Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১০ ১৪৩২

প্রকাশিত: ০৭:৫০, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৭:৫০, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

'পাপা টাইগার' এমএজি ওসমানির জন্মদিন আজ

আইনিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানীর ১০১তম জন্মদিন আজ। ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ওসমানীর আদি পুরুষের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীরে।

ওসমানির বাবার নাম মফিজুর রহমান এবং মা জুবেদা বেগম। জানা যায় জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি প্রখ্যাত সাধক শাহ নিজাম উদ্দিন ওসমানির বংশধর। ১৩০৩ সালে হযরত শাহ জালাল (র.) যখন সিলেট আসেন তখন তাঁর সাথে ৩৬০ জন আউলিয়াও এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে শাহ নিজাম উদ্দিন ওসমানি ছিলেন অন্যতম। যিনি ইসলাম প্রচারের জন্য তৎকালীন বালাগঞ্জ উপজেলায় আসেন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এমএজি ওসমানির প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গুয়াহাটির কটনস স্কুল অব আসামে। ১৯২৩ সালে সেখানে ভর্তি হন ওসমানি। বাবা ছিলেন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। যিনি পরবর্তীতে আসামের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন। তাই বাবার এমন চাকরির সুবাদে ওসমানি ঘুরে বেরিয়েছেন সিলেট-আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে। ১৯৩২ সালে ওসমানি ভর্তি হন সিলেট গভর্মেন্ট পাইলট হাই স্কুলে। ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।

ওসমানি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দুরন্তপনা এক শিশু। যতোখানি দুরন্ত ছিলেন ততোখানিই ছিলেন পড়াশোনায় মনযোগি। যার ফলস্বরূপ ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি সমগ্র ব্রিটিশ ভারত উপমহাদেশের মাঝে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এই সাফল্যের জন্য ব্রিটিশ সরকার ওসমানির হাতে তোলে দেয় 'প্রিটোরিয়া' পুরষ্কার। পরবর্তীতে এই সাফল্যের ধারাভিকতায় ১৯৩৮ সালে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। বাবার ইচ্ছা পূরণে ১৯৩৯ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আবারও সাফল্য লাভ করেন। বাবা মফিজুর রহমান ভেবেছিলেন পিতার মতোই সম্মানীত পেশা বেছে নিবেন ওসমানি। কিন্তু ওসমানি তা করেন নি। বরং বেছে নিলেন সেনাবাহিনীর কঠর জীবন।

[caption id="attachment_15811" align="aligncenter" width="400"] জেনারেল এমএজি ওসমানি[/caption]

১৯৩৯ সালে তিনি রয়্যাল আর্মড ফোর্সে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। জেনারেল ওসমানি কিছুটা খাটো ছিলেন। ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইন্টারভিউর সময় তাঁকে বলা হয়, 'আপনি কি মনে করেন, আপনার উচ্চতা একজন সৈনিকের জন্য যথোপযুক্ত?' জবাবে ওসমানি বলেছিলেন, 'যদি হিটলারের মতো মানুষ এই পুরো পৃথিবী নাড়িয়ে দিতে পারে, তাহলে আমি কেন পারব না?' ওসমানির এমন জবাবে অবাক হয়েছিলেন সেদিন ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যরা।

দেরাদুনে ব্রিটিশ-ভারতীয় মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন কমিশনড অফিসার হিসেবে। ১৯৪২ সালে মেজর পদে উন্নীত হন। ১৯৪২ সালে ওসমানী ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের সর্বকনিষ্ঠ মেজর। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ান কমান্ডার হিসেবে বার্মা সেক্টরে নিযুক্ত ছিলেন ওসমানি।

১৯৫৬ সালে তিনি কর্নেল পদ মর্যাদা লাভ করেন এবং সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারের জেনারেল স্টাফ অ্যান্ড মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ওসমানী ছিলেন একজন সৎ, আদর্শবান ও নিষ্ঠাবান সৈনিক। বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করেও কর্মে নিঃস্বার্থ ও নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। সামরিক বাহিনীর সুনাম ও খ্যাতির চেষ্টায় আপ্রাণ পরিশ্রম করতেন তিনি। ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঐতিহ্য রক্ষায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজাগ। তিনি মাত্র দু’টি ব্যাটালিয়ন থেকে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সংখ্যা ছয়টিতে বৃদ্ধি করেন। এতে বাঙ্গালীর সংখ্যা ২ থেকে ১০ এর অধিক করা এবং বাঙ্গালীদের জন্যে নির্দিষ্ট সংখ্যা অনুপাতে কমিশন ও অফিসার পদসহ সর্বস্তরে বাঙ্গালী সিনিয়রদের জন্য পদ সংরক্ষণ করেন।

[caption id="attachment_15812" align="aligncenter" width="700"] এমএজি ওসমানির ব্যবহৃত গাড়ি[/caption]

তিনি কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় বাংলা কবিতা “চল চল চল” কে পাকিস্তান ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মার্চ সঙ্গী হিসেবে অনুমোদন লাভ করান। বেঙ্গল রেজিমেন্টের পুরোটাই গড়ে উঠেছিল তাঁরই নিরলস চেষ্টায়। বাঙ্গালী সেনাবাহিনীর প্রতি পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর আচরণে ও ব্যবহারে তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলেন। সামরিক বাহিনী থেকে প্রথমবার অবসর গ্রহণ করার পর ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের মন্ত্রীসহ উচ্চ পদের প্রস্তাব পেয়েও গ্রহণ করেননি তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। একাত্তরের ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন। ওই ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে এম এ জি ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন।

[caption id="attachment_15814" align="aligncenter" width="700"] বঙ্গবন্ধুর সাথে এমএজি ওসমানি[/caption]

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, ওসমানীকে করা হয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালীন ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এম এ জি ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন। তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত করা হয়।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়