ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১১ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০০, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ০০:০৯, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি

আজ ফুলে ফুলে ছেয়ে যাবে শহীদ মিনার

আজ ফুলে ফুলে ছেয়ে যাবে শহীদ মিনার

‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই,
আমি আমার আবেগ চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই
’ 

হ্যাঁ একমাত্র মায়ের ভাষাতেই আমরা আমাদের আবেগ ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারি।  সেই মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের দিন আজ। আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি, আমাদের ‘মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। 

অমর একুশের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে জাতি আজ। খালি পায়ে প্রভাতফেরির মিছিলে সবার কণ্ঠে থাকবে সেই অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি...’।

বাঙালি জাতির জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন আজ। ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।

সেদিন ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা অগণিত শহীদের রক্তে। তাদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নরও আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন-বরকত সালামকে আমরা ভালবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত সালাম আমাদের ভালবাসে। ওরা আমাদের ভালবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত।

ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নবপ্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
একুশে ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে।

মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মদানের এই অনন্য ঘটনা স্বীকৃত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। আজ বাঙালির সঙ্গে সারাবিশ্বেই দিনটি পালন করবে।

২১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটির দিন। এ দিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

রক্তের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। তবু প্রতিবছর একুশ আসে, বাঙালি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। আসুন আজ স্মরণ করি তাদের, যাদের জন্য আমরা আজ মায়ের ভাষায় কথা বলছি।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়