Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ২৫ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১১ ১৪৩২

ইমরান আল মামুন

প্রকাশিত: ২১:২১, ১৯ মার্চ ২০২৬

চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তে ঈদ ২০২৬ নির্ধারণ

পবিত্র রমজান মাসের শেষ প্রান্তে এসে সবার চোখ ছিল আকাশের দিকে—শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাবে কি না, সেই প্রতীক্ষায়। অবশেষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকের পর পরিষ্কার হয়ে গেল এবারের ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ।

দেশের কোথাও শাওয়ালের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় রমজান মাস পূর্ণ ৩০ দিনই সম্পন্ন হচ্ছে, আর সে অনুযায়ী আগামী শনিবার, ২১ মার্চ, সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত এই কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সেদিন বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়ালের চাঁদের দেখা মেলেনি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে শুক্রবার, ২০ মার্চ, রমজান মাসের শেষ দিন হিসেবে পালিত হবে। মুসল্লিরা এদিন শেষ রোজা রাখবেন এবং তার পরদিন, অর্থাৎ শনিবার থেকেই শুরু হবে শাওয়াল মাস। সেই দিনই সারা দেশে উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব—ঈদুল ফিতর।

ঈদকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে জামাতের আয়োজন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন।

অন্যদিকে, ঘরমুখো মানুষের ঢলও শুরু হয়েছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে গ্রামের উদ্দেশ্যে মানুষ ছুটছে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর আনন্দই যেন সব কষ্টকে ম্লান করে দিচ্ছে।

এদিকে, বাজারগুলোতেও এখন ঈদের আমেজ স্পষ্ট। নতুন পোশাক, সেমাই, মিষ্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মানুষ। ছোটদের মাঝে ঈদের আনন্দ যেন সবচেয়ে বেশি—নতুন জামা আর ঈদ সালামির প্রত্যাশায় তাদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।

ধর্মীয় দিক থেকেও এই সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঈদের আগে ফিতরা আদায়, দান-সদকা এবং গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, চাঁদ দেখা কমিটির সর্বশেষ ঘোষণার মাধ্যমে এবার ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি এখন পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এক মাসের সংযম ও ইবাদতের পর আসছে খুশির ঈদ—যা নিয়ে সবার মাঝে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উচ্ছ্বাস ও আনন্দঘন পরিবেশ।

Green Tea
বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়