Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ৩ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ১৫ মার্চ ২০২৬

রেশনিং প্রত্যাহার

চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে।

রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরাইল যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাময়িকভাবে কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তবে ইতোমধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

এ অবস্থায় জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে দেশের সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত বেড়ে যায়। একই সময়ে বোরো ধানের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদাও বাড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আপাতত রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পরবর্তীতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়। সে সময় মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক দুই লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি যান ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈনিক সরবরাহের সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়। তবে ঈদকে সামনে রেখে এখন সেই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেশনিং ব্যবস্থার কারণে গত কয়েক দিনে অনেক এলাকায় ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কিছু জেলায় পাম্প মালিকদের অভিযোগ ও সরবরাহ সংকটের কারণে সাময়িকভাবে তেল উত্তোলনও বন্ধ ছিল। এতে পরিবহন খাত ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা জানান, সীমিত সরবরাহ ও বিক্রির বিধিনিষেধের কারণে পাম্প পরিচালনায় নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছিল। ঈদের আগে রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পরিবহন খাত ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি আনবে বলে তারা মনে করছেন।

তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তাই জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবারও নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়