নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১৮:৪৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আজ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মদিন
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ
আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের এই দিনে নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মায়ের নাম জেন্নাতুন্নেসা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা এবং অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়; তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
শিক্ষাজীবন
স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন নূর মোহাম্মদ শেখ। সেখানে তিনি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
বিবাহিত জীবন
১৯৫২ সালে নিজ গ্রামের কৃষক ঘরের মেয়ে তোতাল বিবিকে বিয়ে করেন নূর মোহাম্মদ। তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর এবং তোতাল বিবির বয়স মাত্র ১২ বছর। তাদের ঘরে জন্ম নেয় দুই সন্তান। প্রথম সন্তানের নাম হাসিনা খাতুন এবং দ্বিতীয় সন্তানের নাম শেখ মো. গোলাম মোস্তফা।
কর্মজীবন
১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এ যোগদান করেন। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরির পর ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই তাকে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে তিনি যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান করেন। যুদ্ধ চলাকালীন যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা’র নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
যেভাবে শহীদ হন
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পেট্রোলটিকে তিন দিক থেকে ঘিরে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এতে একপর্যায়ে সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে হাতের এলএমজি দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করেন নূর মোহাম্মদ। তার এমন আক্রমণে পশ্চাৎপসরণ করতে বাধ্য হয় শত্রুপক্ষ। কিন্তু হঠাৎ শত্রুর মর্টারের একটি গোলা এসে ডান কাঁধে লাগলে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি।
নিজে আহত অবস্থায়ও নান্নু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন নূর মোহাম্মদ। এবার হাতের এলএমজি সিপাহী মোস্তফাকে দিয়ে নান্নু মিয়াকে নিয়ে যেতে বললেন এবং মোস্তফার রাইফেলটি নিজে নিয়ে তাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিতে শত্রুপক্ষকে নিজের দিকে ব্যস্ত করে তুললেন। এ অবস্থায় অন্য সঙ্গীরা তাকে তাদের সঙ্গে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তাকে বহন করতে গেলে সবাই মারা পড়বে; এই আশঙ্কায় রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হননি তিনি। বরং বাকিদের আদেশ দিলেন; তাকে রেখে চলে যেতে।
তার আদেশে সহযোদ্ধারা সবাই নিরাপদে সরে গেলেন। কিন্তু তখনও গুলি ছুঁড়ছিলেন রক্তাক্ত নূর মোহাম্মদ। একদিকে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্রসম্পন্ন পাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনী, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক; যার সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে, তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী বীরযোদ্ধাকে বেয়নেট চার্জ করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে এবং মস্তক বিদীর্ন করে ঘিলু ছড়িয়ে ফেলে। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
যেখানে সমাহিত
যশোরের কাশিপুর গ্রামে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছেই বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখকে সমাহিত করা হয়।
আইনিউজ/আরআর
জেনে নিন- এই দিনে আরও যাদের জন্ম
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক























