Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৩ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ২৩:০৫, ১৮ নভেম্বর ২০২২
আপডেট: ২৩:২৩, ১৮ নভেম্বর ২০২২

মৌলভীবাজারে মায়াবী ট্র্যাকে দৌড়িবদদের মুগ্ধতা

ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী দৌড়িবদেরা। ছবি : এম এ মোস্তফা

ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী দৌড়িবদেরা। ছবি : এম এ মোস্তফা

জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক ফয়সাল তিতুমীর। কাজ করেন রাজধানী ঢাকায় একটি জাতীয় টেলিভিশনে। নিয়মিত দৌড়াতে পছন্দ করেন। দেশ-বিদেশের ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। তবে তাঁকে টানে মৌলভীবাজারের চা-বাগানের প্রান্ত ছুঁয়ে যাওয়া ট্র্যাকগুলো। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পিচঢালা সড়ক আর সতেজ চা গাছের ঘ্রাণ তাঁকে যেন মুগ্ধতায় বুঁদ করে রাখে।

ফয়সাল তিতুমীর আই নিউজকে বলেন, মৌলভীবাজারের ট্র্যাকগুলো বরাবরই আমার পছন্দ। মূলত এই ট্র্যাকের টানে ছুটে আসি এ জেলায়।

ফয়সাল তিতুমীরের মতো মৌলভীবাজারের ট্র্যাকের টানে ছুটে এসেছেন ভারতীয় দৌড়বিদ রমেশ সিং। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত একজন উর্ধতন কর্মকর্তা। 

রমেশ সিং বলেন, মৌলভীবাজারের প্রকৃতি ও ট্র্যাকে আমি বিমুগ্ধ। আমার মন চাইছে বারবার এখানে আসি।

বেঙ্গল কনভেনশন হল হাফ ম্যারাথন ২০২২
শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হয় ‘বেঙ্গল কনভেনশন হল হাফ ম্যারাথন ২০২২’। মৌলভীবাজার রানার্স ক্লাব ও মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটি যৌথভাবে এই আয়োজন করে। 

২১ কিলোমিটার এবং ১০ কিলোমিটার দূরত্বের ম্যারাথনে দেশ-বিদেশের ৬৫০ জন নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ করেন। এই আয়োজনে উৎসবে রূপ নেয় মৌলভীবাজার শহর।

সকাল সোয়া ছয়টায় এই দৌড় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিছবাহর রহমান।

দৌড়ে এগিয়ে যারা
প্রতিযোগিতায় ২১ কিলোমিটার দৌড়ে ছেলেদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন পাবনার আসিফ বিশ্বাস, দ্বিতীয় হয়েছেন যশোরের এলাহি সর্দার এবং তৃতীয় হয়েছেন ঢাকার সাগর আহমদ।

২১ কিলোমিটার দৌড়ে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মৌলভীবাজারের নাসরিন বেগম। তিনি শ্রীমঙ্গলের মেয়ে। বসবাস করেন সিলেটে। ৩৪টি ম্যারাথন প্রতিযোগিতার মধ্যে ৩২টিতেই তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিদেশ থেকেও তিনি সেরার মুকুট বয়ে এনেছেন। ২১ কিলোমিটার দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছেন সিলেটের সাদিয়া আক্তার রিনা এবং তৃতীয় হয়েছেন সিলেটের নার্গিস জাহান ওহাব।

১০ কিলোমিটার দৌড়ে ছেলেদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন কুলাউড়ার আশরাফুল আলম কাশেম, দ্বিতীয় হয়েছেন সিলেটের জৈন্তাপুরের গোলাম রাহাত তোফায়েল এবং তৃতীয় হয়েছেন সুনামগঞ্জের আব্দুর রহিম।

১০ কিলোমিটার দৌড়ে মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন সুনামগঞ্জের স্নেহা জান্নাত। দ্বিতীয় হয়েছেন সিলেটের আফসানা হালিমা এবং সিলেটরে লাকী আক্তার।

সমাপনী অনুষ্ঠান
সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা রহমান বাঁধন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোশাহিদ আহমদ চুন্নু, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল হামিদ মাহবুব, সাবেক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান, অধ্যাপক সৈয়দ মুজিবুর রহমান, বেঙ্গল ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মুনিম আহমদ রিমন, বিলাস-এর পরিচালক সুহাদ আহমদ, স্বাদ এন্ড কোং-এর পরিচালক ও আই নিউজ-এর প্রকাশক জাহেদ আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজারের জেলা ক্রিকেট কোচ রাসেল আহমদ, মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির অ্যাডমিন ইমন আহমেদ, মৌলভীবাজার রানার্স ক্লাবের সঞ্জীব মীতৈ প্রমুখ। 

