ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১২ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১৮:১৬, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

টিকাদান ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ছবি: পিআইডি

ছবি: পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে করোনাভাইরাসের টিকার জন্য নিবন্ধনের বয়সসীমা ৫৫ বছর থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, টিকাদানের নিবন্ধনের বিষয়ে মন্ত্রী (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) ও স্বাস্থ্যের মহাপরিচালককে (ডিজি) কিছু নির্দেশনা দিয়েছি এবং ডিজিকে মন্ত্রীর কাছ থেকে আরো বিস্তৃত নির্দেশ জেনে নেওয়ার কথা বলেছি।

আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই নির্দেশনায় তিনি কর্তৃপক্ষকে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরির কথা বলেন যাতে টিকা নেওয়ার সময় নিবন্ধিত ব্যক্তি তার বাবা, মা বা কোনো প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে আসতে পারেন এবং তারাও এই টিকা নিতে পারেন।

শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ মানুষকে টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গ্রামাঞ্চলে যে বিভ্রান্তি রয়েছে (টিকাদানের বিষয়ে) ইনশাল্লাহ তা শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জনগণকে টিকাদানের লক্ষ্যে নিবন্ধকরণ প্রক্রিয়া এখন থেকে কিছুটা উন্মুক্ত করা উচিত।

টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার পরে আমাদেরকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে হবে, বলেন তিনি।

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে নিলেও সবাইকে মাস্ক পরা এবং নিয়মিত হাত ধোয়া অব্যাহত রাখার নির্দেশনা নিশ্চিতেও কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা মনে করলে হবে না যে কেউ ভ্যাকসিন নিলে তার আর কিছুই হবে না, সবাইকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

প্রথম ডোজ নেওয়ার ৮-১২ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেয়ার ৮-১২ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। এ সময় ডিসি, ইউএনও এবং বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরতদের টিকা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের টিকা নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ

দেশের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য টিকা নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমি মনে করি তাদের খুব দ্রুত টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা উচিত, তাদেরকে তা বলতে হবে, দেশের সব পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ভ্যাকসিন নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা টিকা নেবেন তাদের অবশ্যই একটি কার্ড দিতে (জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো) হবে যাতে তারা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ক্ষেত্রে ওই কার্ড ব্যবহার করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কার্ডটি বিদেশে যাওয়ার সময় ভ্যাকসিন গ্রহণের প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের টিকা গ্রহণ

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের টিকা নেওয়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নিবন্ধন করলেই কেবল তারা এই ভ্যাকসিন নিতে পারবে।

তিনি বলেন, মহামারির সময়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জনগণকে সেবা প্রদানের জন্য স্ব স্ব এলাকায় কমিটি গঠন করেছেন।

তিনি বলেন, তারা রোগীদের পরিবহনে এবং মৃতদের লাশ দাফন করার বিষয়ে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

এতে আমাদের অনেক নেতা-কর্মী সংক্রমিত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই মারা গিয়েছেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়