নিজস্ব প্রতিবেদক
পাটকাঠির ছাই থেকে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা
ফাইল ছবি
একসময় পাটখড়ি শুধু গরিবের জ্বালানি আর ঘরের বেড়া দেওয়ার কাজে লাগত। সেই পাটকাঠি এবার নিয়ে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। এ বছর প্রতি কেজি পাটকাঠির ছাই রপ্তানি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়।
দেশের পাটকাঠি থেকে তৈরি কার্বন পাউডার রপ্তানি হচ্ছে চীনসহ বিভিন্ন দেশে। এরইমধ্যে সারাদেশে পাটকাঠি থেকে কার্বন তৈরির বেশ কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে। যার একটি রয়েছে পাবনার বেড়ায়।
এদিকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পাঠকাঠির ছাই। এটি ‘চারকোল’ নামেও পরিচিত। ২০১২ সাল থেকে পণ্যটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রপ্তানি করা হচ্ছে।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো রপ্তানিতে ধস নেমেছে বাংলাদেশেরও। তবে আশার কথা হচ্ছে এই পরিস্থিতিতে পাটকাঠি থেকে তৈরি ছাই বিক্রি করে মোটা টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবি’র তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই সময়ে ছাই রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ১ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার। টাকার অঙ্কে প্রায় ১২৯ কোটি টাকা এবং ছাই রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৪.৫৩ শতাংশ।
চাহিদা থাকায় ব্যতিক্রমী এ পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে প্রতি বছর । এক সময় শুধু চীনকেন্দ্রিক রফতানির বাজার থাকলেও এখন এ ছাই বা চারকোল যাচ্ছে কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও কোরিয়াসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে। সে কারণে বাড়ছে ছাই উৎপাদনের কারখানাও। সারাদেশে প্রায় ৩০টি চারকোল কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা মালিক ও রপ্তানিকারকদের একটি সংগঠনও গড়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফ্যাকচারস অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিসিএমইএ) দেওয়া তথ্য বলছে, গত অর্থবছর (২০১৯-২০) চারকোল রপ্তানি হয়েছে ৪১৮২ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন। প্রতি টনের মূল্য প্রায় ৭০০ ডলার।
বিসিসিএমইএ’র সভাপতি মির্জা জিল্লুর রহমান জানান, বর্তমানে এ খাতটি প্রচুর সম্ভাবনাময়। আমাদের দেশে ৩০ লাখ টনের বেশি পাটকাঠি উৎপাদন হয়। এর কিছু অংশ পার্টিকেল বোর্ড তৈরিতে ব্যবহার হয়। বাকিটা এ খাতে কাজে লাগানো গেলে বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। ২০১৫ সালে যশোরে প্যানাসিয়া কার্বন লিমিটেড নামে চারকোল উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলেন এ কে আজাদ। পরের বছরই তিনি শুরু করেন রপ্তানি। গত বছর তার প্রতিষ্ঠান থেকে রপ্তানি হয়েছে ৫ লাখ ডলারের চারকোল।
আজাদ আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ নীতি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে প্যানাসিয়া কার্বনের রপ্তানি কয়েক বছরের মধ্যে ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছাবে। এখন এ প্রতিষ্ঠানে ৩২ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, পরে তা চারগুণ হবে।
পাটকাঠিকে ৪৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিশেষ চুল্লির মাধ্যমে পুড়িয়ে প্রাথমিকভাবে কয়লা তৈরি করে বিশেষ ক্রাশার মেশিনের মাধ্যমে ক্রাশিং করে চারকোল তৈরি করা হয়। এর প্রধান উপাদান কার্বন যার চাহিদা ব্যাপক। সাধারণত এক মণ চারকোল উৎপাদনে গড়ে খরচ হয় ৩০-৩৫ টাকা অথচ বিক্রি করা যায় ৭৫-৯০ টাকায়। তুষকেও মেশিনের সাহায্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চারকোলে পরিণত করা হয়।
জানা গেছে, পাটকাঠির কয়লা থেকে বিদেশে কার্বন পেপার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারের কালি, আতশবাজি এবং ফেসওয়াশের উপকরণ, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি, প্রসাধন সামগ্রী, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি হয়। দেশেও এ কয়লা থেকে পণ্য উৎপাদনের সীমিত আকারে কাজ হচ্ছে।
এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছ থেকে ছাই উৎপাদন ও রপ্তানিবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এ নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে রপ্তানির পথ আরো সুগম হবে। এছাড়া নানা সহায়তা পাবেন উদ্যোক্তারা।
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























