ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১২ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১৮:০৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার যেন অপকর্মের নিরাপদ স্থান

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এখন যেন দুষ্কৃতিকারীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটিকে অপকর্ম ঘটানোর জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। 

২৪ ঘণ্টায় চলে দুষ্কৃতিকারীদের কারবার। রাত যত গভীর হয় তত অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয় তারা। সেখানে দিনে রাতে হচ্ছে ছিনতাই। 

এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শহিদ মিনার এলাকার বাসিন্দারা। এসব ঘটনার বেশির ভাগই মাদকসেবীরা ঘটাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশঙ্খলা বাহিনী। 

শহিদ মিনারকে অনেকেই বিনোদনকেন্দ্র মনে করে ঘুরতে আসেন। এই আশা যাওয়ার মাঝে সাধারণ মানুষরা পড়ে ওই চক্রদের হাতে। তখন তাদেরকে খোয়াতে হয় টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার। 

এমনি আজ (মঙ্গলবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহিদ মিনারে সামনে ২/৩ জন যুবক আবুল কালাম নামে এক রিকশা আরোহীর গতিরোধ করে। ধারালো অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। 

পরে আবুল কালামের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীক কাজে আমি গুলিস্তান থেকে রিকশাযোগে নিউমার্কেটে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে শহিদ মিনারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ি। তারা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি অনেক শুনেছি শহিদ মিনার এলাকায় দিনে-রাতে প্রায়ই ছিনতাই ঘটে। আজ আমি তাদের কবলে পড়লাম। 

এদিকে গত ৩১ জানুয়ারি শহিদ মিনারে পশ্চিম পাশ থেকে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। 

শাহবাগ থানার এসআই কমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, শহিদ মিনার এলাকায় দশনার্থীদের ভিড় থাকে। এর মধ্যেই দুষ্কৃতিকারীরা অপকর্ম ঘটায়। সেখানে পুলিশের পেট্রোল দল টহল দেয় ও নিরাপত্তা দেয়। 

তিনি আরো বলেন, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিহত মিম
এদিকে, গত ৩০ জানুয়ারি দিবাগত রাত তিনটার দিকে মিম আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচরে হাজী সুলতানের বাসায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত।

তিনি আরো জানান, নিহতের গলায় অর্ধচন্দ্র ও হাতে কালো দাগ রয়েছে। এছাড়া পিঠের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। 

ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস মিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়