ঢাকা, শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪০, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০

পুরস্কারের আশায় মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তারক্ষীর বোমার গল্প

ছবি: আইনিউজ

ছবি: আইনিউজ

রাজধানীর বারিধারার আমেরিকান অ্যাম্বাসির অয়্যার হাউজ এলাকায় গত ২ ডিসেম্বর বোমা সদৃশ্য একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। সে সময় উদ্ধার করা ব্যাগে কী পাওয়া গিয়েছে ও কিভাবে ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়েছে তা নিয়ে দেখা যায় ধোঁয়াশা। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অ্যাম্বাসির স্টাফ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন।

তবে,পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) তদন্তে বিষয়টির আসল কারণ ধরা পড়ে। 

আজ বুধবার সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, সেদিন নিরাপত্তারক্ষী জাকির হোসেন নিজেই ব্যাগটি সেখানে রেখেছিলেন।  কর্মদক্ষতা দেখিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুরস্কার নিতে তিনি এটি করেছেন। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি ‘গার্ড অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

৫৪ ধারায় জাকিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সিটিটিসি উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।

এ ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিটিটিসি। এরপর তারা ওই ব্যাগের মালিককেও খুঁজে পায়।

দূতাবাসে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে শুধু ব্যাগটি ছুঁড়ে ফেলার ছবিই দেখা যায়। এরপর তদন্ত দল দেখতে পায় ব্যাগটি আসছে নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষের দিক থেকে। একটি ফুটেজে নিরাপত্তারক্ষীকে জানালা খুলে পর্দা সরাতে দেখা যায়। তারপর সেখান থেকে ব্যাগটি ছুঁড়ে ফেলতে দেখা যায়। ওই সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন জাকির।

জিজ্ঞাসাবাদে জাকির ওই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

জাকির পুলিশকে বলেন, পুরস্কারের আশায় এই ফন্দি করেছিলেন তিনি। এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় দূতাবাস এলাকা থেকে একটি ককটেল উদ্ধার করেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে এই কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়েছিলেন। একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মার্কিন দূতাবাসকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। জাকির ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী। ১৭ বছর ধরে এখানেই কাজ করছেন। 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়