ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১২ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৭, ২৮ জানুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১২:৫৮, ২৮ জানুয়ারি ২০২১

সেরা করদাতা হিসেবে ট্যাক্সকার্ড পাচ্ছেন যারা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১৯-২০ কর বছরে ব্যক্তিপর্যায়ে ৭৬, কোম্পানি পর্যায়ে ৫৩ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১২টিসহ মোট ১৪১টি ট্যাক্সকার্ড দেয়া হয়েছে।

জাতীয় ট্যাক্সকার্ড নীতিমালা, ২০১০ (সংশোধিত) অনুযায়ী সেরা করদাতা হিসেবে ট্যাক্সকার্ড প্রাপ্তদের তালিকার গেজেটও প্রকাশ করেছে এনবিআর।

ব্যক্তিপর্যায়ে ট্যাক্সকার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষ শ্রেণিতে ক্যাটাগরি রয়েছে পাঁচটি- সিনিয়র সিটিজেন, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী ও তরুণ। 

আর আয়ের উৎস বা পেশার মধ্যে ক্যাটাগরি ১৩টি- ব্যবসায়ী, বেতনভোগী, ডাক্তার, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, হিসাববিদ, নতুন করদাতা, খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী (গায়ক-গায়িকা) এবং অন্যান্য।

ব্যক্তিপর্যায়ের সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান, উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান, ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলী ও মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া জর্দা ব্যবসায়ী কাউছ মিয়া এবারো সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হাকিমপুরী জর্দার স্বত্ত্বাধিকারী। ২০০৮ সাল থেকে তিনি ব্যবসায়ী শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতার একজন। 

জাতীয় ট্যাক্সকার্ড নীতিমালা, ২০১০ (সংশোধিত) অনুযায়ী ২০১৯-২০ করবর্ষের জন্য সেরা করদাতাদের মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণিতে ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে কাউছ মিয়া ছাড়াও সেরা করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, মো. নুরুজ্জামান খান ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কামাল।

এদিকে ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান করদাতা হিসেবেও সেরার মুকুটটি হাতছাড়া করেননি। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্যও খেলোয়াড় শ্রেণিতে সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সাকিবের পর তামিম ইকবালও হয়েছেন খেলোয়াড় শ্রেণিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করদাতা। নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত ও নড়াইল থেকে নির্বাচিত এমপি মাশরাফি বিন মোর্ত্তোজা আছেন খেলোয়াড় হিসেবে করের মাঠে তৃতীয় স্থানে।

সাংবাদিক শ্রেণিতে এবারো সেরা করদাতা হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। এরপরেই আছেন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক ও প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান। 

সাংবাদিক শ্রেণিতে সেরা পাঁচ সাংবাদিকের অন্যরা হচ্ছেন- চ্যানেল আই’র পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য তারা সেরা করদাতার এ স্বীকৃতি পেয়েছেন।

ব্যক্তিপর্যায়ের গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সেরা করদাতা হয়েছেন মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু সালেহ মো. নাসিম (অব.), মো. জয়নাল আবেদীন, ইন্দুভূষণ ভৌমিক ও আবদুল মান্নান।

নারী ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছেন ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী পরিবারের লায়লা হোসেন ও ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমান। এই ক্যাটাগরিতে অন্য সেরা করদাতারা হলেন- আনোয়ারা হোসেন, পারভীন হাসান, পপি রানি ভৌমিক।

কোম্পানি পর্যায়ে ব্যাংকিং ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছে- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

টেলি-কমিউনিকেশন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছে গ্রামীণফোন। ওষুধ ও রসায়ন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছে- ইউনিলিভার বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনেটা ।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে মিডিয়া স্টার, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ, ট্রান্সক্রাফট ও মিডিয়া ওয়ার্ল্ড সেরা করদাতা হয়েছে। 

চামড়াশিল্প ক্যাটাগরিতে বাটা স্যু কোম্পানি, এপেক্স ফুটওয়্যার, লালমাই ফুটওয়্যার সেরা করদাতা হয়েছে।

অন্যান্য করদাতা পর্যায়ের ফার্ম ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের মেসার্স এস এন কর্পোরেশন ও সাহারা এন্টারপ্রাইজ, সিলেটের মেসার্স এএসবিএস, ফেনীর মেসার্স ছালেহ আহমেদ সেরা করদাতা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্যাটাগরিতে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ; ব্যক্তিসংঘ ক্যাটাগরিতে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট ও সেনা কল্যাণ সংস্থা হেড অফিস এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আশা, ব্যুরো বাংলাদেশ (এনজিও), ওয়ালটন হাইটেক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সেরা করদাতা হয়েছে।

সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে ব্যক্তিপর্যায়ে ট্যাক্সকার্ড দিতে ‘বিশেষ শ্রেণি’ এবং ‘আয়ের উৎস বা পেশা’ নামে আলাদা দু’টি ভাগ বা শ্রেণি করা হয়েছে। 

বিশেষ শ্রেণির মধ্যে রয়েছে- সিনিয়র সিটিজেন, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী এবং ৪০ বছরের কম বয়সী তরুণ। 

অন্যদিকে, ‘আয়ের উৎস বা পেশার’ আওতায় ১৩টি শ্রেণিতে রয়েছেন ব্যবসায়ী, বেতনভোগী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, হিসাববিদ, নতুন করদাতা, খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী (গায়ক/গায়িকা) এবং অন্যান্য। আর কোম্পানি পর্যায়ে করা হয়েছে ১৪টি শ্রেণি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে সেরা করদাতাদের ট্যাক্সকার্ড ও সম্মাননা দিয়ে আসছে এনবিআর। সেরা করদাতা হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবারও ১৪১টি ট্যাক্সকার্ড দেবে এনবিআর। 

এরমধ্যে ব্যক্তি রয়েছেন ৭৬ জন, বাকিগুলো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে-ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ, প্রকৌশল, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, জ্বালানি, পাটশিল্প, স্পিনিং ও টেক্সটাইল, ওষুধ ও রসায়ন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, আবাসন, তৈরি পোশাক, চামড়াশিল্প ও অন্যান্য খাত।

নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যাক্সকার্ডধারীদের সরকার বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানাবে। যেকোনো ভ্রমণে সড়ক, বিমান বা জলপথে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। স্ত্রী-স্বামী, নির্ভরশীল পুত্র-কন্যা নিজেদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেবিন সুবিধা দেয়া হবে।

আইনিউজ/এসডিপি

 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়