ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১২ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:২৮, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১৭:০৫, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কিভাবে মিলবে করোনার টিকা?

সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে গণহারে টিকাদান কর্মসূচি। রোববার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভার্চুয়ালি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। টিকাদান কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (সুরক্ষা) তৈরি করছে সরকার। যেখানে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তবে অনেকেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কেমন সেটা বুঝতে পারেন। কিভাবে সরকারের তৈরি সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে এই বিষয়টি নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

সুরক্ষা অ্যাপ তৈরির কাজ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ-টু-আই ও তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ।

কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে?

স্মার্ট মোবাইল ফোনে সুরক্ষা অ্যাপ ডাউনলোড করে ফোন নম্বর ও ন্যাশনাল আইডি কার্ড নম্বর দিয়ে ব্যবহারকারীদের অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে।  এসময় নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি নম্বর, অন্য কোন শারীরিক জটিলতা আছে কিনা, পেশা ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।

কারা আগে টিকা পাবেন, সেই অগ্রাধিকারের তালিকাটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকেও সংগ্রহ করা হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি করোনাভাইরাসের দুটি করে ডোজ পাবেন। তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের বিস্তারিতও অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে।

আগে টিকা পাবেন কারা?

বাংলাদেশ সরকার প্রথম ধাপে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট থেকে ৩ কোটি করোনার টিকা পাবে। যার থেকে টিকা দেয়া যাবে দেড় কোটি মানুষকে। প্রতি মাসে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার কথা এরইমধ্যে জানিয়েছে সরকার।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যারা সামনের সারিতে কাজ করেন, তারা আগে টিকা পাবেন। যেমন স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ষাট বছরের বয়স যাদের বেশি, নানারকম জটিলতা যাদের রয়েছে, তারা আগে টিকা পাবেন।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে জানিয়ে দেয়া হবে কোন মাসে কাদের বা কোন শ্রেণী পেশার মানুষ টিকা পাবেন। সে অনুযায়ী প্রত্যেককে মোবাইল অ্যাপে নিজেদের নিবন্ধন করতে হবে।

সরকারের কাছে নিবন্ধনের এই তালিকাটি থাকবে। এই তালিকা অনুযায়ী কবে কখন কাকে টিকা দেয়া হবে, কোথায় কোন সময় তারা টিকা পাবেন, সেটা ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত কেন্দ্রে হাজির হয়ে নিবন্ধনকারীরা টিকে নেবেন।  

কীভাবে টিকা দেয়া হবে?

বাংলাদেশে টিকাদানের ক্ষেত্রে  প্রথম ধাপে কোভিড-১৯ রোগীদের সেবায় সরাসরি নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখ সারিতে থাকা কর্মী এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল যেসব রোগী তাদেরকে করোনার টিকা দেয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে থাকবে বয়স্ক, স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে এমন বয়স্ক মানুষ, শিক্ষাকর্মী, জনপরিবহনের কর্মীরা।

দেশে তিন পর্যায়ে মোট পাঁচটি ধাপে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দ্বিতীয় পর্যায়ে একটি ধাপে ১১-২০ শতাংশ বা এক কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ ভ্যাকসিন পাবেন।

তৃতীয় ও সর্বশেষ পর্যায়ে মোট দুটি ধাপে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১-৪০ শতাংশ বা তিন কোটি ৪৫ লাখ ৬১ হাজারের বেশি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪১-৮০ শতাংশ বা ছয় কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।

কোন ধাপে কারা টিকা পাবেন?

প্রথম পর্যায়ের প্রথম ধাপে যে তিন শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে তারা হচ্ছেন সব ধরণের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং সমাজকর্মী যারা কোভিড মোকাবেলায় সরাসরি জড়িত। এদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, নার্স এবং মিডওয়াইফারি পেশায় নিয়োজিত কর্মী, মেডিকেল ও প্যাথলজি ল্যাব কর্মীরা, পেশাদার স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন কর্মীরা, সাইকোথেরাপির সাথে সংশ্লিষ্টরা, মেডিসিন পারসনেল, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালক মিলে তিন লাখ ৩২,০০০ জন।

সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা কর্মী যারা স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন ধাপে কাজ করে কিন্তু সরাসরি কোভিড-১৯ মোকাবেলার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় যেমন স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা কর্মী, ক্ল্যারিক, বাণিজ্য কর্মী, লন্ড্রি কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য গাড়ির চালক-এমন ১ লাখ ২০,০০০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

এছাড়া দুই লাখ ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা, পাঁচ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি ফ্রন্ট লাইনে কাজ করা আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য যেমন পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, আনসার, ভিডিপি সদস্য, তিন লাখ ৬০ হাজার অন্যান্য বাহিনী যেমন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড ও প্রেসিডেন্ট গার্ডের সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ৫০ হাজার কর্মকর্তা, ফ্রন্ট লাইনে কাজ করা সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী ৫০ হাজার জনকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।

এই ধাপে আরো যারা ভ্যাকসিন পাবেন তারা হচ্ছেন, জনপ্রতিনিধি, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা কর্মী, ধর্মীয় নেতা, দাফন ও সৎকারে নিয়োজিত কর্মী, ওয়াসা, ডেসা, তিতাস ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, স্থল, সমুদ্র ও বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী শ্রমিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মী, ব্যাংক কর্মী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম রয়েছে এমন রোগী, রোহিঙ্গা এবং বাফার, জরুরি ও মহামারি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মী।

প্রথম ধাপের দ্বিতীয় পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে ৬০ বছর বা তার অধিক বয়স্ক নাগরিকদের।

দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৫৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী নাগরিক, বয়স্ক এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষ, শিক্ষক এবং সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, প্রথম পর্যায়ে বাদ পড়া মিডিয়া কর্মী, দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষ, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য, গণপরিবহন কর্মী, হোটেল, রেঁস্তোরা ও ওষুধের দোকানের কর্মী, গার্মেন্টস শ্রমিক, যৌনকর্মী ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যরা।

স্মার্টফোন না থাকলে কীভাবে নিবন্ধন করবো?

দেশের অনেক প্রান্তিক এলাকা আছে যে এলাকাগুলো প্রযুক্তিসেবার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। কিংবা যাদের স্মার্টফোন নেই তারা যেকারও ডেক্সটপ থেকে ঢুকে এই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষের তথ্য অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও করোনা টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। 

নিবন্ধন না করলেও পাবেন টিকা

কেউ যদি কোনোভাবে নিবন্ধন নাও করতে পারবেন তিনিও নির্ধারিত কেন্দ্রে গেলে টিকা পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন টিকাকেন্দ্র থেকে কাওকে ফিরিয়ে দেয়া হবে না।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়