ঢাকা, বুধবার ০৮ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ২৪ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ৬ নভেম্বর ২০২১

বাস-ট্রাকের পর এবার বন্ধ হলো লঞ্চ

ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা করে বাড়ানোর প্রতিবাদের ট্রাক-লরি ও বাসের পর এবার লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার লঞ্চ মালিকদের সংগঠন ডাকা জরুরি বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের সদস্য ও অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের মালিক নিজামউদ্দিন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিজামউদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমাদের পক্ষে লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা আজ থেকেই লঞ্চ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সদরঘাট ছাড়াও দেশের কোথায় আজ থেকে লঞ্চ চলবে না।

গত বৃহস্পতিবার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর শুক্রবার থেকে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। তারা পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছে। তাদের দাবির মুখে রবিবার বিআরটিএ বৈঠক ডেকেছে।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ধর্মঘট তুলে নিতে আহ্বান জানালেও রবিবার বৈঠকের আগে তা তুলতে নারাজ পরিবহন মালিকরা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘট আজ দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি থামছে না। এমন অবস্থার মধ্যে আজ থেকে লঞ্চ না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় লঞ্চ মালিকরাও।

এদিকে ডিজেল-কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির কারণে সারাদেশে দ্বিতীয় দিনেও চলছে পরিবহন ধর্মঘট। বাস-ট্রাক সমিতিগুলোর এ ধর্মঘটে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষরা, অচল প্রায় সারাদেশ। এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করাতে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে তাতেও পণ্য পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেননি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা।

শনিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ধর্মঘট ইস্যুতে আলোচনা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় যান মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা। বৈঠক শেষে বের হয়ে সমিতির মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, যৌক্তিক সমাধান পেলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে।

গত বুধবার হঠাৎ করেই ডিজেল ও কেরোসিনের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, যা বুধবার রাত থেকে কার্যকর হয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধের ডাক দিয়ে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দেয় সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-মালিকরা। পরে সারাদেশে বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবিতেও ধর্মঘটও শুরু হয়। এ নিয়ে শুক্রবার থেকে সড়কে বের হওয়া সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন।

অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও সারাদেশে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ যাত্রীদের। যানবাহন না পেয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন তারা।

শুক্রবারের মতো শনিবারও সারাদেশে বাস বন্ধ আছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করছে রাস্তায়। রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে গাড়ির অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য মানুষের ভিড় করতে দেখা গেছে। বিআরটিসি বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে তাদের।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