Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২৫ ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:০৩, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দুই সপ্তাহের যু/দ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, হরমুজ খুলতে সম্মত ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর অনুরোধে তিনি ইরানে পরিকল্পিত বিমান হামলা থেকে সরে আসেন। তবে তিনি শর্ত দেন—ইরানকে দ্রুত ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।

নির্ধারিত হামলার সময়ের মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে এই ঘোষণা আসে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান স্থগিত রাখবে। পাশাপাশি, আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শিগগিরই নতুন দফা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘোষণার আগে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। একই দিনে সকালে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে”—এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেন, যা আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

তবে সর্বশেষ ঘোষণায় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার ভিত্তি হতে পারে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

আল জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভেদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, কারণ সম্ভাব্য হামলার বিকল্প ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।

তবে তেহরানে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। সাংবাদিক মোহাম্মদ ভাল জানান, এই যুদ্ধবিরতি পুরো সংঘাতের অবসান ঘটাবে, নাকি শুধু বড় ধরনের হামলা সাময়িকভাবে ঠেকাবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানকে আঞ্চলিক হুমকি থেকে সরাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই হামলাকে ‘উসকানিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ২,০৭৬ জন নিহত হয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে নিহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা সদস্য এবং ইসরায়েলে ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সংঘাতের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করলেও বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—ইসরায়েল এই সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলবে কি না।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে, তবে তা রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন।

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়