মৌলভীবাজারের মায়াবী ট্র্যাক
জেলা শহরের শ্রীমঙ্গল সড়কে বেঙ্গল কনভেনশন হল থেকে শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ৬ টায় ম্যারাথন শুরু হয়। সেখান থেকে বেরিরপার পয়েন্ট হয়ে শাহমোস্তফা রোড, প্রেসক্লাব মোড়, কোর্ট রোড হয়ে সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে সোনাপুর-ইকোপার্কের সামনে দিয়ে কালেঙ্গা হয়ে দেওরাছড়া-প্রেমনগর চা-বাগানে যায়। সেখান থেকে ইউটার্ন নিয়ে শহীদ মুকিত সড়ক হয়ে মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়ামে শেষ হয়।

২১ দশমিক ১ কিলোমিটারের হাফ মারাথনে দৌড়িবিদেরা প্রেমনগর চা-বাগানে গিয়ে ফিরে আসেন। আর ১০ কিলোমিটার মিনি ম্যারাথনের দৌড়িবিদেরা কালেঙ্গা গিয়ে ফিরে আসেন। উভয় দলই মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে এসে দৌড় শেষ করেন।

আর এই ট্র্যাকের মায়াবী মুগ্ধতা ছুঁয়ে যায় দৌড়িবদদের মাঝে। বারবার ছুটে আসেন তারা। দৌড়বিদ নাসরিন বেগম বলেন, এই ট্র্যাক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ট্র্যাক। যার টানে দৌবিদেরা বারবার ছুটে আসেন।

মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির অ্যাডমিন ইমন আহমেদ আই নিউজকে জানান, দৌড়বিদদের মধ্যে কূটনীতিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, পুলিশ, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাসহ নানা পেশার ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। ছিলেন সত্তোরোর্ধ্ব ব্যবসায়ী সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন খান।

এই হাফ ম্যারাথনকে সুশৃংখল, সুন্দর ও সফল করতে ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন। 

আরো পড়ুন : মৌলভীবাজারে ২ দিনের পরিবহন ধর্মঘট

তুলে ধরা হয় চায়ের দেশ মৌলভীবাজার ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
আয়োজকরা জানান- এবারের ম্যারাথনে চায়ের দেশ মৌলভীবাজার এবং পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়।

পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়।

ম্যারাথনে ছিলো পর্যটন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত টি শার্ট ও মেডেল।

সাইক্লিং কমিউনিটির সঞ্জীব মীতৈ বলেন, ম্যারাথনে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে চায়ের দেশ মৌলভীবাজারের সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়। এই জেলার প্রকৃতি ও পর্যটনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি বিজড়িত স্থান তুলে ধরা হয়।

ম্যারাথনে দৌড়বিদদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় টি শার্ট ও মেডেল দেয়া হয়। এতে মৌলভীবাজার জেলার মানচিত্রের ভেতর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধের ছবি সংবলিত টি শার্ট ও মেডেল তৈরি করা হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে তিনি সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হন। সেখানে হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ রয়েছে।

সঞ্জীব মীতৈ জানান, ম্যারাথন উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি।

স্থবিরতাকে ভেঙে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে এই উদ্যোগ
মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির অ্যাডমিন ইমন আহমেদ বলেন, এটা আমাদের তৃতীয় ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজন। করোনার সময় সব স্থবির হয়ে পড়ে। অনেকের মধ্যে মানসিক বিষণ্নতা-হতাশা দেখা দেয়।

সকল অবসাদ আর স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে চলার প্রত্যয়ে এবারের আয়োজন।

সাইক্লিং কমিউনিটির সঞ্জীব মীতৈ বলেন, সুস্থ জীবনের জন্য নিয়মিত শরীর চর্চার বিকল্প নেই। নিয়মিত দৌড়ালে শরীর সুস্থ এবং মন উৎফুল্ল থাকে। কাজের গতি বাড়ে। উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। আমরা ম্যারাথনের মাধ্যমে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছি। আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।

আই নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও দেখুৃন

৭১ বছরের এক তরুণ, যার কাছে দৌড়ে যুবকেরাও হার মানে

মৌলভীবাজার হাফ ম্যারাথন | ম্যারাথন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন- ২০০৭-এ ছিলাম আসল জেলে, করোনায় ছিলাম ‘বড় জেলে’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুঃখ করে বলেন- ছাত্রদলের ছেলেরা রিকশা চালায়

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়