ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২০:৫০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ২১:৫৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

সুনাম ছড়াচ্ছে মিথি জামানের রয়েল কেকস

রয়েল কেকস-এর প্রতিষ্ঠাতা মিথি জামান ও তাঁর তৈরি কয়েকটি কেক।

রয়েল কেকস-এর প্রতিষ্ঠাতা মিথি জামান ও তাঁর তৈরি কয়েকটি কেক।

করোনাকালীন সময়ে আর কিছু হোক না হোক, আমরা অনলাইন অর্ডারের গুরুত্ব বুঝতে পারছি। খাবার অর্ডার লকডাউনের আগে অনলাইনে তেমন হতোই না বললে চলে, কিন্তু লকডাউনে অনলাইন অর্ডার জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে সামনের সারিতে হোমমেড খাবারগুলো। স্থানীয়ভাবে এগুলো ঘরোয়াভাবে তৈরি করে হোম ডেলিভারি দেওয়া হয়, এদের উপর ভরসাও থাকে গ্রাহকদের।

কিন্তু করোনা হোক যাই হোক, কেক ছাড়া একটি জন্মদিন কল্পনা করতে পারবেন? নিশ্চয়ই এটা বেশ দুঃখজনক। তাই লকডাউন থাকলেও জন্মদিনের মতো ঘরোয়া আয়োজনে দেখা গেছে কেকের চাহিদা। আর এমন অবস্থাতেই আত্মপ্রকাশ করেছেন বিশ্বস্ত কিছু উদ্যোক্তা- যারা দীর্ঘদিন অভিজ্ঞতার সাথে তাদের এসব কাজ চালিয়ে আসছেন। এমনই একজন মিথি জামান। আজ বলবো মিথি জামান নামের এই উদ্যোক্তার কথা- যিনি শুধু কেক বানিয়েই কুড়িয়ে নিয়েছেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। 

শখের বসে কেক বানানো শুরু করেন মিথি জামান। মৌলভীবাজারের শাহবন্দর গ্রামে বাড়ি, শখ পূরণ করতে প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরেও তিনি আজ হয়ে উঠেছেন সফল এক উদ্যোক্তা।

বিয়ের ১৩ বছর পর কেক নিয়ে কাজ শুরু করেন মিথি। বয়সকে যেনো তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিয়ে উদ্যম দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেছেন কাজকে। যখন তার হোমমেড কেকের শপ ‘রয়েল কেকস’ শুরু করার কথা ভাবেন তখন তার ৭ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ১ বছরের শিশুকন্যাও ছিলো। এই বয়সেও যে তিনি সফল হতে পেরেছেন তার পিছনে আছেন তার স্বামী ফুয়াদ জামান। তিনি প্রতি পদেই সাহায্যের হাত বাড়িতে দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন।

সর্বপ্রথম কেক নিয়ে কাজের আইডিয়া কিভাবে আসলো- এমন প্রশ্নের উত্তরে মিথি জামান বলেন, এই আইডিয়াটা আমার ছোটবোন তৃষা মমশাদ দিয়েছিলো। 

'শুরুটা আসলে ছিলো অনেক ঘরোয়া পরিবেশে, ঘরের মধ্যেই কাজের শুরু করি। বেশ মসৃণভাবেই শুরু- ভাবতেও পারিনি এতোটা মানুষ আমার কাজে সাড়া দিবে।'

তবে উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকেই চিন্তা করতে হয় অর্থনৈতিক দিকটার কথা। স্টার্টআপে কাজটি সামাল দেওয়া হবে কতোটা- বিষয়টা অর্থনীতির সাথে পুরোটাই প্রায় জড়িত। এ বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মিথি জামানের সাথে। তিনি বলেন, শুরুর দিকে অর্থনৈতিক চাপ আমার ক্ষেত্রে তেমন ছিলো না, কারণ আমার কাজটা ছিলো এমন কিছু যেখানে প্রচুর অর্থনৈতিক জোগান লাগে না। তাই স্বল্প পরিসরেই শুরু করি। আর ব্যাপারটা পুরোটাই ছিলো হোম বেসড- অর্থাৎ, হোমমেড প্রোডাক্ট তৈরি করে ডেলিভারি দিবো। তাতে আমার শোরুম বা দোকান এমন কিছুও লাগবে না। আর এভাবেই শুরু।

'ধীরে ধীরে আমার ‘রয়েল কেকস’-এর প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে শহরে। গ্রাহকদের মধ্যে ভরসা তৈরি হয়, আর তাতে আমার ইনকামও বাড়ে। অর্থৈনৈতিক দিক নিয়ে আর চিন্তা করতে হয়নি তেমন।'

'তবে শুরুর দিকে নেতিবাচক মন্তব্যও কমবেশি ছিলো। অনেকেই এটার আলোচনা-সমালোচনা করেন। তখন আমি ভালো কেক তৈরি করতে পারবো কি না এটা নিয়েও কথা ছিলো। তবে আমার মনে হয়, কেকের স্বাদটা তখন থেকেই ভালো ছিলো, হয়তো ডেকোরেশনটা তখন ততো ভালো করতে পারতাম না। কারণ আমার বেকিং এর কোনও ক্লাস করা হয়নি বা প্রশিক্ষণ নিতে পারিনি। 

এছাড়াও মৌলভীবাজার মফস্বল শহর হিসেবে অনেক উপকরণই ভালো মানের সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। যেসব ইনগ্রেডিয়েনস ব্যবহার করা হয় তার অনেকটার দেখাই পাই নি। আনসল্টেড বাটারটা পর্যন্ত পাই নি। এখন ধীরে ধীরে বিভিন্নজনের কাছ থেকে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা পাচ্ছি।

তবে হোমমেড প্রোডাক্ট রেডি করে ফেললেও যেহেতু আমি গ্রামে থাকি তাই সেটা ডেলিভারি দিতে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে। নিজেই ডেলিভারি দিয়েছি বাধ্য হয়ে।

বর্তমানে সফলতার মুখ দেখতে পারছে আমার এই কেক নিয়ে কাজ। গ্রাহকদের কাছ থেকে দারুণ রকমের সাড়া পাচ্ছি। তারা বেশ ভালো রিভিউ পাঠাচ্ছেন। আর তাদের বেশিরভাগই একবার অর্ডার দিয়ে পরে আবারও অর্ডার দেন। মোটামুটিভাবে মৌলভীবাজারের বেশিরভাগ অনুষ্ঠানেই (জন্মদিন, গায়ে হলুদ ইত্যাদি) আমার কেক পাঠানো হচ্ছে। শুধু গতমাসেই প্রায় ১১৫ পাউন্ড কেকের অর্ডার আমাকে নিতে হয়েছে, যদিও গ্রাহকদের চাহিদা ছিলো আরও বেশি। 

নতুন যারা এসব কাজে আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে মিথি বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথাতেই রাখা যথেষ্ট - সেটি কাজের মান। যে কাজই শুরু করা হোক তাতে গুণগত মান বজায় রাখতেই হবে। এমন না যে আরেকজনের দেখেই সেইম কাজ শুরু করে দিলাম, তারপর তার কাজটা নিজের নামে চালিয়ে দিলাম। কপি-পেস্টের এই কাজটা থেকে দূরে থাকতে হবে। ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে, চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দুইবছরের মাথায় আমার রয়েল কেকস এতোদূর আসতে পেরেছে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কারণেই। 

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়