ইমরান আল মামুন
ঈদের নামাজের নিয়ম ঈদুল ফিতর
ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক বিশেষ দিন। মুসলমানদের জন্য বছরে দুটি বড় উৎসব—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
এই দুই ঈদের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো ঈদের নামাজ, যা আদায় করা ওয়াজিব। তবে বছরে মাত্র দুইবার এই নামাজ আদায় করার কারণে অনেকেই এর সঠিক নিয়ম নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান। তাই এখানে সহজ ও পরিষ্কারভাবে ঈদের নামাজের নিয়ম তুলে ধরা হলো, যাতে সবাই নির্ভুলভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন।
ঈদের নামাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
ঈদের নামাজ সাধারণ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো নয়। এর কিছু আলাদা নিয়ম রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই নামাজে কোনো আজান বা ইকামত নেই। এছাড়া এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হয়, যা ঈদের নামাজকে অন্য নামাজ থেকে আলাদা করে।
এই নামাজ সাধারণত বড় জামাতে, খোলা মাঠ বা ঈদগাহে আদায় করা হয়। মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করেন, যা ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে।
ঈদের নামাজের নিয়ত
ঈদের নামাজের জন্য আলাদা করে মুখে নিয়ত বলা বাধ্যতামূলক নয়। অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। তবে কেউ চাইলে মনে মনে এভাবে নিয়ত করতে পারেন—
“আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরসহ, ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করছি।”
প্রথম রাকাতের নিয়ম
ঈদের নামাজের প্রথম রাকাত শুরু হয় ইমামের সঙ্গে তাকবিরে তাহরিমা বলে। “আল্লাহু আকবার” বলে হাত বাঁধতে হয়। এরপর ছানা (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা...) পড়া হয়।
এরপর শুরু হয় অতিরিক্ত তাকবির। প্রথম রাকাতে মোট তিনটি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হয়। প্রতিটি তাকবিরের সময় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হয়। তবে তৃতীয় তাকবিরের পর হাত বেঁধে নিতে হয়।
প্রতিটি তাকবিরের মাঝে কিছুটা সময় বিরতি রাখা ভালো—প্রায় তিন তাসবিহ পড়ার সময়ের মতো। এরপর ইমাম আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা তেলাওয়াত করেন এবং সঙ্গে অন্য একটি সূরা মিলিয়ে দেন।
এরপর রুকু, সেজদা করে প্রথম রাকাত সম্পন্ন করা হয়।
দ্বিতীয় রাকাতের নিয়ম
দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম প্রথমে বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা তেলাওয়াত করেন, এরপর আরেকটি সূরা মিলান। সূরা শেষ হওয়ার পর আবার তিনটি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হয়।
প্রথম দুই তাকবিরে আগের মতো হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হয়। তৃতীয় তাকবিরের পর সরাসরি রুকুতে চলে যেতে হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী সেজদা সম্পন্ন করে বৈঠকে বসা হয়।
বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়ার পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা হয়।
নামাজ শেষে করণীয়
নামাজ শেষ হওয়ার পর সবাই মিলে তাকবির পাঠ করা উত্তম। সাধারণত বলা হয়—
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”
এরপর ইমাম খুতবা প্রদান করেন, যা শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই নামাজ শেষে চলে যান, কিন্তু খুতবা শোনা ঈদের নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খুতবার মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
তাকবির ও ঈদের প্রস্তুতি
ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকেই তাকবির পড়া শুরু করা উত্তম। এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম। বিশেষ করে ঈদের দিন সকালে নামাজের আগে পর্যন্ত তাকবির পড়া একটি সুন্নত আমল।
ঈদের দিন শুধু নামাজই নয়, বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নতুন বা পরিষ্কার কাপড় পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা—সবই এই দিনের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও আনন্দের প্রতীক। তাই সঠিক নিয়ম জেনে, মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যায়, এই সহজ গাইডটি আপনাকে ঈদের নামাজ সঠিকভাবে আদায় করতে সহায়তা করবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। ঈদ মোবারক!
- সেরা পাঁচ হরর মুভি
- নিউ জার্সির চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রীমঙ্গলের ২ নির্মাতার ৬টি চলচ্চিত্র
- ‘হাওয়া’ দেখতে দর্শকদের ভিড়, খোদ নায়িকা সিঁড়িতে বসে দেখলেন সিনেমা
- লুঙ্গি পরায় দেওয়া হয়নি সিনেপ্লেক্সের টিকেট, সেই বৃদ্ধকে খুঁজছেন নায়ক-নায়িকা
- শোকের মাসে শ্রীমঙ্গলের স্কুলগুলোতে প্রদর্শিত হলো ‘মুজিব আমার পিতা’
- শাকিবের সঙ্গে বিয়ে-বাচ্চা তাড়াতাড়ি না হলেই ভাল হত: অপু বিশ্বাস
- গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর শোক
- বিয়ে করেছেন মারজুক রাসেল!
- নারী বিদ্বেষীদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন যাত্রা শুরু : জয়া আহসান
- প্রিন্স মামুন এবং লায়লার বিচ্ছেদ

























