হেলাল আহমেদ, আইনিউজ
দেশে আগামী জুন নাগাদ করোনায় ১৭ হাজার মৃত্যুর আশঙ্কা
ছবি: ফোর্বস
করোমাভাইরাসের নতুন প্রজাতি বেশ কয়েকটি দেশে পাওয়ায় আতংকিত গোটা বিশ্ব। নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসের সাথে মিল রয়েছে এমন একটি প্রজাতি সনাক্তের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা। তবে এবার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের আরেকটি দল আশঙ্কা করছে, আগামী জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
২০২১ সালের জুন নাগাদ করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৭ হাজার হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে যে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে সে কথাও জানিয়েছেন তারা।
১৪ ডিসেম্বর এক ভার্চ্যুয়াল সভার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের এই পূর্বাভাস জানিয়েছে বিশেষজ্ঞের এই দলটি। ৫ সদস্য বিশিষ্ট ওই দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সৈয়দ আবদুল হামিদ ও শাফিউন শিমুল, কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোফাখখার হোসেন, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নুসরাত জেবিন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল।
গত মে মাস থেকে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে সরকারকে নিয়মিত বিরতিতে করোনা সংক্রমণের পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন তারা।
কীভাবে পূর্বাবাস দিয়ে আসছে দলটি?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শাফিউন শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গ্রহণযোগ্য গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে গত ১০ মাসের সরকারি তথ্য, বাংলাদেশের জনসংখ্যা, সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থা—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
নভেম্বর থেকে বেড়েছে সংক্রমণ
গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী শীতের শুরু থেকেই দেশে বাড়তে থাকে করোনার প্রাদুর্ভাব। ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদল বলছে, ৭ নভেম্বরের পর থেকে করোনায় মৃতের সংখ্যা আবার বাড়তে থাকে৷ গত ১৭ নভেম্বর করোনায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়, যা ৭ নভেম্বর পরবর্তী সময়ে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড৷ আর সর্বশেষ ২৯ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ২৯ জন৷ নতুন সনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৭৮৮ জন৷
২২ থেকে ২৮ নভেম্বর দেশে করোনা সংক্রমণের ৪৮তম সপ্তাহ চলছে৷ এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩০ জনের৷ এর আগের ৪৭তম সপ্তাহে অর্থাৎ ১৫ থেকে ২১ নভেম্বর সময়ে করোনায় ১৭৭ জন মারা যায়৷
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, দেশে করোনার পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ালেও পরীক্ষার পরিমাণ আসলে বাড়েনি। দৈনিক নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা দেশের জনসংখ্যার তুলনায় কম হচ্ছে। তারা বলছেন কম পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে সংক্রমণের সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়।
দেশে দৈনিক কমপক্ষে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষা হওয়া দরকার বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। যা এখনো দেশে হয়নি। তাদের আশঙ্কা, সংক্রমণ আবার বাড়বে এবং তা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা বলছেন, ইতালির চেয়ে সংক্রমণ হার বাংলাদেশে কম। তবে বাংলাদেশে সংক্রমণ হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে মৃত্যুহার ইতালি বা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কম। তবে বাংলাদেশে মৃত্যুহার এই অঞ্চলের দেশ ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশি। পশ্চিমা কিছু দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে দুই থেকে ছয় গুণ বেশি।
প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা?
এদিকে করোনার শীতকালীন ঢেউ ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন ব্যবস্থায় না গেলেও স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক পরিধানের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মাস্ক ছাড়া ব্যক্তিদের জরিমানাও করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
যদিও তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিজ্ঞতা হলো, এখনো বাইরে বের হওয়া লোকজনের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ মাস্ক ব্যবহার করেন না৷ জরিমানা ও মাস্ক বিতরণ করেও তেমন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না৷ আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া এখন সব জায়গায়তেই স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে৷ তবে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ আছে৷ আর সময়মত করোনা ভ্যাকসিন পাওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার৷
বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির পূর্বাভাসবিষয়ক বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলেন, মহামারিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, উচিতও না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে মানসম্পন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধের কাজগুলোতে আরও জোর দিতে হবে।
করোনার জন্য সারা দেশে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যা এখনো বন্ধ রয়েছে। যাতায়াত ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরে তা উঠিয়ে নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরতে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানিয়েছেন,আগের কাজগুলো আরও জোরদার করা হবে। আর ঢাকার চারটি হাসপাতালে ২০টি করে মোট ৮০টি আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























