বিকাশ বিশ্বাস, শ্রীমঙ্গল
গরু খেতে খামারে ঢুকল বিশাল অজগর, শেষ পর্যন্ত যেভাবে রক্ষা
ছবি: আই নিউজ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি গরুর খামারে ঢুকে পড়া বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ইছবপুর এলাকায় জসীম উদ্দিনের খামারে এ ঘটনা ঘটে।
খামারের মালিক জসীম উদ্দিন জানান, সকালে হঠাৎ খামারের গরুগুলো অস্বাভাবিকভাবে চিৎকার ও নড়াচড়া শুরু করে। গরুর চেচামেচির শব্দ শুনে তিনি খামারের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ অবস্থান করছে। সাপটি দেখে খামারের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় গরুগুলোর চেচামেচি ও নড়াচড়ার কারণে অজগরটি খামারের ভেতর থেকে বের হয়ে বাইরে চলে আসে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে অনেকেই সাপটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন।
পরে খামারের মালিক জসীম উদ্দিন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, সঞ্জিত দেব এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা সতর্কতার সঙ্গে অজগর সাপটিকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর সাপটিকে নিরাপদে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে হস্তান্তর করা হয়। বন বিভাগ পরবর্তী সময়ে সাপটির শারীরিক অবস্থা ও উপযুক্ত আবাসস্থল বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অজগর কেন গুরুত্বপূর্ণ
অজগর বাংলাদেশে পাওয়া বড় আকারের সাপগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি বিষধর নয়। শক্তিশালী শরীর দিয়ে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধের মাধ্যমে শিকার করে। সাধারণত ইঁদুর, খরগোশ, বিভিন্ন পাখি ও অন্যান্য ছোট-বড় প্রাণী অজগরের খাদ্য তালিকায় থাকে।
প্রকৃতিতে অজগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইঁদুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, জলাশয়ের আশপাশ ও তুলনামূলক নিরিবিলি এলাকায় এদের বিচরণ দেখা যায়।
শ্রীমঙ্গল ও এর আশপাশের চা-বাগান, বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। খাদ্যের সন্ধানে কিংবা আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় বন্যপ্রাণী লোকালয় ও মানুষের বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসে। এমন পরিস্থিতিতে সাপটিকে না মেরে নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ।
বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টরা জানান, অজগর সাধারণত মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয় এবং মানুষকে এড়িয়ে চলতে চায়। তবে বড় আকারের বন্যপ্রাণী হওয়ায় সেটিকে ধরতে বা উত্ত্যক্ত করতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই লোকালয়ে অজগর বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়া উচিত।
স্থানীয়রা খামারে ঢুকে পড়া বিশাল অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেছেন।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার




















