলে আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের সকল প্রস্তাবনাই আমারা গ্রহণ করে নিই। আমরা যদি এই শূণ্যতা থেকে বের হয়ে আসতে পারি তাহলে আমাদের পরবর্তী পঞ্চাশ বছরের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সম্মিলিত সাধারণ অধিবেশন শেষে চারটি বিশেষজ্ঞ অধিবেশন এবং পাঁচটি সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সমন্বিত জ্বালানী ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা, ন্যায্য রূপান্তরের জন্য বিবেচনাযোগ্য বিষয়সমূহ, “জীবাশ্ন জ্বালানি সুন্দরবনসহ অন্যান্য সংরক্ষিত বনাঞ্চল”, “জীবাশ্ন জ্বালানি- কৃষি ও মৎস সম্পদের উপর নেতিবাচক প্রভাব”, “জীবাশ্ন জ্বালানি- পর্যটন ও লবণ শিল্পের উপর অভিঘাত”, “জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন- স্থানীয় অভিজ্ঞতা, “জ্বালানী, জলবায়ু ও উন্নয়ন-বিশ্ব প্রেক্ষাপট”, “নবায়নযোগ্য জ্বালানী ” প্রভৃতি বিষয়ের উপর প্রবন্ধ এবং আলোচনা উত্থাপন করা হয়। এসময় ব্যক্তব্য রাখেন, মো: ইউনুস মিঞা, উপ-উপাচার্য, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ; অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ, সহ-সভাপতি, বাপা; বিজ্ঞানী দীপেন ভট্টাচার্য; মোঃ আলাউদ্দিন, চেয়ারম্যান, ড; আহমেদ বদরুজ্জামান, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ; বদরুল ইমাম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ; সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নির্বাহী প্রধান, বেলা; শামসুল হুদা, প্রধান নির্বাহী, এএলআরডি; ইফতেখারুজ্জান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি); ড. আতিউর রহমান, সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রমূখ। এসময় বক্তাগণ বলেন, জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বক্তাগণ আরো বলেন, দেশের গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এসময় বক্তাগণ দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য একটি তহবিল গঠনের আহ্ববান জানান বক্তাগণ।
সমান্তরাল অধবিশেন শেষে পরকিল্পনা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন - স্থানীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে আয়োজিত সমান্তরাল সাধারণ অধিবেশনে বাপা'র বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এ অধিবেশনে সিলেট বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করেন বাপা সিলেট শাখার সাধারন সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ও বাপা হবিগঞ্জ শাখার সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল সোহলে। আব্দুল করিম কিম "অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনে সিলেটের প্রকৃতি বিনাশ" ও তোফাজ্জল সোহলে "শিল্প দূষণে হবিগঞ্জ" র্শীষক দুটি প্রবন্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতা ইতুলে ধরেন।

সব শেষে জ্বালানি নীতি বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের অভিমত বিষয়ক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হাসান জীবন, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমূখ।
শনিবার সন্ধায়গণমুখী এবং পরিবেশবান্ধব দেশের জ্বালানি নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে দুই দিনব্যাপী বাপা-বেন সম্মেলন সমাপ্ত হয়। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিকল্পনায় ১২ দফা ঘোষণা দেয়া হয়।সম্মেলনে জ্বালানির বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ঢাকা'র স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই সম্মেলনে ‘জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন’ বিষয়ক মোট ৬০ টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে আর্থিকভাবে বিপদে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে; যাদের হাতে জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে।
রেহমান সোবহান আরও বলেন, এই গোষ্ঠী অতি মুনাফার জন্য দেশের পরিবেশ ও জলবায়ুর ক্ষতি করে হলেও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এ গোষ্ঠীর হাত থেকে দেশের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করা।
সমাপনি আধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে বাপার সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক বলেন, রাজনীতি আর রাজনীতিকদের হাতে নেই। ব্যবসায়ী ও আমলারা রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। এ কারণে তাঁরা নিজেদের স্বার্থে এমন সব কাজ করছেন, যাতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।
সমাপনি অধিবেশনে বেন–এর প্রধান সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে লাগামহীন ও অনৈতিক পুঁজিবাদীব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকার প্রচুর ভালো নীতি গ্রহণ করে। দেশে আইন ও নিয়মের অভাব নেই। কিন্তু এগুলো সব শুভঙ্করের ফাঁকি। কোনো কিছু মানা হয় না। তাই আমরা বলছি, নতুন করে আইন করে লাভ নেই। বাস্তবায়ন বেশি জরুরি। সুশাসন আর রাজনৈতিক অঙ্গীকার না থাকলে তা জনগণকে সুফল দেবে না।
‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী’ প্রবাদটি উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে, তারা তো আর আমাদের কোনো কথা শুনবে না। তাই সামনের নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবেশ ধংসকারী জলবায়ু বিপন্নকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হবে আমাদের।’
এ ছাড়া বেন–এর সহসভাপতি কামরুল আহসান খান বলেন, দেশে উন্নয়ন প্রকল্প আর শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি শুরু হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে উদ্যোগ নিয়ে এগুলো থামানো না গেলে দেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় সম্মিলিত সাধারণ অধিবেশনে মূল আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, উন্নয়নের আগে বিবেচনা করতে হবে পরিবেশকে, যাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করার দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো তৈরি হচ্ছে করপোরেট স্বার্থকে সামনে রেখে যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশের উপরে।
গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা বলেন, ১৪৮টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র আমরা বসিয়ে রেখেছি আমাদের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে। এই সকল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ হিসাবে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা।
সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশমালা তুলে ধরেন বেনের প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম এবং বাপার এমএস সিদ্দিকী। এ সময় সম্মেলনের খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।
সম্মেলনের শেষ দিনের সমাপনী অধিবেশনে সম্মেলনকে ঘিরে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আইনিউজ/এসডি
আইনিউজ ভিডিও
কৃষক ও ফিঙে পাখির বন্ধুত্ব (ভিডিও)
পোষ মানাতে হাতির বাচ্চাকে নির্মম প্রশিক্ষণ
হাতির আক্রমণে হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























