ঢাকা, শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ২৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৫৯, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ২৩:০৪, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

মৃত্যুর সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন কলেজছাত্রী মুনিয়া

মোসারাত জাহান মুনিয়া।

মোসারাত জাহান মুনিয়া।

সারাদেশে আলোচিত কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এবার আসলো চাঞ্চল্যকর আরেক তথ্য। মৃত্যুর সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মুনিয়া।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মাফরোজা পারভীনের আদালতে মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যার মামলা করেন তার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া। মামলার এজাহারের কপি থেকে জানা যায়, মৃত্যুর আগে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মুনিয়া।

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন মুনিয়ার বড় বোন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আনভীরের বাবা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, আনভীরের মা আফরোজা বেগম, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা, শারমীন, সাইফা রহমান মীম, কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং ইব্রাহীম আহমেদ রিপন।

বড় বোন নুসরাত মামলায় অভিযোগ করেছেন, মুনিয়ার মৃত্যুর পর যে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে; সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভিকটিম ২/৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

মামলায় আরও উল্লেখ রয়েছে- ‘মুনিয়া প্রতিদিন ডায়েরি লিখতেন। বাসায় তার লেখা চারটি ডায়েরি পাওয়া গেছে। যাতে আসামি আনভীরের সঙ্গে মেলামেশা ও শারীরিক সম্পর্কের কথা তারিখ দিয়ে লেখা রয়েছে। একটি ডায়েরির কাভারে লেখা ছিল ….. ‘Anvir I love you’

এজাহারে দাবি করা হয়, ‘ভিকটিম ২/৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ভিকটিম ১ নম্বর আসামিকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি অপর আসামিদের মধ্যে প্রকাশ পেলে তারা পারিবারিক সুনাম-সুখ্যাতি রক্ষায় ভিকটিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে ১ নম্বর আসামি ভিকটিমকে বলে, ‘তুমি কুমিল্লা চলে যাও। মা তোমাকে মেরে ফেলবে।’ এসময় ভিকটিম মুনিয়া ‘লাইভে’ এসে সব ঘটনা ফাঁস করে দেবে বলে ১ নম্বর আসামিকে হুমকি দেয়। পাল্টা জবাবে আসামি ভিকটিমকে বলে, ‘এত সময় আর তুই পাবি না’।এছাড়াও এজাহারের প্রদত্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ‘তদন্ত রিপোর্টে ভিকটিমের সঙ্গে মৃত্যুর পূর্বে Intercourse এর প্রমাণ মিলেছে, অর্থাৎ ভিকটিম মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষিত।

এছাড়া এজাহারে আরও বলা হয়, পুলিশ ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। এতে ভিকটিমের যৌনাঙ্গে জখম ও রক্ত পরিলক্ষিত হয়। ভিকটিমের পরিধেয় বস্ত্র, অন্তর্বাস, পাজামা, কাটা ছেঁড়া ছিল। যাতে প্রতীয়মান হয়, হত্যার পূর্বে ভিকটিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছিল এবং ভিকটিম ধর্ষিতা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল রাতে ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন মুনিয়ার বড় বোন তানিয়া। আদালত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এরপর মৃত্যুর সঙ্গে বিবাদীর কোনো 'সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি' জানিয়ে গত ১৯ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। পুলিশের ওই প্রতিবেদনে অনাস্থা জানিয়ে মামলার বাদী তদন্তের আবেদন করেছিলেন। গত ১৮ আগস্ট ঢাকার মহানগর হাকিম ওই আবেদন খারিজ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সায়েম সোবহান আনভীরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

মুনিয়ার আত্মহত্যার মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি আনভীরকে অব্যাহতি

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়