শহীদ মিনারে গুলিবিদ্ধ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব
পুরান ঢাকার নিমতলি এলাকার বাসিন্দা তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব গুরুতর আহত হয়েছেন গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে। আহত রাকিবের পুরো নাম রাকিব ইসলাম। তার বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন।
জানা গেছে, তিনি রাজধানীর শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন।
ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই সেখানে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর কাছে গিয়ে দেখা যায়, এক তরুণ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জিএম ইশান বলেন, “আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে শহীদ মিনারের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে এগিয়ে যাই। তখন দেখি এক যুবক মাটিতে পড়ে আছেন এবং চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে আছে। পরিস্থিতি দেখে আমরা আর দেরি না করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি।”
এদিকে হাসপাতালে উপস্থিত রাকিবের বন্ধু মো. রনি জানান, ঘটনার আগে রাকিব কয়েকজন পরিচিত বন্ধু, যার মধ্যে কয়েকজন মেয়ে বন্ধুও ছিলেন, তাদের সঙ্গে শহীদ মিনারের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। ওই সময় এক যুবক এসে তাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়।
রনি বলেন, “গুলির শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে শহীদ মিনারের ওপরের দিকে যাই। গিয়ে দেখি রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার মাথায় গুলির আঘাত রয়েছে এবং শরীরের কয়েকটি জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন দেখা যায়।”
ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সন্দেহভাজন এক যুবককে ধরে ফেলেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে আটক ওই ব্যক্তি শাহবাগ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির জানান, শহীদ মিনার এলাকায় রাকিব নামের এক শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন একজন সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি এবং পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং হামলার পেছনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত বিরোধ বা পূর্বপরিকল্পিত হামলার বিষয়টি তদন্তে সামনে আসতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সঠিক তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। Meanwhile, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাকিবের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তার পরিবার ও বন্ধুস্বজন।
আরো পড়ুনঃ যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েশন করার খরচ কত ২০২৬
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

























